অসাম্প্রদায়িক ও উদারনৈতিক চেতনার চর্চাকে উৎসাহিত করতে হবে || জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী পরামর্শ সভায় বক্তারা

আপডেট: ডিসেম্বর ২২, ২০১৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



‘ সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা বন্ধে নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক পরামর্শ সভায় বক্তারা বলেছেন বাঙালি জাতির ঐতিহ্য অসাম্প্রদায়িক ও উদারনৈতিক চেতনার চর্চাকে উৎসাহিত করতে নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও সংহত করতে হবেÑ এ ক্ষেত্রেও নাগরিক সমাজের ভূমিকা অপরিসীম।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর একটি মাস্টার শেফ সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার উদ্যোগে এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় আয়োজিত ‘আগ্রাসী সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা বন্ধে নাগরিকদের করণীয়’ বিষয়ক পরামর্শ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, ধর্মীয় সহিংসতা বিশ্বব্যাপী অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। এর সঙ্গে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সাম্প্রদায়িকতার সমস্যা। নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সমাজ ও পরিবারের অভিভাবকদের সচেতনতা ও বিবেক বোধ জাগ্রত করে সন্ত্রাসীকর্মকা-ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রকে সাম্প্রদায়িতকতা ও সংখ্যালঘুদের নির্যাতন রোধে ভূমিকা রাখতে হবে। ধর্মজ্ঞান অর্জনের নামে জঙ্গিবাদ বা আইএস ইসলামধর্ম সমর্থন করে না।
বক্তারা বলেন, ধর্মের নামে রাজনীতি ও সহিংসতা করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক ও সমাজিকভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকেও এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মাটিতে কোন জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের ঠাঁই হবে না। জঙ্গি  ও সন্ত্রাস দমনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক দিকগুলোর উন্নয়ন দরকার। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে। পরিবারকে সচেতন ও খেয়াল রাখতে হবে তাদের সন্তান কখন কী করছে। শিক্ষার্থী বা সন্তানদের জ্ঞানের চর্চা বাড়াতে পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। পরিবারকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সন্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। গড়ে তুলতে হবে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব। এজন্য নাগরিক সামাজকে সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে।
রাজশাহী বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার পরিচালক ফয়েজুল্লাহ্ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় পরামর্শ সভার ধারণা পত্র পাঠ করেন, দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত। সভায় অতিথির বক্তব্য দেন, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, সনাক রাজশাহীর সভাপতি প্রফেসর আবদুস সালাম, সিনিয়র সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান আলম, রাজশাহী মহিলা পরিষদের সভাপতি কল্পনা রায়।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেয়, মুক্তিযোদ্ধা মিনহাজ উদ্দীন মিন্টু, রাজশাহী শহর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, রাসিক কাউন্সিলর নাজমা খাতুন, ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী, আসাউসের নির্বাহী পরিচালক রাজকুমার শাও, উন্নয়নকর্মী তাহেরা খাতুন, মুক্তিযোদ্ধা বরজাহান আলী শাহজাহান, সাংবাদিক রাশেদ রিপন, সমাজকর্মী রহিমা খাতুন প্রমুখ।
আলোচকরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের দৃষ্টান্ত। প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হবে না। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জঙ্গি ও সন্ত্রাসীমূলক কর্মকা- সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন জনবান্ধব হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে। এজন্য বিভিন্ন নির্বাচনে ভাল মানুষদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিতে হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সহিংসতা মনোভাব কমিয়ে সম্প্রীতির বন্ধন গড়তে তুলতে হবে। এছাড়া পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তৎপর হয়ে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নিধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ