অস্কার মাতানো ভালোবাসার ছয় সিনেমা!

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



সিনেমার ইতিহাসের একটি বড় অংশই হলো রোমান্টিক বা ভালোবাসার সিনেমা। গল্প, দৃশ্যায়ন ও শিল্পসম্মত উপস্থাপনা সব দিক দিয়েই দর্শকের মন কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছে হলিউডের রোমান্টিক সিনেমাগুলো। একটি ভালোবাসার সিনেমা যে কত শক্তিশালী, তা প্রমাণ করে প্রতিবছর অস্কার তালিকার বড় অংশ জুড়ে রোমান্টিক ঘরানার সিনেমার দাপট। অস্কারের সেরা ভালোবাসার সিনেমাগুলো নিয়েই সাজানো এই বিশেষ প্রতিবেদন।
কাসাব্লাঙ্কা : ১৯৪২ সালের এই ছবিটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অন্যতম সেরা রোমান্টিক সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ক্লাব মালিক রিক ব্লেইন ও তার প্রাক্তন প্রেমিকা এলসা লুন্ড’কে ফিরে পাওয়ার এক মর্মস্পর্শী গল্প নিয়ে এ ছবির পটভূমি রচিত।
বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের উদ্বাস্তুদের ভিড়ে কাসাব্লাঙ্কা শহরের ক্লাব মালিক রিক খুঁজে পায় তার প্রাক্তন প্রেমিকা এলসাকে। কিন্তু এলসা বিবাহিতা আর তার স্বামী একজন জার্মান সেনা যে নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে এসেছে। রিকের হাতে ক্ষমতা রয়েছে তার প্রাক্তন প্রেমিকা ও তার স্বামীকে নিরাপদে যুক্তরাষ্ট্রে গোপনে পাঠানোর ব্যবস্থা করার। কিন্তু তাতে করে যে আবারও সে হারিয়ে ফেলবে তার প্রিয়তম এলসাকে! এমনই এক মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্বের প্রেম নিয়ে এগিয়েছে ‘কাসাব্লাঙ্কা’র গল্প।
মিচেল কার্টিজ পরিচালিত এ সিনেমাটি ১৯৪৩ সালে ১৬ তম অস্কার আসরে আটটি বিভাগে মনোনয়ন পায় আর সেরা সিনেমা, পরিচালক ও চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কার জয় করে হামফ্রে বোগার্ট ও ইনগ্রিড বার্গম্যান অভিনীত এ সিনেমাটি।
গন উইথ দ্য উইন্ড : ১৯৩৯ সালের এই সিনেমাটিকে অন্যতম ব্যয়বহুল রোমান্টিক সিনেমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ভালোবাসা এই দু’টো বিষয়কেই আলাদাভাবে বিশেষ আঙ্গিকে তুলে ধরেছে।
জর্জিয়ার এক খামার মালিকের সুন্দরী ও চঞ্চল মেয়ে স্কারলেট ওহারার জীবন ও প্রেম নিয়ে এ ছবির গল্প। এটি সম্ভবত হলিউডের প্রথম কোনো নারী-প্রধান রোমান্টিক ঘরানার ছবি। এতে স্কারলেটের জীবনে প্রেম ও প্রেমিকদের উপাখ্যান যুদ্ধের পটভূমিতে তুলে ধরা হয়েছে।
স্কারলেটের প্রথম পছন্দ এসলে’র বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ঝোঁকের মাথায় এক সৈন্যকে বিয়ে করে বসে সে। এরপর যুদ্ধে তার স্বামী মারা গেলে স্কারলেট দ্বিতীয়বার বিয়ে করে প্রেমিক রেথ’কে। কিন্তু সে বিয়েতেও সুখী হয় না সে। স্কারলেটের মত পড়ে থাকে তার প্রথম প্রেম এসলে’র উপর। এ বিষয়টি এক সময় ধরা পড়ে যায় রেথ এর কাছে। স্কারলেটকে ছেড়ে চলে যায় সে। নিঃস্ব, অসহায় স্কারলেট আশ্রয়ের খোঁজে ফিরে আসে তার বাবার খামারে। সেখানেও সে দেখতে পায় যুদ্ধের ধ্বংসলীলা।
এ ছবিতে মূলত যুদ্ধের আবহে প্রেমের একটি অনন্য উপাখ্যানই বর্ণনা করেছেন পরিচালক ভিক্টর ফ্লেমিং। মার্গারেট মিচেল এর সাড়াজাগানো উপন্যাস ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমার স্বত্ত্ব কিনে নেয়া হয় ৫০ হাজার ডলারে! সে সময় অবধি এটিই ছিলো সবচেয়ে দামী কোনো উপন্যাস। ১৯৪০ সালে ১২তম অস্কারে সেরা ছবি সহ আটটি বিভাগে পুরস্কার জিতে রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলো এ সিনেমাটি!
ইট হ্যাপেন্ড ওয়ান নাইট : ১৯৩৪ সালে নির্মিত এ সিনেমোটি স্যামুয়েল হপকিন্স অ্যাডামসের ছোটগল্প ‘নাইট বাস’ অবলম্বনে তৈরি করা হয়। কোটিপতি বাবার আদুরে ও একরোখা মেয়ে এলি তার বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করবে না বলে বাড়ি থেকে পালিয়ে একটি নাইট বাসে চেপে বসে। সেখানে তার সঙ্গে এক দৈনিক পত্রিকার রিপোর্টার পিটার ওয়ার্সের পরিচয় হয়। এদিকে এলির বাবা পত্রিকায় মেয়ের নিঁখোজ সংবাদ ছেপে বিজ্ঞপ্তি দিলে পরদিন নজরে আসে পিটারের। মূলত বিপুল অঙ্কের অর্থের লোভে এলিকে তার বাবার হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পিটার। তাই এলিকে বুঝতে না দিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করতে শুরু করে সে আর গোপনে যোগাযোগ করে এলির বাবার সঙ্গে। কিন্তু এক পর্যায়ে সত্যিই এলির প্র্রেমে পড়ে যায় পিটার। এখন সে কি করবে পিটার? প্রেম নাকি অর্থ- কোনটাকে গুরুত্ব দেবে সে?
এমনই এক গল্প নিয়ে ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রা’র রোমান্টিক-কমেডি সিনেমা ‘ইট হ্যাপেন্ড ওয়ান নাইট’। ১৯৩৫ সালে প্রায় পাঁচটি বিভাগে অস্কার পুরস্কার ঘরে তোলে এ ছবিটি।
শেক্সপিয়ার ইন লাভ : ১৯৯৮ সালের সাড়া জাগানো রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘শেক্সপিয়ার ইন লাভ’ এর মাধ্যমে পরিচালকের কল্পনার চোখে নতুন রূপে পর্দায় হাজির হন মধ্যযুগের কিংবদন্তি নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ার! গল্পের পটভূমি ১৫৯৩ সালের লন্ডন। যেখানে ‘রোজ থিয়েটার’ চালান উইলিয়াম শেক্সপিয়ার। ‘রোমিও এন্ড এথেল: আ পাইরেটস ডটার’ নামের একটি নাটক লেখার সময় রাইটার্স ব্লকে ভুগতে থাকেন তিনি। পাশাপাশি নাটকের জন্য অডিশানও নিতে থাকেন শেক্সপিয়ার। থমাস কেন্ট নামে একজনকে তার পছন্দ হয়ে যায় মূল চরিত্রের জন্য। কিন্তু থমাস আসলে ছদ্মবেশে থাকা ভায়োলা নামের এক নারী! সে সময় মঞ্চে মেয়েদের অভিনয় নিষিদ্ধ বিধায় এ ছদ্মবেশ ধারণ করে ভায়োলা।
এক সময় শেক্সপিয়ারের কাছে ধরা পড়ে যায় ভায়োলা। তার প্রেমেও পড়েন শেক্সপিয়ার। রাইটার্স ব্লক ভেঙে লিখতে শুরু করেন তিনি। ‘রোমিও অ্যান্ড ইথেল’ হয়ে যায় ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’! কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি ভায়োলা’র সঙ্গে মিল হয় শেক্সপিয়ারের? জানতে হলে দেথতে হবে পুরো ছবিটি! জন ম্যাডেন পরিচালিত এ সিনেমাটি ৭১তম অস্কার আসরে সাতটি পুরস্কার জিতে নেয়!
টাইটানিক : ১৯৯৭ সালের সাড়াজাগানো সিনেমা ‘টাইটানিক’ এর নাম কে না শুনেছে? লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও কেইট উইন্সলেট অভিনীত এ সিনেমাটিকে সর্বকালের সেরা প্রেমের ছবি হিসেবে অনেকেই অবহিত করা হয়ে থাকে। আরএমএস টাইটানিক নামের একটি জাহাজডুবির ঘটনার পটভূমিতে অনবদ্য প্রেমের সিনেমা ‘টাইটানিক’। জ্যাক নামের এক জাহাজ কর্মীর সঙ্গে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর বাগদত্তা রোজ-এর অসম প্রেমের উপাখ্যান নিয়ে এই সিনেমার পটভূমি। জাহাজের আনাচে-কানাচে জ্যাক-রোজের লুকানো প্রেম ও দুর্দান্ত কিছু রোমান্টিক দৃশ্যের জন্য আজও দর্শক মহলে সমাদৃত এ সিনেমটি। জাহাজডুবির সময় জ্যাক ও রোজের বিচ্ছেদের করুণ দৃশ্য হলিউডের অন্যতম সেরা সিনেমার একটিতে পরিণত করেছে ‘টাইটানিক’কে।
জেমস ক্যামেরনের পরিচালনায় ১২ বিভাগে মনোনয়ন ও ১০ বিভাগে অস্কার জিতে নিয়ে বিশ্বসেরা রোমান্টিক সিনেমাটির খাতায় নাম লিখিয়েছে এ সিনেমাটি। শুধু তাই নয় বক্স অফিস সাফল্যেও ‘টাইটানিক’ এ যাবৎ কালের অন্যতম শীর্ষ আয়ের সিনেমা হিসেবে স্বীকৃত।
লা লা ল্যান্ড : দীর্ঘদিন পর আবার কোনো রোমান্টিক ঘরানার সিনেমা আশা জাগালো অস্কারের! ৮৯ অস্কারের প্রায় আটটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে এগিয়ে আছে ডেমিয়েন শ্যাজেল-এর রোমান্টিক-মিউজিক্যাল ‘লা লা ল্যান্ড’। এরই মধ্যে গোল্ডেন গ্লোবস, বাফটা সহ অনেকগুলো নামী-দামী পুরস্কার জিতে নিয়েছে ২০১৬ সালের সাড়াজাগানো সিনেমা ‘লা লা ল্যান্ড’। এমা স্টোন ও রায়ান গজলিং অভিনীত এ সিনেমাটির গল্প রচিত হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলস এর তরুণ-তরুণী সেবাস্টিয়ান ওয়াইল্ডার ও মিয়া ডোল্যানকে ঘিরে। স্বপ্নবাজ এই দুই তরুণ-তরুণীর কাছে আসার গল্প, প্রেম, বিচ্ছেদ ও স্বপ্নভঙ্গের কঠোর বাস্তবতাকে ঘিরে এগিয়েছে এ সিনেমাটির গল্প। রোমান্টিক সিনেমাপ্রেমীদের কাছে নি:সন্দেহে অনেক দিন পর ভালোলাগার মতো একটি সিনেমা হবে ‘লা লা ল্যান্ড’।-বিডিনিউজ