আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ সাহস ও নির্ভরতায় মানুষের অবিচ্ছিন্ন বন্ধন

আপডেট: জুন ২৩, ২০২২, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

আজ ২৩ জুন ২০২২। গণমানুষের রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ভাষা আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে যে দলটি নেতৃত্ব দিয়েছে। বর্তমানে সমৃদ্ধ ও বিশ্বমর্যাদায় সম-উত্তীর্ণ বাংলাদেশের ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির অস্থি-মজ্জার সাথে নিবিষ্ট, এ দেশের মাটির গভীওে প্রোথিত আওয়ামী লীগ আজ ৭৪ বছরে পদর্পণ করলো। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এই দীর্ঘ পথপরিক্রমা নিঃসন্দেহে মহান গৌরবগাথা। ৭০ দশকের বেশি সময় ধরে মাটি ও মানুষের কত গভীরে প্রোথিত হলে একটি রাজনৈতিক দল সময়ের নিষ্ঠুরতাকে অগ্রাহ্য করে মানুষের হৃদয়ে ভালবাসায় সমানভাবে স্পন্দিত হয়- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মাটি ও মানুষের অবিচ্ছিন্ন ধারায় থেকে দলটি এখনো নেতৃত্বগুণে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।
উপমহাদেশের রাজনীতিতে সাত দশক ধরে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছে গণতান্ত্রিক-ভাবে জন্ম নেয়া এই দলটি। এদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের ভূমিকা প্রত্যুজ্জ্বল।
১৯৪৭-র দেশ বিভাগ, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র ছাত্র আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র যুগান্তকারী নির্বাচন আর ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার আন্দোলন ও জনযুদ্ধে সবখানেই সরব উপস্থিতি ছিল আওয়ামী লীগের। মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রসেনানী ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৯ সালে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয়। ওই বছরের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
প্রথম কাউন্সিলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হককে দলের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তখন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দি। বন্দি অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৬৬ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদ। এর পরে ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অপরিবর্তিত থাকেন। এ কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছায় সভাপতির পদ ছেড়ে দিলে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় রাজশাহীর কৃতিসন্তান এএইচএম কামরুজ্জামানকে। সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন মো. জিল্লুর রহমান। ১৯৮৭ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক হন। সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন হলেও এ পর্যন্ত শেখ হাসিনাই দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
একটি রাজনৈতিক দল যখন গণমানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে তখন সে দলকে কোনোভাবেই নিশ্চিহ্ন করা যায় না। আওয়ামী লীগই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর হেন কূট-প্রক্রিয়া ছিল না যা আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে প্রয়োগ করা হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখনো গণমানুষের দল হিসেবেই সমুজ্জ্বল। আর যারা আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল তারাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে আর যারা আছে তারা ক্ষয়িষ্ণু নিস্প্রুভ।
আওয়ামী লীগের কাছে দেশের মানুষের অনিশেষ আকাক্সক্ষা। দলটি বাঙালি জাতিকে শুধু স্বাধীনতাই এনে দেয়নি, বাংলা জাতিকে স্বনির্ভরতার মন্ত্রেও উজ্জীবিত করেছে। সেই উজ্জীবনের ধারায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মত মেঘাপ্রকল্প সম্পন্ন করা। যা ২৫ জুন মাননীয় প্রদামন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। পদ্মা সেতু সারা বিশ্বে বাঙালি জাতিকে মহিমান্বিত করেছে। এর মধ্য দিয়েই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির কাছে সাহস ও নির্ভরতার প্রতীকরূপে বিবেচিত হচ্ছে। দলটি নেতৃত্বের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে গণমানুষের আকাক্সক্ষার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ অর্জনে সফল হবে- সেই প্রত্যাশাই রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ