আইএইচটিতে সিটবাণিজ্য : ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ছয়জন বহিষ্কার

আপডেট: জুলাই ৫, ২০২৪, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সিট-বাণিজ্য ও এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগে রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি ছাত্রলীগের শাখা সভাপতিসহ ছয় ছাত্রলীগ কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। এসময় তাদের সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং হোস্টেলে অবস্থানের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নোটিশ আকারে বিষয়টি প্রকাশ করেছে আইএইচটি কর্তৃপক্ষ।

শাস্তিপ্রাপ্তরা হলেন- আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হলেন আল আমিন হোসেন (ডেন্টাল অনুষদ ২০১৯-২০), মাসুদ পারভেজ (ডেন্টাল বি গ্যালারী ২০২৩-২৪), ফারহান হোসেন (ডেন্টাল বি গ্যালারী ২০২৩-২৪), শাহরিয়ার নাফিজ (ল্যাব এ গ্যালারী ২০২৩-২৪), পারভেজ মোশাররফ (ল্যাব এ গ্যালারী ২০২৩-২৪) ও নিলয় কুমার (রেডিওলজি এ গ্যালারী ২০২৩-২৪)। এদের মধ্যে আল আমিন হোসেনকে এক বছরের জন্য ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

এছাড়াও একই শিক্ষাবর্ষের (ফার্মেসী) সিফাতকে তিরস্কার ও ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে। আর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী (ফার্মেসী) হাসানকে প্রশাসনকে না জানিয়ে অন্য (ছাত্রলীগ সভাপতি) ব্যক্তির সাথে টাকা লেনদেনের জন্য তিরস্কারের পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে।

শাস্তির নোটিশে জানানো হয়, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আল আমিন হোসেন (ছাত্রলীগের সভাপতি) প্রথম বর্ষের ছাত্র হাসানের কাছ থেকে হোস্টেলের সিট দেওয়ার নামে অর্থগ্রহণ করেন। অপর পাঁচ শিক্ষার্থী (ছাত্রলীগ সভাপতির কর্মী) হাসানকে মারধর করেন। এই মর্মে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে গত ৬ জুন একাডেমিক সভায় শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আদেশ কার্যকর হবে ১ জুলাই। তবে নোটিশটি গত ১২ জুন স্বাক্ষর করেছেন অধ্যক্ষ।

ছাত্রলীগ সভাপতি আল আমিন বলেন, ক্যাম্পাস ছুটির কিছুক্ষণ আগে এটি প্রকাশ হলে তিনি জানতে পারেন। তিনি এখনও ক্যাম্পাসে ও হোস্টেলে অবস্থান করছেন। তারা শাস্তির কোনো চিঠি পাননি। ওই বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছিল তখনই। বিভিন্ন সময়ে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেছেন। এই ক্ষোভ থেকেই তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তারা আগামী রোববার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানান ছাত্রলীগ নেতা।

আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. ফারহানা হক বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। সেই কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে একাডেমিক কাউন্সিল সভায় শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই শাস্তিপ্রাপ্তরা ক্যাম্পাসে থাকতে পারবেন না।

নোটিশ প্রকাশে বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা কয়েক দিন ধরে বেশকিছু কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ কারণে নোটিশটি প্রকাশ করতে পারেন নি।
এর আগে, গত ২৯ এপ্রিল আইএইচটির ফার্মেসি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হাসানকে মারধর করা হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গত ১ মে থেকে আইএইচটি ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

অভিযোগ ছিল- হাসান নামের ওই শিক্ষার্থী হোস্টেলের সিটের জন্য আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিনকে ১৬ হাজার টাকা দেন। এরপরেও তিনি হোস্টেলে সিটের ব্যবস্থা করেননি। ঘটনার দুই দিন আগে তিনি সভাপতির কাছে টাকা ফেরত চান। টাকা না দিয়ে সভাপতি তাকে উল্টো হুমকি দেন। সবশেষ গত ২৯ এপ্রিল হাসান প্রথম গ্যালারিতে ক্লাস করছিলেন। ক্লাস শেষে হলে পাঁচ-সাতজন ছেলে এসে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পেটায়। হাসানের মতো আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সেসময় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ