অ্যালকোহল পানে মৃত্যু || বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক

আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

রেক্টিফাইড স্পিরিট ( অ্যালকোহল) পান করে পবা উপজেলার গ্রামে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। অপর একব্যক্তি এর প্রভাবে অন্ধ হয়ে গেছেন। দৈনিক সোনার দেশে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।  ঘটনাটি নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক ও অনাকাক্সিক্ষত। মৃত ও অন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য বিষয়টি গভীর শোকের ও অপূরণীয় ক্ষতির হলেও তাদের এমন মৃত্যুতে শোক প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও ভয়-আতঙ্কের মধ্যে পড়তে হয়। এমন অপমৃত্যু পরিবার অন্য যে কোনো কারণেই হোক প্রকাশ করতে চায় নি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটি উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের সবসার গ্রামের। ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় লুৎফর, নুরুন্নবী ও রাজা মিয়া নেশা করার উদ্দেশ্যে একসাথে রেক্িটফায়েড স্পিরিট পান করেন এবং তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৪ এপ্রিল ভোরে লুৎফর ও নুরুন্নবী মারা যান। রাজামিয়া প্রাণে বাঁচলেও অন্ধ হয়ে যান। ৯ এপ্রিল রাজামিয়া হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়। আইনি জটিলতার কথা ভেবে পরিবারের সদস্যরা মৃতদের ঘটনা সম্পূর্ণ গোপন করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে রহস্যের সৃষ্টি হয়।
রেক্টিফায়েড স্পিরিট সাধারণের মাঝে বিক্রির বৈধতা নাই। তদুপরি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এর বেচাবিক্রি বহাল আছে। অ্যালকোহল পানে মৃত্যুর ঘটনা নতুন কিছু নয়Ñ মাঝেমধ্যেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়। কিন্তু অ্যালকোহল নেশাদ্রব্য হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কথা তেমন জানা যায় না। অথচ এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অ্যালকোহল ঠিকই বিক্রি করে যাচ্ছে। রাজশাহী মহানগরীসহ সর্বত্রই একশ্রেণির ফার্মেসি মালিক ও হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত হওয়ার খবর এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অথচ এই বিক্রেতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
রেক্টিফায়েড স্পিরিটের বেচা-বিক্রি ও সংরক্ষণের ওপর পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি থাকা দরকার। যারা বৈধ লাইসেন্সে ব্যবহার করে অবৈধ বেচাবিক্রির সাথে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা দরকার। একই সাথে যারা এই এসব অন্যায় কাজে লিপ্ত আছে তাদের ড্রাগস লাইসেন্স বাতিল করা যেতে পারে। অবৈধ পন্থায় অ্যালকোহল বিািক্র বন্ধে পুলিশ ও ওষুধ প্রশানের পক্ষ থেকে বিশেষ তৎপরতা প্রত্যাশা করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ