আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব ।। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

৬৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম জাকজমক একটি সফল সম্মেলন অনুষ্ঠান করলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অষ্টমবারের মত দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রধান নির্বাচত হলেন। এবার তিনি সঙ্গে পেয়েছেন দুর্দিনে ছাত্রলীগের নেতৃত্বদানকারী ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের মহাসড়কে শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন। এই সম্মেলন অনেকগুলো দিক থেকে বেশ গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের সক্ষমতা এবং তার লক্ষ ও উদ্দেশ্যের প্রতি এশিয়ার দেশগুলোর মনোযোগ আকর্ষন করা গেছে। ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে চিন ভারত রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ৫৫ জন নেতা অংশ নেন। এসব নেতাদের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেছে। বিভিন্ন দেশের রাজনীতিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে  পার্টি টু পার্টির সম্পর্ক তৈরির বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যময়। আওয়ামী লীগ যে জনমানুষের সংগঠন বিদেশি রাজনীতিকদের বক্তব্যেই তা উঠে এসেছে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অষ্টমবারের মত দলের প্রধান নিযুক্ত হওয়ার পরই তাঁর দলের কর্মী-সর্মকদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিলেন, ২০১৯ সালে পরবর্তী জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে। এ জন্য এখন থেকেই কর্মীদের ঘরে ঘরে যেতে হবে। আওয়ামী লীগ প্রধানের এই ঘোষণার মধ্যেই দলটির জন্য আগামীর মূল চ্যালেঞ্জের নির্দেশনা রয়েছেÑ যা দলটির নতুন কমিটিকে নির্বাহ করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
চ্যালেঞ্জ সাম্প্রদায়িকতা-মৌলবাদ, চ্যালেঞ্জ দারিদ্র নিরসনে টেকসই কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং উন্নয়ন কর্মকা-ে তৃণমূল মানুষকে আরো বেশি করে সম্পৃক্ত করা। এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার সাথে সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশল গ্রহণ করা দরকার। এ জন্য সংগঠনকে আরো জনমুখি করে গড়ে তোলা।
বিভাজেনের রাজনীতি যাতে দলের মধ্যে আশ্রয়প্রশ্রয় না পায় সে ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ থাকাও বাঞ্ছনীয়।
দলের জন্য আগামী নেতৃত্ব তৈরি করাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দরকার। রাজনীতিতে নেতৃত্ব তৈরির এই প্রক্রিয়াটা বন্ধ আছে দীর্ঘকাল ধরে। সামরিক সরকার আমলে  এ নির্বাচন হলেও গণতান্ত্রিক সরকারগুলো এ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না- এটা দুঃখজনক। নিশ্চয় আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিবেন।
বিভাগওয়ারি সাংগঠনিক সম্পাদকরা বিভাগের সাংগঠনিক বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে হয় নি। তারা কেন্দ্রের ভাবনায় বেশি স্বচ্ছন্দ্যবোধ করে। বিভাগের সাংগঠনিক উৎকর্ষতার জন্য সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিজ এলাকায় বেশি সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া দরকার।
আওয়ামীলীগের প্রচার ও গবেষণা কার্যক্রম দুর্বল বলেই মনে হয়েছে। যে কারণে সরকারের অনেক ভালো কাজ ও সাফল্য ম্লান হয়েয়ে। জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছান যায়নি।  বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে।
শেখ হাসিনা নিজেকে এগিয়েছেন, বদলেছেন, বারবার নিজেই সমৃদ্ধ হয়েছেন। নেতৃত্বকে বিশ্ব পরিসরে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশ্বের নজর কেড়েছেন। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর মতোই তার প্রজ্ঞা দেখাতে পেরেছেন। এটা বাংলাদেশকে বিশ্ব নেতৃত্বকে সমীহ করতে শেখাবে। যার ইঙ্গিত আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি।
সমন্বয়, সমতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে আওয়ামীলীগ জনগণের আস্থা অর্জন করেছেÑ নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব  তা যেনো ভুলে না যায়। আওয়ামীলীগকেই সে আস্থার জায়গা সুরক্ষা করতে হবে। এটি একটি নিয়মিত কর্মসূচি। তৃণমূলই আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি। যারা দেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক চেতনাবোধে, সমন্বয়, সমতা ও সম্প্রীতিতে প্রেরণা যোগায়Ñ সেই শক্তির প্রতি পূর্ণ মর্যাদা জ্ঞাপনই আওয়মী লীগের আগামি দিনের অঙ্গীকার আরো দৃঢ় হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ