আইডি হ্যাক ভাতা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকচক্র

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চাই

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার টাকা মোবাইল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগির হিসাবে পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। এই ভাতার ৭৫ শতাংশ টাকা বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে সরকারের এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। মধ্যস্বত্বভোগীদের উৎপাত থেকে উপকারভোগীরা রেহাই পেতে এবং অনিয়ম-দুর্নীতি কমতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে করে মোবাইল ব্যাংকিঙের মাধ্যমে ভাতা দেয়ার ফলে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু এই সার্ভিসকে কেন্দ্র করে একটি প্রতারকচক্রও গড়ে উঠেছে। সহজ-সরল অনেক উপকারভোগি এই প্রতারকদের খপ্পরে পড়ছেন। সংবাদ মাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, প্রায়ই প্রতারকচক্র নানা কৌশলে উপকারভোগিদের টাকা আত্মসাৎ করে নেয়।

এমনই এক ঘটনার খবর দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। নওগাঁর পত্নীতলায় প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগিদের সরকারি টাকা আইডি হ্যাক করে লুটে নিচ্ছে প্রতারকচক্র। এ বিষয়ে ভাতাভোগি ও তাদের আত্মীয়রা প্রতিদিনই উপজেলা সমাজসেবা অফিসে অভিযোগ নিয়ে ভীড় করছেন। পরে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী ও আত্মীয়রা হা-হুতাশ করছেন, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। কিন্তু প্রতিকার পাচ্ছেন না। সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক বহুলভাবে প্রচারিত সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে যে, ‘কোনো ওপিটি কোড কাউকে ফোনে বলবেন না। কেননা, সমাজসেবা অফিস বা অধিদপ্তর থেকে কখনো কেউ ফোন করে কারো ব্যক্তিগত ওপিটি কোড বা পিন নম্বর চান না।’ তদুপরি সহজ-সরল উপকারভোগিরা প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ওপিটি কোড বা পিন নম্বর জানিয়ে দিচ্ছেন। প্রতারকচক্র ভাতাভোগিকে লোভ দেখাচ্ছে যে, ‘আগামী মাস হতে আরও পাঁচশো টাকা বেশি ভাতা পাবেন। তাই অনলাইন হালনাগাদ চলছে। এ জন্য আপনার মোবাইল নম্বরে ওপিটি কোড পাঠানো হবে। এতে হালনাগাদ হয়ে যাবে।’ একথা শুনে প্রতারকচক্রের লোভনীয় খপ্পরে পড়ে এসএমএস পাঠালে কোড নম্বর বলে দেয়। পরে নগদ মোবাইল ব্যাংকিঙের দোকানে উল্লিখিত টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে ভাতাভোগি জানতে পারেন ভাতার টাকা তার হিসাব থেকে তুলে নেয়া হয়েছে।

সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে, ভাতাভোগিরা নিরাপদে সুরক্ষার সাথে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেনÑ সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটছে। বলার অপেক্ষা রাখে না সামাজিক নিরাপত্তা ভাতায় প্রকৃতঅর্থেই ভাতাভোগিরা অনেকটাই নির্ভরশীল। নির্ভরতার ভাতা যখন প্রতারকরা নিয়ে যায় তখন ভাতাগোগির হৃদয় ভেঙ্গে চৌচির হবে সেটাই স্বাভাবিক। ভাতাভোগিদেরকে ডিজিটাল প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রচারিত সতর্ক বার্তা ভাতাভোগিদের সচেতনতায় যথেষ্ট নয়- তা প্রতারকচক্রের খপ্পরে পড়ার ঘটনাই তার প্রমাণ। স্থানীয়ভাবে প্রতারকদের সম্পর্কে কোন উপায়ে সচেতন করা যায় সে ব্যাপারে ভাবতে হবে, উদ্যোগ নিতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো ভাতাভোগি যাতে কাউকে পিন নাম্বার না দেন সে বিষয়ে সচেতন করা দরকার। দুস্থ- অসহায় ভাতাভোগির টাকা প্রতারণা করে যারা তুলে নিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ