আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বোধোদয় || দলের অভ্যন্তরেও শুদ্ধি অভিযান চাই

আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

আমাদের জাতীয় রাজনীতি ক্রমবিকশিত হতে পারছে না। একটি বৃত্তের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। এটাকে রাজনীতির চলিষ্ণু ধারা বলা যাবে কিÑ তা নিয়ে বিতর্ক করা যেতেই পারে। স্বীকার করে নিয়েও বলা যায় যে. এই চলিষ্ণু ধারায় রাজনীতি মোটেও বিকশিত হতে পারে না। একই আবহে আটকে পড়ে আছে রাজনীতিÑ খেই হারিয়ে নতুর কোনো চলমান ধারার সৃষ্টি করতে পারছে না। ফলে রাজনীতিটাও উদ্দেশ্যহীন, কল্যাণের পরিবর্তে মানুষের বিড়ম্বনা বাড়াচ্ছে। আর দুর্বৃত্তদের বাড়বাড়ন্ত অসীম মাত্রায়।
রাজনীতির এই দুর্বৃত্তায়ন থেকে মুক্তির তাগিদা অনুভব করছে দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, লড়াই-সংগ্রাম সর্বোপরি বাংলাদেশের জন্মের সাথে যে দলটির নিবিড় সম্পর্ক। গণমানুষের নাড়ির স্পন্দনের সাথে যে দলের মহীরুহ বিকশিত হয়েছে। সেই দলটির নেতৃত্বের বোধগম্য হয়েছে যে, দলটির অভ্যন্তরে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে। দলের মধ্যে দুর্বৃত্তদের অনুপ্রবেশ ঘটে গেছে। এই বোধ থেকেই দলটির মধ্যে সুবিধাবাদীদের অনুপ্রবেশ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিতর্ক হচ্ছে। দলটির নীতি-নির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে দলের সদস্য করা যাবে না। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিবিসি বাংলাসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশে এটা নিয়ম হয়ে গেছে যে, ক্ষমতাসীন দলে যেনতেনভাবে ঢুকতে হবে। আর দলের মধ্যেকার অনেক নেতারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কারণে ওইসব বহিরাগতদের দলে টেনে নেয় পরম যতেœ। যোগদানকৃতদের বেশির ভাগই দলের নীতি- আদর্শের প্রতি বিশ্বাসের জায়গা থেকে আসে না। প্রথমত ক্ষমতাসীন দলে আশ্রয়-প্রশ্রয় লাভ করা, দ্বিতীয়ত সহায়-সম্পদ বিস্তৃত করাই হয় তাদের মূল লক্ষ। এর ফলে নব্যরা দলে ঠাঁই নিয়ে নেতাদের সন্তুষ্ট করে, সমঝোতা করে এবং ভয়ঙ্কর রূপে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। এটি করে দলের মধ্যে তার অবস্থানকে সুদৃঢ় করার জন্য। রাজনৈতিক দলের এটাই দুর্বত্তায়নের অন্যতম প্রধান কারণ।
মাঝে খুব আলোচিত বিষয় ছিল আওয়ামী লীগে জামায়াতী ইসলামীর নেতাদের যোগদানের ঘটনা। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক জামাতি আওয়ামীলীগের মধ্যে ঢুকে গেছে। কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর একটি রাজনৈতিক দলের ব্যক্তির আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন আদৌ সম্ভব কি না বিষয়টি একদম বিবেচনায় নেয়া হয়নি।
এই নির্বিচার যোগদানের পরিণতি কী হতে পারে? প্রতিবেদনের তথ্য মতে আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই মনে করেন, বিভিন্ন দল থেকে যোগ দেয়া লোকজন একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী তৈরি করায় ত্যাগী নেতা-কর্মিরা দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। নব্যদের দাপটের কাছে ত্যাগি কর্মীরা খুবই অসহায় বোধ করছে। কিন্তু আশার কথা এই যে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও এখন এই উদ্বেগে শরিক হয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতেও সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের এক মুখপাত্র মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন,”দলে কাউকে নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দলের গাইডলাইন অনুসরণ করে কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে তাকে নিতে হবে। অন্য দল থেকে কেউ আসতে চাইলে স্থানীয়ভাবে যাচাই করার পর কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে তারপর তাকে নিতে হবে। দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নির্দেশনা সারাদেশের নেতা কর্মিদের পাঠানো হয়েছে।”
আমরা মনে করি এই সিদ্ধান্ত যথার্থভাবে পালিত হলে অন্তত দলে দুর্বৃত্তদের ঢোকার পথ বন্ধ হবে। এর অর্থ এই নয় যে, দল সুবিধাবাদীদের রাহুমুক্ত হবে। যারা ইতোমধ্যে দলের মধ্যে ঢুকে বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে যাচ্ছে তাদেরকেও চিহ্নিত করে অপসারণ করার সময় এসেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ