অ্যালিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাসী বিখ্যাত ৪ মহাকাশচারী

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



পৃথিবীর বাইরের অন্যান্য গ্রহের অর্থাৎ ভিন গ্রহের প্রাণীদের বলা হয়ে থাকে, অ্যালিয়েন। অ্যালিয়েনের অস্তিত্ব আসলেই রয়েছে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
অনেকেই মনে করেন এটা একটা তাত্ত্বিক প্রচারণা মাত্র। কিন্তু মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশচারীদের একটি ছোট অংশ বারবার দাবী করে এসেছে, অ্যালিয়েনদের পৃথিবীতে বিচরণ ও উপস্থিতির।
বিশেষ করে অ্যালিয়েনের অস্তিত্ব রয়েছে বলে স্পষ্ট দাবীর কারণে ৪ জন মহাকাশচারী তো খুবই বিখ্যাত। তাদের বক্তব্য ফেলে দেবার মতো নয়। এ প্রতিবেদনে চার বিখ্যত মহাকাশচারীর তথ্য তুলে ধরা হলো, যারা অ্যালিয়েনদের অস্তিত্বে পুরোপুরি বিশ্বাসী।
এডগার মিচেল : এডগার মিচেল চাঁদে অবতরণকারী ষষ্ঠ ব্যক্তি, যিনি ১৯৭১ সালে নাসার অ্যাপোলো ১৪ মিশনের সদস্য হিসেবে চাঁদে যান। চাঁদের পৃষ্ঠে তিনি ৯ ঘণ্টা সময় কাটান। কিন্তু চাঁদ থেকে ফেরার পথে তিনি এমন কিছু আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার শিকার হন যার ফলশ্রুতিতে তার বাকি জীবন অ্যালিয়েনদের অস্তিত্বের দাবী করে পার করেন।
তিনি দাবি করেন, পূর্বের কোনো এক  বিধ্বংসী পারমানবিক যুদ্ধে অ্যালিয়েনরা মানব সভ্যতাকে রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, ‘পুরো ভ্যাটিকান সিটি অ্যালিয়েনের আধ্যাত্মিক শক্তিতে আচ্ছাদিত, যা তারা বরাবর গোপন করে আসছে।’
মিশেল বলেন, ‘অ্যালিয়েনরা প্রায়ই নানা আলামত দেখায় যেগুলো আমাদের পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার ইঙ্গিত দেয়।’
এই মহাকাশচারী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন মার্কিন সরকার এটা নিয়ে পুরোপুরি অবগত এবং নিউ মেক্সিকোর কাছে যে ফ্লাইং অবজেক্টটি ভূপাতিত হয়েছিল সেটা ধামচাপা দেবার জন্য রোজওয়েল কেলেংকারি ঘটায় সরকার। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মার্কিন সরকার কখনো চায়নি এসব সোভিয়েত সরকারের কানে যাক।’
২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৮৫ বছর বয়সে মিচেল মৃত্যুবরণ করেন। সেদিন ছিল তার ৪৫তম চাঁদে অবতরণ বার্ষিকী।
গরডন কুপার : গরডন কুপার সপ্তম মহাকাশচারী যিনি নাসার মনুষ্যবাহী মহাকাশ মিশনের জন্য নির্বাচিত হন। ‘প্রজেক্ট মার্কারি’ নামক এই মিশন ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয় এবং এই মিশনের মাধ্যমেই কক্ষপথে প্রথম মানুষ হিসেবে অবস্থান করেন কুপার। তার সফরসঙ্গী ‘স্পাম ইন এ ক্যান’ নামক মহাকাশযানটি ছিল সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং বাইরে থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কুপার দাবি করেন, তিনি ১৯৫১ সালে জার্মানিতে আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট বা ইউএফও (অজ্ঞাত পরিচয় উড়ন্ত বস্তু, যা অ্যালিয়েন যান হিসেবেই পরিচিত) এর দেখা পেয়েছিলেন। নাসায় থাকাকালীন একটি মার্কিন এয়ারবাসে বসে তিনি সেটার উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। ১৯৮৪ সালে ইউএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি তারা (অ্যালিয়েন) তাদের নিজস্ব যানে অন্য গ্রহ থেকে এসে আমাদের গ্রহ পরিদর্শন করে এবং বলাবাহুল্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে তারা আমাদের চেয়ে অধিক উন্নত। প্রথমতো তাদেরকে আমাদের দেখাতে হবে যে, যুদ্ধ ব্যতীত কিভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করা যায় এবং তাদের প্রতিহত করার আগে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে আমরা সার্বজনীনভাবে একতাবদ্ধ।’
গর্ডন কুপার ৭৭ বছর বয়সে পারকিন রোগে বেশিমাত্রায় ভুগতে থাকেন এবং ২০০৪ সালের অক্টোবরের ৪ তারিখে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
ডোনাল্ড কেল্ট স্লাইটন : নাসার ‘প্রজেক্ট মার্কারি’ মিশনের অন্যতম একজন হচ্ছেন, ডোনাল্ড কেল্ট স্লাইটন। মার্কারি মিশনের জন্য নির্বাচিত হলেও পরে অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের জন্য বাদ পড়ে যান স্লাইটন। পরে তিনি নাসার ফ্লাইট ক্রু অপারেশন্স এর পরিচালকের দায়িত্ব পান।
স্লাইটন দাবি করেন, তিনি ইউএফও’র দেখা পেয়েছিলেন ১৯৫১ সালের দিকে। তার বর্ণনায় এটা দেখতে পিরিচের ন্যায় এবং যেটা ৪৫ ডিগ্রি কোণে উড়তে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত তখন আমার কাছে কোনো ক্যামেরা না থাকার ফলে আমি সেটার ছবি তুলতে পারিনি।’
স্লাইটন ১৯৯২ সালে ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হন এবং ১৩ জুন, ১৯৯৩ সালে ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
ব্রায়ান ও’লেরি : ১৯৬৭ সালে নাসার মঙ্গল গ্রহে মিশনের জন্য নির্বাচিতদের মধ্যে একজন হচ্ছেন, ব্রায়ান ও’লেরি। তবে মিশনটি এক বছর পরেই বাতিল হয়ে যায়। নাসা ত্যাগের পর তিনি প্রিন্সটপ বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্দাথবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। কাছাকাছি একটি মৃত্যু অভিজ্ঞতা তার জীবন পাল্টে দেয়, তিনি বিশ্বাস করতে থাকেন ভিনগ্রহের প্রাণীদের অস্তিত্বের ওপর।
তিনি দাবি করেন, ভিনগ্রহীরা পৃথিবীতে আসা-যাওয়া করছে এমন প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। লেরির মতে, ‘অনেক আগে থেকেই পৃথিবীর বাইরের কোনো এক সভ্যতা আমাদের প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে এবং তাদের চেহারা উদ্ভট প্রকৃতির।’ লেরি অন্ত্রের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল