আইজিপির কাছে ব্যাখ্যা তলব হাইকোর্টের

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



বিচারপ্রার্থী এক সিএনজি অটোরিকশাচালককে আসামি করার বিষয়ে আদালতের আদেশ অনুযায়ী প্রতিবেদন না দেওয়ায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছেন হাইকোর্ট।
আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা  দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নূর মোহাম্মদ আজমি।
আইজিপিকে তলবের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, চট্টগ্রামের সিএনজি অটোরিকশাচালক এজাহার মিয়ার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন ক্ষতিপূরণসহ সিএনজি ফেরত পেতে, তার পরিবারকে আইনগত সহায়তা দিতে এবং সিএনজি অটোরিকশা আত্মসাতের সঙ্গে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত গত ২২ জুন আইজিপিকে আদেশ দেন যে, একজন যোগ্যতাসম্পন্ন পুলিশ কর্মকর্তা দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না দিয়ে আজ সোমবার পুলিশের পক্ষে তিন মাস সময় চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদনে বলা হয়, এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা দেশের বাইরে থাকায় তাদের জবানবন্দি নিতে সময় প্রয়োজন।
মোতাহার হোসেন সাজু  বলেন, সময় আবেদন আদালতের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় আইজিপিকে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিএনজি অটোরিকশাচালক মৃত্যুবরণ করায় তার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন হাইকোর্টে এ আবেদন করেন বলে জানান  তিনি।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের বার কোয়ার্টার থেকে ২০০৯ সালের ৮ জানুয়ারি এজাহার মিয়া নামে এক চালকের সিএনজি অটোরিকশা (চট্টমেট্রো থ-১১-৬৮৫১) হারিয়ে যায়। ওই দিনই তিনি তার সিএনজি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে পাহাড়তলি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর তিনি বিআরটিএর মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তারই সিএনজি অটোরিকশা ভুয়া নাম্বার প্লেটসহ (চট্টমেট্রো-থ ১১-২৯৫৭) উদ্ধার করেছে ট্রাফিক পুলিশ। ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি তার অটোরিকশা ফেরত পাওয়ার জন্য পাহাড়তলি থানায় আবার একটি আবেদন করেন।
পরে উদ্ধারকৃত সিএনজির মালিকের নাম-ঠিকানা খুঁজে বের করার জন্য ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে পাহাড়তলি থানার ওসিকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সিএনজিটি এজাহার মিয়ার বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পরে সিএনজিটির বডি পরীক্ষার জন্য বিআরটিএর কাছে পাঠানো হয়। সিএনজিটি এজাহার মিয়ার বলে প্রতিবেদন দেয় বিআরটিএ। এরপর এজাহার মিয়াকে হাজির হতে পুলিশ একটি চিঠি পাঠায়। কিন্তু এজাহার মিয়া হাজির হয়নি মর্মে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ এবং তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট ফিরোজ কবির একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি আটক হয়ে কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন। কারামুক্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরে ফিরোজ কবির পুলিশের আইজি বারবর একটি চিঠি দেন যে, এজাহার মিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি ভুয়া। ওই চিঠিতে তিনি বলেন, দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে বলে এজাহার মিয়া পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন। ওই আবেদন করায় পুলিশের ডিসি কুসুম দেওয়ান ও ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম এবং সার্জেন্ট মামুন তাকে এজাহার মিয়ার বিরুদ্ধে খুলশি থানায় মামলা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। মামলা না করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুমকি দেন। এরপর তিনি এজাহার মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। – রাইজিংবিডি