আখ ও ধান একই খেতে এক সাথে আবাদ কৃষির টেকসই উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা

আপডেট: মে ২৩, ২০২২, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

পাবনার ঈশ্বরদীস্থ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিউট (বিএসআরআই) এর বিজ্ঞানীরা দুই ভিন্ন মেজাজের ও সম্পূর্ণ বিপরীত বৈশিষ্ট্যর ফসল একই সাথে একই জমিতে উৎপাদন করার মত সাফল্য দেখিয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো আখের সাথী ফসল হিসেবে বোরো ধান চাষ করে সাফল্যও এসেছে। এবারই বিএসআরআইয়ে প্রথম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঈশ্বরদীতে আখের সাথে ধান চাষ শুরু করেছে কৃষকরা। সাধারণত আখ ও ধান দুটি ফসলের চাষ পদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন হয় ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে ও পৃথক জমিতে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা একই জমিতে আখ ও ধান চাষ করে মিশ্র পদ্ধতির ফসল চাষে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করলেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে এই প্রযুক্তির উদ্ভাবকের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষামূলকভাবে আবাদ করে সফলতা এসেছে। ফলনও ভালো পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা জানান, বেডপদ্ধতি ও সরাসরি আবাদ দুইভাবেই আখ ও ধান একসাথে চাষ করা সম্ভব। আর এতে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রয়োজন নেই। এতে জ্বালানি ও বিদ্যুত খরচও কম হবে। উদ্ভাবিত এই পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।
মিশ্র ফসল চাষ এ দেশে নতুন কিছু নয়। হাজার বছর ধরেই এই চাষ পদ্ধতি চলে এসেছে। এ দেশের প্রকৃতির মতই গাছ, লতাপাতার এক সাথে অবস্থানের শিক্ষা থেকেই হয়ত কৃষক তার অভিজ্ঞতা জ্ঞানার্জন এবং খাদ্য নিরাপত্তার তাগিদ থেকেই মিশ্র পদ্ধতির আবাদের সূচনা। কালের বিবর্তনে সেই জ্ঞানের নতুন নতুন ধাপ তৈরি করেছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। মিশ্র পদ্ধতির চাষ পাল্টে দিচ্ছে ফসল আবাদের প্রযুক্তি ও পদ্ধতি।
কৃষি বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। কৃষি শুধুই খাদ্য নিরাপত্তা নয়- এর সাথে গ্রামীণ মানুষের জীবন- বৈচিত্র, উৎসব-আনন্দ অন্বেষণ, বিনোদন ও সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধারাও বটে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এখনো কৃষির বিকল্প চিন্তা করা যায় না। ২০১৮ সালের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যমতে, এটি মোট শ্রমশক্তির ৪০.৬ ভাগ জোগান দিয়ে থাকে এবং দেশের জিডিপিতে এর অবদান ১৪.১০ শতাংশ। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় এই খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
বর্তমান সময়ে কৃষি পেশার সাথে এদেশের বেকার ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর যুক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামর্থ অনুযায়ী কেউ ফিসারি, গবাদি পশু ও পাখির খামার, বৈচিত্র্যময় ফল, সবজি ও ফুল উৎপাদন করে বেশ লাভবান হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কৃষকরা বিভিন্ন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার করছেন। মাছ চাষ, ফল, ফুল, সবজি ও গবাদি পশু চাষে অনেকে মিশ্র চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা ফসল চাষে কয়েক ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করে, যেমন- একক ফসল চাষ, সাথী ফসল চাষ ও মিশ্র ফসল চাষ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিগুলোর একেকটির একক ধরনের উপকারিতা ও গুরুত্ব রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা একই জমিতে আখ ও ধান চাষ করে মিশ্র পদ্ধতির ফসল চাষের পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং তা মাঠ পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করে কৃষির সম্ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এই সম্ভাবনা দেশের কৃষিকে টেকসই উন্নয়ন ও খাদ্যনিরাপত্তায় পথ দেখাবে- সেই প্রত্যাশাই রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ