আওয়ামী লীগের ২০ তম সম্মেলন ।। সফল হোক, সার্থক হোক

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ আওয়ামী লেিগর দুদিনব্যাপি ২০তম সম্মেলনের শুরু হবে আজ। সম্মেলনকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সাজ সাজ রব। কর্মী-সর্মকরাও বেশ চাঙ্গা- উৎফুল্ল। গণতন্ত্রকামী মানুষেরাও বেশ কৌতুহলী যে, দেশের ঐতিহ্যবারহী ও বৃহত্তম দলটির কাউন্সিল অধিবেশন থেকে দল ও জাতির জন্য কেমন নির্দেশনা থাকবে, নেতৃত্বই বা কেমন হবে। ইতোমধ্যেই সারা দেশ থেকে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা রাজধানী পৌঁছেছেন।  চিন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত, কানাডা, অস্টোলিয়া, ইতালি, শ্রীলংকাসহ ১২টি দেশের ৫৫ জন বিদেশি অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। তবে এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জাতীয় সম্মেলনে ডিজিটালের ছোঁয়া স্পষ্ট। ফেসবুকের প্রোফাইল ছবিতেও আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের ছাপ লক্ষনীয়। জাতীয় কাউন্সিল সরাসরি ফেসবুকে লাইভ প্রচার করা হবে। ২৩ অক্টোবরের সম্মেলনে ৫০ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেট বসার ব্যবস্থা থাকবে। তাদের সুবিধার্থে ১০টি বড় পর্দায় সম্মেলন দেখানো হবে।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দলটির যাত্রা শুরু। তবে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদাায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম থেকে পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। নানা চরাই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে দলটি ইতোমধ্যেই ৬৭ বছর অতিক্রান্ত করেছে এবং সমান জনপ্রিয়তা নিয়ে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ চার বার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। ১৯৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কঠিন সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় দলটিকে। এরমধ্যে ১৯৭৩ সালে নতুন সংবিধানের অধীনে সাধারণ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩ আসন লাভ করে দলটি। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে একটি মাত্র জাতীয় দল ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ (বাকশাল) গঠনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করা হয়।
১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে তার সরকারের পতন ঘটানো হয় । ক্ষমতায় আসা সামরিক সরকার রাজনৈতিক দল প্রবিধান ঘোষণা করলে ১৯৭৬ সালে আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন ঘটে। আওয়ামী লীগ সম্মেলন করে প্রবাসে থাকা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে হাসিনা দলের দায়িত্ব নেন।
এ বছরের ২৩ জুন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলটি ৬৭ বছর পার করেছে। নানা চরাই-উৎরাইয়ের মধ্য অগ্রসর দলটি এখনো দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন। বাঙালি জাতির এমন কোনো আন্দোলন নেই যেখানে দলটি নেতৃত্ব না দিয়েছে। জাতির দুঃসহ চরমতম দিনগুলোতেও আওয়ামীলীগ নিষ্ঠা ও যোগ্যতা দিয়ে পাশে থেকেছে। বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবময় অর্জন মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক নেতৃত্বও দিয়েছে আওয়ামীলীগ। জনগণের সাথে জনগণকে দেয়া অঙ্গীকার নিয়ে দলটির যাত্রা শুরু হয়েছে, এখনো সেই অঙ্গীক্রা নিয়েই জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। মাটি ও মানুষের রক্ত প্রবাহের সাথে, আবেগের সাথে একটি রাজনৈতিক দলের এ নিবিড় সম্পর্কের দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে খুব বেশি উদাহরণ নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ