আওয়ামী কর্মী নয়নাল হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান

আপডেট: মে ২৬, ২০২৪, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


আওয়ামী লীগ কর্মী নয়নাল হত্যায় জড়িতদের আটক ও বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে রাজশাহীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো আন্দোলন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২৬ মে) বেলা ১২টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগর এবং এর সহযোগী, অঙ্গ সংগঠনগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনপূর্ব বিরোধী দলের ঘোষিত অবরোধ, হরতাল ও সহিংসতা প্রতিরোধে রাজশাহীর রাজপথে সক্রিয়ভাবে যখন অবস্থান করছিল, সেই সময় গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রি. তারিখে রাজশাহীর থিম ওমর প্লাজা শপিং মলের মালিক এবং তানোর-গোদাগাড়ী আসনে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সেপটিক ট্যাংক থেকে পুলিশ উদ্ধার করে আওয়ামী কর্মী নয়নালের অর্ধগলিত মৃতদেহ।

জাতীয় শ্রমিক লীগ, রাজশাহী মহানগর শাখার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের নিবেদিত কর্মী নয়নাল হত্যার নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবীতে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নয়নালের বোন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের মৌখিক ভাষ্যমতে, ডিসেম্বরের ৮ অথবা ৯ তারিখ নয়নালের মৃত্যু ঘটে এবং ঐ সময় ওমর ফারুক চৌধুরীর রাজনৈতিক কার্যালয় এবং এর আশে পাশে সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলো । নয়নালের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিনসহ একই বিভাগের আরো ১ জন চিকিৎসক । ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয় , মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত , হয়ে পানিতে ডুবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান নয়নাল। ওমর ফারুক চৌধুরীর রাজনৈতিক কার্যালয় এবং সংলগ্ন সেপটিক ট্যাংকটি উচু প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত । যেখানে ছিল সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার পর্যবেক্ষণ এবং একাধিক নিরাপত্তারক্ষীর সতর্ক নজরদারি।

তারা আরো উল্লেখ করেন, সেপটিক ট্যাংকটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০ ফিট। চত্বরটিতে প্রবেশের একমাত্র ফটক কেবলমাত্র সাংসদের অবস্থানকালীন সময় উন্মুক্ত রাখা হতো। সাধারনের প্রবেশও নজিরবিহীন কড়াকরি । যে ম্যানহল থেকে নয়নালের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় তার উপরিভাগে ছিল মোটা রড দিয়ে তৈরী করা নেট। সেইসাথে ঐদিন ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ম্যানহল এবং তার সাথে থাকা শৌচাগারের আশেপাশে দেখা গেছে , প্রচুর পরিমানে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো , যাতে করে সন্দেহ করা স্বাভাবিক যে , মৃতদেহের দূর্গন্ধ চাপা দেয়ার জন্যই এমনটি করা হয়েছে । অস্বাভাবিক পরিমান ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে থাকা নয়নালের মৃতদেহের অবস্থান গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিলে ।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগ, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মাহাবুবুল আলম, সহ-সভাপতি আশরাফ আলী, জুহুরুল ইসলাম, আইনুল হক, শরিফুল ইসলাম, সেলিম রেজা বাইরোন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আকতার আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জীবনসাংগঠনিক সম্পাদক দেব্রত সিনাহা, শামীম উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক হাসানুজ্জামান ফিরোজ, অর্থ সম্পাদক ইসলাত জাহান।