আইনপেশার ছদ্মবেশে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত শিশির মনির

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২২, ১:৪৩ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবিতে সমগ্র বাংলাদেশ যখন একদিকে লড়ে যাচ্ছিল, অন্যদিকে ঘৃণ্য অপরাধীদের বাঁচাতে মরিয়া ছিল কতিপয় আইনজীবী। আর তাদেরই একজন শিশির মনির।

জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের ২০০৯ সালের কেন্দ্রীয় কমিটির এই সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালের জানুয়ারি শিবিরের তৎকালীন বিদায়ী সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক শিশির মনির কমিটির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওঠায় তাদের অপসারণ করা হয়।

ওই সময়ের সাধারণ সম্পাদক শিশির মুহাম্মদ মনির সম্ভাব্য সভাপতি হলেও তাকে বাদ দেওয়া হয়। পরে শিশিরকে শান্ত করতে লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তে পাঠানো হয়।
২০১২ সালে দেশে ফিরে তিনি সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেন। বর্তমানে শিশির জামায়াতের ল উইংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।

দেশের ব্যাংকিং সেক্টর ও আর্থিক খাত নিয়ে যে ষড়যন্ত্র চলছে তার অন্যতম কুশীলবের ভূমিকায় রয়েছেন এই শিশির মনির।
তরুণ প্রজন্মের কাছে নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে যুদ্ধপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইবুনাল গঠন করে আওয়ামী লীগ সরকার।

শুধুমাত্র আইনি সাহায্যই নয়, দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে নানা বিতর্কিত ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন শিশির মনির। এভাবে দেশে বসেই বিচার কাজকে বিতর্কিত করতে বিদেশে তার নেটওয়ার্ক কাজে লাগান শিশির। আর্ন্তজাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালান তিনি।

জামায়াতের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত এই শিশির মনির যুদ্ধপরাধের দায়ে দণ্ডিত অপরাধীদের পরিবারের সঙ্গে সবসময় সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ২০১৫ সালে সোনারগাঁও হোটেলে জামায়াতের এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। আর তার টেবিলে ছিল যুদ্ধাপরাধে  দণ্ডিত  দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম বিন সাঈদী, মৃত্যুণ্ডে দণ্ডিত এম কামারুজ্জামানের ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামী ও হাসান ইমাম, মৃত্যুণ্ডে দণ্ডিত আবদুল কাদের মোল্লার ছেলে হাসান জামীল এবং যুদ্ধাপরাধের মামলার আসামি পক্ষের আরেক আইনজীবী তাজুল ইসলাম।

তবে অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির শিশির মনির সবসময় গণমাধ্যমে আলোচনায় আসার চেষ্টার অংশ হিসেবে নানা সময় চটকদার ও জনপ্রিয় ইস্যু সামনে এনে থাকেন।

চট্টগ্রামে মিতু হত্যা মামলার আসামি পুলিশের বহিষ্কৃত কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের পক্ষে, ছাত্র অধিকারের কতিপয় নেতা যারা ক্যাম্পাসে শিবির কর্মী হিসেবে পরিচিত তাদের পক্ষসহ এরকম অনেক মামলাই তিনি সামনে আনেন।

তার জন্ম সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে। সেখানকার সরকারি জুবেলি হাই স্কুলে পড়াশোনা শেষে তিনি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৯৯-২০০০ সেশনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ২০০৪-০৫ সেশনে দ্বিতীয় গ্রেডে মাস্টার্স শেষ করেন।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ