আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ।। রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচন

আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০১৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



এ বছর রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভক্তি ও হতাশা। চেয়ারম্যান পদের মনোনয়নপত্র কোনো প্রার্থী প্রত্যাহার করে না নিলে অনেক ভোটার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরেও ভোট দিবেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে চিত্র যেতে পারে পাল্টে। নেতাকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরও মাহবুব জামান ভুলু নির্বাচিত না হতেও পারেন। তবে আওয়ামী লীগ বলছে, কেন্দ্রীয়ভাবে দলের নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তার পক্ষেই নগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কাজ করবে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন তিন জন। এই তিন জনের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ১৩ জন ও সাধারণ সদস্য পদে মোট ৪০ জন সদস্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংসদীয় কমিটি থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছে নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহবুব জামান ভুলুকে। এর বাইরে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ আলী সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না।
আওয়ামী লীগের নগর ও জেলা কমিটির একাধিক নেতা নামপ্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, মাহবুব জামান ভুলু নিঃসন্দেহে আওয়ামীলীগের ত্যাগী কর্মী। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে তিনি দলের হাল ধরে ছিলেন। সে অনুযায়ী তিনিই যোগ্য প্রার্থী। অবশ্য তাঁর সমালোচকরা বলছেন, এর আগের মেয়াদে জেলা পরিষদের প্রশাসক থাকাকালীন যেভাবে কাজ করার কথা ছিলো তা তিনি করেন নি। এইজন্য অনেক নেতাকর্মী তার ওপর ক্ষিপ্ত। অনেক ভোটার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিবেন। অন্য প্রার্থীরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এই সম্ভাবনা বেশি।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১ হাজার ১৭১ জন জনপ্রতিনিধি ভোটার। এই নির্বাচনের ভোটাররা হলেন, রাজশাহীর ৭২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য, ১৪ টি পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, নয়টি উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর। নির্বাচনে ভোটররা ১ জন চেয়ারম্যান, ৫ জন সংরক্ষিত সদস্য এবং ১৫ জন সাধারণ সদস্য নির্বাচন করবেন। আগামি ২৮ ডিসেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর জানিয়েছেন, দলীয় মনোনয়ন পেলেও মাহবুব জামানকে অনেক ভোটার-ই ভোট দিবেন না। শুধু আমাদের ভোট-ই না, অনেক সদস্যের ভোটও হারাবেন তিনি। তবে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দুই ধরনের বক্তব্যই পাওয়া গেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাহবুব জামান ভুলু দলীয় মনোনয়ন পেলেও চিত্র পাল্টে যেতে পারে। অনেক সদস্যই মাহবুব জামান ভুলুকে ভোট দিবেন না বলেছেন। অনেকে সোজাসুজি বলেছেন, মাহবুব জামান ভুলুকে ভোট দেয়ার কথা। কয়েকজন নেতাকর্মী জানিয়েছেন, এবছর রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনের লড়াইটা হবে হাড্ডাহাড্ডি। ত্রিমুখী এই লড়াইটা সংঘটিত হবে।
এ বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এটা কোনো জাতীয় নির্বাচন না, এটা স্থানীয় নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে দল থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেয়া হয় নি। যদিও কেন্দ্রীয়ভাবে একজনকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। আমার যেহেতু ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি সময় রাজনীতির সঙ্গে কেটেছে, সৎ ভাবে রাজনীতি করেছি, সেহেতু আমার মনে হয়েছে আমি এই পদের জন্য যোগ্য। তাই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। এরপরও দল থেকে কোনো সুপষ্ট নির্দেশনা দেয়া হলে আমি তা মেনে নেব। দল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে বললে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেব।
মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, নির্বাচন করার জন্যই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবার এখন পর্যন্ত কোনো চিন্তাভাবনা নেই।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনীত ব্যক্তির পক্ষেই নগর আওয়ামী লীগ কাজ করবে। আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, তারা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করেই দাঁড়িয়েছেন। ফলে এর দায়ভারও তাদের নিতে হবে।  জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদও বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাজ করবেন।