আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণের দাবি

আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


মন্ত্রণালয়ের আদেশের পরও নাটোরের উত্তরা গণভবন থেকে স্বাধীনতাবিরোধী কুখ্যাত রাজাকার মোনায়েম খানের নামফলক অপসরাণ না করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে মুক্তিযোদ্ধারা এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে নামফলক অপসারণ করার জন্য জোর দাবি জানিয়ে মনববন্ধন করেছে সংগঠনটি। এদিকে, মন্ত্রণালয় নাটোরের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে মোনায়মে খানের নামফলক দ্রুত অপসারণ করার নির্দেশ দিলেও তিনি কালক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, উত্তরা গণভবন থেকে কুখ্যাত মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণের জন্য গত ২৯ জুন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে এক চিঠি  প্রেরণ করে। ওই চিঠির আলোকেই গত ৪ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুরাইয়া বেগম স্বাক্ষরিত এক চিঠি গত ৫ জুলাই নাটোরের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমানের কাছে এসে পৌঁছায়। চিঠিতে বলা হয়, নাটোর জেলার উত্তরা গণভবন হতে স্বাধীনতাবিরোধী কুখ্যাত রাজাকার মোনায়েম খানের নামফলক নাটোর জেলা প্রশাসনের সহায়তায় অপসারণ করে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহতি করার জন্য গণপূর্তর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেয়া হয়।
এরপর থেকেই নড়েচড়ে বসে নাটোরের গণপূর্ত বিভাগ। গণভবন থেকে কুখ্যাত মোনায়েম খানের নাম ফলক অপসারণের জন্য গত রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় নামফলক অপসারণের সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু রোববার সকালে হঠাৎ করেই স্থগিত ঘোষণা করা হয় নামফলক অপসারণের কার্যক্রম। এরপর থেকেই শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল ঢাকায় অবস্থান করার কারণে নামফলক অপসারণ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তিনি নাটোরে এসে নামফলক অপসারণ করবেন।
এদিকে, মুক্তিযোদ্ধাদের সর্ম্পৃক্ততা করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধী কুখ্যাত মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণের দাবিতে গতকাল সোমবার সকালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যানারে নাটোর প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এসময় মানববন্ধনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড জেলা শাখার আহবায়ক ও নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি বলেন, কুখ্যাত মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণের জন্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি আসার পরও কালক্ষেপণ করছেন গণপূর্ত বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমান। মুক্তিযোদ্ধাদের না জানিয়ে গত ৯ জুলাই অপসারণের দিন ঠিক করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা অপসারণ করা হয় নি। অবিলম্বে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে মোনায়েম খানের নামফলক অপসারণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল, যুগ্মআহবায়ক রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
জানতে চাইলে নাটোরের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসনের সহায়তায় অনতিবিলম্বে নামফলক অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাই গত রোববার অপসারণের জন্য সময় নির্ধারণ করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, জেলা প্রশাসক বাইরে থাকায় পরে অপসারণের জন্য।
তবে নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. আজাদুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য প্রতাখ্যান করে বলেন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোপনে নামফলক অপসারণের চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সকলকে অবহিত করে আসছে। গত রোববার নির্বাহী প্রকৌশলীই সময় নির্ধারণ করেন। তাছাড়া নামফলক অপসারণের পুরো বিষয়টিই গণপূর্ত বিভাগের। জেলা প্রশাসক এই বিষয়ে সব সময়ই সহযোগিতা করে আসছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ