আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে তানোর পুলিশের নানামুখী পদক্ষেপ

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, স্থানীয় সাংসদ ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তানোর থানা পুলিশ নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
জনতাই পুলিশ, পুলিশই জনতা স্লোগানকে সামনে রেখে তানোর থানা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান, ওপেন হাউসডে, কমিউিনিটি পুলিশিং ও ডেলিভারি সার্ভিস সেন্টারসহ বিভিন্ন ধরনের যুগোপযোগী কার্যক্রম জোরদার করেছে। এছাড়াও বিপদে আপদে সাধারণ মানুষ যেকোনো সময় যেন পুলিশের সহায়তা পায় সেজন্য বিভিন্ন জনবহুল স্থানে থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) মুঠোফোন নম্বর সংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানোরের ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৯১টি পুলিশিং কমিটি ওপেন হাউসডের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় প্রতি সপ্তাহে একদিন জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ যাতে কোন অনভিপ্রেত ঘটনার সম্মুখীন না হয়, যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে ও সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘেœ বসবাস করতে পারে সেই জন্য সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তানোর থানা পুলিশ এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, তানোর থানা পুলিশের এসব কার্যক্রমের ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমে গেছে। গ্রামঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে সন্ধ্যার পরে মাদকসেবীদের কারণে রাস্তায় চলাফেরা করতে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হতো। সেখানে পুলিশের এসব কার্যক্রমের ফলে এখন মাদকসেবীদের মাতলামি চোখে পড়ে না। গৃহপালিত পশু চুরি রোধ করতে তানোরের সকল ভুটভুটি, নছিমন চালককে থানায় ডেকে রাতের আধারে কোন পরিচিত মানুষ ছাড়া গৃহপালিত পশু পরিবহন করতে নিষেধ করেছে। ফলে তানোরে গৃহপালিত পশু চুরির ঘটনা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।
অথচ আগে যেখানে মাঝে মধ্যেই গরু মহিষ চুরির ঘটনা ঘটতো এখন থেকে গরু মহিষ চুরির তেমন কোন খবর পাওয়া যায় নি। তানোরের বিভিন্ন এলাকার ভাংড়ি ব্যবসায়ী, হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল মেকারদের ক্রয়কৃত রশিদ ছাড়া কোন পুরাতন সাইকেল, টিউবয়েলের মাথা, লোহার রডসহ প্রভৃতি জিনিষপত্র কিনতে নিষেধ করা হয়েছে, নইলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সাবধান করে দিয়েছে। এখন এসব জিনিষপত্র চুরির ঘটনা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। সুদখোর ও দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান জোরদার করার ফলে, এখন এলাকায় দাদন ব্যবসায়ীদের এই অবৈধ কার্যক্রমের তেমন কোন খবর পাওয়া যায় না। অথচ কিছুদিন আগেও তানোরে দাদন ব্যবসা প্রকাশ্য জমজমাট ভাবে হতো। এদিকে পুলিশের সার্ভিস ডেলিভারি কার্যক্রম গ্রহণ করার পর থেকেই থানায় দর্শনাথীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ও সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছ থেকে তাদের কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। আগে যেখানে কোন দালাল ছাড়া মানুষ কোন পুলিশ কর্মকর্তার  সাক্ষাত পেত না, অথচ এখন থানায় আগত মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য সার্বক্ষনিক একজন ডিউটি অফিসার রয়েছেন।
তানোরের আদর্শ ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, পুলিশের নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আপামর জনসাধারণের সুবিধার জন্য পুলিশ তাদের এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর্জা আবদুস সালাম জানান, পুলিশ জনগণের বন্ধু ও পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক মনোভাব দূর ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামীতেও আমাদের এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।