আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তোড়জোর দলকে অবশ্যই ‘হাইব্রিড’মুক্ত করতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানে সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলনের উদ্যোগও শুরু হয়েছে। এই সম্মেলন হবে তিন ধাপে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে ইউনিয়ন, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা এবং বেধে দেয়া ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা ও মহানগরের সম্মেলন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দলটি। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও মহানগরের সম্মেলন সম্পন্ন করতে হয়। একইসঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোরও সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় সম্মেলন করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দলের গত কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ এবং সাংগঠনিক সম্পাদকরা কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে সম্মেলন প্রস্তুতির জন্য ১২টি কমিটি গঠন করা হয়। এর পাশাপাশি প্রতিদিনই দলের সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলন প্রস্তুতির বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। উল্লেখ্য, প্রশাসনিকভাবে সারাদেশে ৬৪টি জেলা হলেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা ৭৩টি। প্রতিটি মহানগর কমিটি জেলা কমিটির মর্যাদাসম্পন্ন।
তিন ধাপের তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনের সম্মেলন এবং কেন্দ্রীয় সম্মেলন নিঃসন্দেহে দলটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জও বটে। টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের এমন কী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনেকেরই বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগের বিষয়গুলো ক্রমশই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। সরকার যে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে তা দলের মধ্যে থেকেই শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং জেলা ও থানা পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে এখন পর্যন্ত যা দৃশ্যমান হয়েছে- গ্রেফতারকৃতদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে যে পরিমাণ কোটি কোটি টাকা ও সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে তা তাদের আয়ের সাথে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দেশের মানুষকে হতবাক করেছে। যদিও দেশের মানুষ সরকারের এই শুদ্ধি অভিযানকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। সারা দেশেই এই অভিযান চলবে। তিনি আরো বলেছেন, যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের অতীত ভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতির। যেহেতু তারা দলের মধ্যে প্রবেশ করেছেন তারা দলীয় লোক হিসেবেই চিহ্নিত হবেন। অর্থাৎ দলের সাধারণ সম্পাদক ওইসব অভিযুক্তদের দলীয় পরিচিতি আড়াল করতে চান না।
রাজনীতিতে ‘হাইব্রিড’ শব্দটি দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। বিভিন্ন দল থেকে যারা আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে এসেছেন তাদেরকেই হাইব্রিড আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এই হাইব্রিডরাই নেতাদের কাছে আশ্রয়-প্রশ্রয় বেশি পাচ্ছে এবং তাদের আর্থিক সঙ্গতিও ভাল। পোড়-খাওয়া আওয়ামী লীগ কর্মি যারা- তারা নানাভাবেই বঞ্চিত এবং ওইসব হাইব্রিড দ্বারা অপমানিতও বটে। এসব বঞ্চিত কর্মিরা দলকে হাইব্রিড মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন অনেক দিন থেকেই। কিন্তু এরা ক্রমেই দলের মধ্যে প্রভাবশালী হয়ে নেতৃত্বও দখল করে নিয়েছে। এবং তারাই দলকে ভাঙ্গিয়ে নানা অসামাজিক অপরাধ, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি-সঙ্কটের মুখে ফেলেছে।
আওয়ামী লীগ যে সম্মেলন করতে যাচ্ছে এই হাইব্রিডরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে ঐতিহ্যবাহী আওয়ামীলীগকে রাজনৈতিক ধারায় নিতে অবশ্যই ওইসব হাইব্রিডদের বিদায় করতে হবে। তারা যেন কোনোভাবেই দলের নেতৃত্বে কিংবা কোনো দায়িত্বশীল পদ-মর্যাদা ভোগ করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ