অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ হোক ওষুধ প্রশাসনের শাক্তিশালী ভূমিকা সময়ের দাবি

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২২, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এখন মানব স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ও চিন্তার বিষয়। এখন খাবারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রতিনিয়তই অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে। অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে জীবাণু শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এতে ঝুঁকিতে মানবস্বাস্থ্য। যা নিয়ে গবেষকরা সর্তক করলেও অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারে দৃশ্যমান কার্যকর কোন কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না।
গবেষণায় দেখা গেছে যায়, দেশে শ্বাসতন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ, মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ, ত্বকের সংক্রমণ, কানের রোগ, টাইফয়েড, কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়াজনিত রোগ, যক্ষ্মা, গনোরিয়া, সিফিলিসের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়েছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা, ওষুধ প্রশাসন, আইসিডিডিআরবি, গ্লোবাল অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স ও দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ ডিনামিক্স, ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিসির দেয়া যৌথ প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছিল। করোনাকালীন সময়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাকালীন সময়েও এমন শঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরেছিলেন ডাক্তাররা।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত অনেক শিশুর মধ্যে রোগজীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। এ কারণে অনেক শিশু মারাও যাচ্ছে। আইসিডিডিআরবি ও ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটাল (এমজিএইচ) পরিচালিত একটি গবেষণা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
দীর্ঘকাল ধরে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। অবশ্য সারা পৃথিবীই এ সমস্যায় ভুগছে। বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এ সমস্যা ইতোমধ্যে শেকড়ে বসেছে। অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার সম্পর্কে এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে করোনা মহামারীর চেয়েও ভয়াবহ বিপদে মুখে পড়তে হতে পারে মানবজাতিকে।
ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার বড় একটি কারণ হচ্ছে এর যথেচ্ছ ব্যবহার। একশ্রেণির রোগী বা রোগীর স্বজন, কোনো কোনো ওষুধ বিক্রেতার বিরুদ্ধে খেয়াল খুশিমতো অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ বিপজ্জনক প্রবণতা কঠোরভাবে বন্ধ করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক যেন বিক্রি করা না হয় সেটা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জোরদার মনিটরিং চালাতে হবে। যারা ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
যেসব রোগের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার জরুরি সেসব ক্ষেত্রে যেন নিয়ম ও মাত্রা মেনে ওষুধ গ্রহণ করা হয় সে সম্পর্কে সচেতনা গড়ে তুলতে হবে। চিকিৎসকরা বলছেন, অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের নিয়ম যথার্থভাবে না মানা হলে সংশ্লিষ্ট রোগীর শরীরে কোনো কোন অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। কাজেই অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করা যেমন জরুরি, এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও তেমন গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া অনেক সময় প্রাণী খাদ্যে মাত্রাতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। যেটা এক পর্যায়ে মানব শরীরে প্রবেশ করছে। যেটা মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি রাখতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ