আগামী বছর ডিসেম্বরে নির্বাচন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৭, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী আগামী বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়টাই বাংলাদেশে নির্বাচনের জন্য উপযোগী।
সোমবার দুপুরে রাইজিংবিডির প্রতিনিধির সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার চিন্তা মতে এবং এখন পর্যন্ত জানা মতে নির্বাচন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে হবে। নির্বাচন কমিশনের নোটিফিকেশন অনুযায়ী আগস্ট থেকে প্রস্তুতি সেটা যদি আমরা হিসাব করি পরবর্তী নির্বাচন ডিসেম্বরে হবে।
অর্থমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে আগামী বছরের অক্টোবরে নির্বাচন হবে বলে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, সব দিক থেকে হিসাব করলে ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। আমার মনে হয় না আমি অক্টোবরের কথা বলেছি। যারা সংবাদ প্রকাশ করেছেন তারা ভুল শুনেছেন।
আগামী নির্বাচন কেমন হবে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাস করে। অতীতে প্রতিটি নির্বাচনই তাই হয়েছে। আগামী নির্বাচনও তাই হবে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নিতে হবে। কারণ নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এখনই দলের অবস্থা খুব ভাল যাচ্ছে না। বেগম খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা একবারই শুধু ১৯৯৬ সালে ছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, রাবিশ! বিএনপির এ স্বপ্ন রাবিশ! এদেশে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। পরবর্তী নির্বাচন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই হবে। নির্বাচনে কোনো ধরনের ঝামেলা হবে বলে আমি মনে করি না।
আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে নির্বাচনে অংশ না নেওয়া। এরই মধ্যে আমার ছোটভাই ড. মোমেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য কাজ করছেন। দল যাকে নমিনেশন দেবে তার পক্ষে কাজ করব। তবে দল যদি আমাকে দিয়ে নির্বাচন করাতে চায় সে ক্ষেত্রে হয়তো নির্বাচন করতে হবে। এছাড়াও যদি বেগম খালেদা জিয়া সিলেট থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করে সে ক্ষেত্রে আমি তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে ইচ্ছুক।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিলেট থেকে নির্বাচন করতে পারেন- এমন কোনো ইঙ্গিত কি উনি দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, না, উনি সরাসরি কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে উনার দলের লোকজন একজন শক্ত প্রার্থী খুঁজছেন। কেউ কেউ খালেদা জিয়াকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে বলেন, আমরা কোনো চাপে নেই। তবে আমরা তো তাদের জন্য করছি। এটি একটি মানবিক সমস্যা। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। তাই নীতিগতভাবে তাদের আমরা প্রত্যাখ্যান করতে পারি না। তবে এ দেশে অবাধে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়াটাও সমস্যা।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে এগিয়ে আসতে হবে। এরই মধ্যে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
মুহিত বলেন, মিয়ানমার যা করছে তা মানবাধিকার বিরোধী। মিয়ানমারের অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। সে নোবেলে শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন মানুষ হয়ে কীভাবে এমন অমানবিক কাজ করছে, সেটা আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে ভেবে দেখা উচিত।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধায়নে মিয়ানমারে যে কোনো এলাকায় আলাদা একটি জোন করা উচিত। যেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করে সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি