আখের সাথে ধান চাষে দেশে প্রথম সাফল্য

আপডেট: মে ২১, ২০২২, ২:২৩ অপরাহ্ণ


সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা) :


সাধারণত আখ ও ধান দুটি ফসলের চাষ পদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন হয় ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে ও পৃথক জমিতে। এবার পাবনার ঈশ্বরদীস্থ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিউট (বিএসআরআই) এর বিজ্ঞানীরা এই দুই ভিন্ন মেজাজের ও সম্পূর্ণ বিপরীত বৈশিষ্ঠের ফসল একই সাথে একই জমিতে উৎপাদন করার মত সাফল্য দেখিয়েছে।

দেশে প্রথমবারের মতো আখের সাথী ফসল হিসেবে বোরো ধান চাষ করে সাফল্যও এসেছে। এবারই বিএসআরআইয়ে প্রথম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঈশ্বরদীতে আখের সাথে ধান চাষ শুরু করেছে কৃষকরা।

বিএসআরআইয়ের সাথী ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের ইনচার্জ ও এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক ড. আনিসুর রহমান বলেন, প্রথমে এই দুই বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ফসল একসাথে চাষের পদ্ধতি আবিস্কার করেন সুগারক্রপের বিজ্ঞানীরা।

পরে যৌথ ফসল পরীক্ষামূলকভাবে আবাদ করে সফলতা এসেছে। ফলনও ভালো পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা জানান, বেডপদ্ধতি ও সরাসরি আবাদ দুইভাবেই আখ ও ধান একসাথে চাষ করা সম্ভব। আর এতে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রয়োজন নেই।

এতে জ্বালানী ও বিদ্যুত খরচও কম হবে। উদ্ভাবিত এই পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

বিএসআরআই-এর মহাপরিচালক ড. আমজাদ হোসেন জানান, হিসেব করে দেখা গেছে, এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে খরচ কমবে এক-তৃতীয়াংশ। এতে লাভবান হবেন কৃষক। এবছরে আমরা সফল হয়েছি। ইনশাল্লাহ আগামী বছরে আমরা এই পদ্ধতি কৃষকদের দোরগোড়ায় নিয়ে যাব।

ধান গবেষণার মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, এই অবস্থায় দুই শষ্যের আবাদ করা গেলে আমরা লাভবান হবো। অল্প পানিতে যদি আমরা ধান আবাদ করতে পারি সেটাই আমাদের জন্য বেশী উপকার হয়। আখের খরচ দিয়েই ধানের দুই-তৃতীয়াংশ খরচ মিটে যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ