আগামি নির্বাচনে রাজশাহী সদরে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দাবি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের

আপডেট: মার্চ ৫, ২০১৭, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


আগামি নির্বাচনে রাজশাহী সদরে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের এক মতবিনিময় সভায় নেতাকর্মীরা এ দাবি জানান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। সভাপতিত্ব করেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
নেতাকর্মীরা এএইচ টি ইমামকে বলেন, রাজশাহী সদর থেকে অন্য কোনো দলের প্রার্থী মনোনীত করা হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেবে তারা অন্য দলের প্রার্থীর জন্য নির্বাচন করবে কি করবে না। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে এমপি নির্বাচনে মনোনয়ন দিতে হবে। এছাড়া নেতাকর্মীরা সভায় কেন্দ্রীয় সম্মেলনে খায়রুজ্জামান লিটনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ পদ না দেওয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা প্রফেসর আব্দুল খালেক বলেন, দল ক্ষমতায় অথচ রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাশূন্য। এখান সাংসদ অন্য দলের, মেয়রও নেই বললেই চলে। আগামি নির্বাচনে রাজশাহী সদরে যেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এমপি নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটনের কোনো বিকল্প নেই। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, আগামি নির্বাচনে রাজশাহী সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া বিকল্প নেই। দলের জন্যই এটা গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লিটন ভাইয়ের নেতৃত্বে কাজ করেছি। তাই আগামী নির্বাচনে সদর আসনে লিটন ভাইকেই প্রার্থী করতে হবে। কারণ, লিটন ভাইয়ের নেতৃত্বেই আমরা ঐক্য ধরে রাখতে চাই। নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মীর ইকবাল বলেন, বিভাগীয় শহর রাজশাহী অথচ এই শহরে আমাদের এমপি নাই, মেয়রও নাই। আগামি নির্বাচনে বিভাগীয় শহরে দলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য দলের কোনো নেতাকে যেন মনোনয়ন দেওয়া না হয়। জেলা আ’লীগের সহসভাপতি অনিল কুমার সরকার ও মকবুল হোসেনও আগামি নির্বাচনে রাজশাহী সদর থেকে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন চান। নগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী বলেন, আগামি নির্বাচনে রাজশাহী সদরে অবশ্যই লিটন ভাইকে মনোনয়ন দিতে হবে।
এছাড়া ওই সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ভিসি ও প্রোভিসি জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। নেতাকর্মীরা ভিসি ও প্রোভিসির বিষয়ে এইচ টি ইমামকে বলেন, তারা বিএনপি-জামায়াতের শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের কথা বলা হলে ভিসি-প্রোভিসি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অসম্মান ও পর্যুদস্ত করেন বলে উল্লেখ করা হয়। এই ভিসি- প্রোভিসি যেন আবার পুর্নবহাল হতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া নেতাকর্মীরা মহানগরে দলের মধ্যে কোনো বিরোধ না থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধ আছে বলে উল্লেখ করেন। জেলায় সাংসদ ও জেলার নেতাদের মধ্যে বিরোধ বিরাজমান বলে উল্লেখ করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ নেই। কিন্তু নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ আছে। এখানকার সাংসদরা দলের মধ্যেও দলীয় নিয়ম মানেন না। এলাকায় সভা-সমাবেশ করতে গেলে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
এইচ টি ইমাম নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজনীতিতে স্ট্র্যাটেজি করতে হয়, ট্যাকটিস করতে হয়। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে হয়। রাজনীতিতে কৌশল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য। সব বিভেদ ভুলে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। রাজশাহীর ২০০৮ থেকে পূর্ববর্তী নির্বাচন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাজশাহীতে নেতা নির্বাচন করা অনেক কঠিন। তাই আপনার এখন থেকেই ঠিক করে নেন, কে কোথায় নির্বাচন করবেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে নেন।
এইচ টি ইমাম বলেন, আগামি নির্বাচন দলের জন্য তো বটে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। বিএনপিকে তুচ্ছ ভেবে লাভ নেই। তারা এখন ঘাপটি মেরে আছে, সুযোগ পেলেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আগামি নির্বাচনে আমাদের অবশ্যই জয়লাভ করতে হবে। এই জয়লাভের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, শিবিরের নেতাকর্মীদের যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তার তথ্যভিত্তিক তালিকা দেন। তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সাংসদদের ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে বলেন, সাংসদদের তো এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাদের কাজ এলাকার দেখাশোনা করা।
সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠা-ু, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহীন আক্তার রেনী, নওশের আলী, মোহাম্মদ আলী কামালসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।