‘আগে শরীরে কোপ, তারপর গাছে’ গাছ বাঁচাতে সোচ্চার গ্রামবাসী

আপডেট: জুন ২৩, ২০২১, ১১:১৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


গাছটির বয়স শতবছর পেরিয়ে। জন্মের পর থেকেই গ্রামের মানুষ এই গাছটি দেখে আসছেন। ক্লান্ত পথিক গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছেন। সেখানে কত গল্প-আড্ডা হয়েছে! গাছটিকে ঘিরে কত স্মৃতি! গাছ এলাকার পরিচয় তৈরি করেছে। সেই গাছটিই কেটে ফেলা হচ্ছে। গ্রামবাসী তা একদম মানতে পারছে না।
গ্রামের মানুষ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন কুড়ালের আগে। শতবর্ষী এই পাইকর (অশ্বত্থ) গাছটির প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা মানববন্ধনও করেছেন। বুধবার (২৩ জুন) সকাল ১০ টায় পবা উপজেলার মধুপুর বটতলা মোড়ে গাছের সামনেই এই মানববন্ধন হয়।
পাইকর গাছটিকে অনেকে ‘বটগাছ’ বলে থাকেন। সেই কারণেই ওই মোড়টির নাম হয়েছে ‘মধুপুর বটতলা’। এই মোড়েই রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) দামকুড়া থানা অবস্থিত।
মানবন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ, শরিফুল ইসলাম, জুয়েল রানা প্রমুখ। তাঁরা বলেন, এই গাছ তাঁরা কোনভাবেই কাটতে দেবেন না। কেউ গাছ কাটতে এলে তাঁরা সামনে গিয়ে দাঁড়াবেন। আগে তাঁদের শরীরে পড়বে কুড়ালের কোপ, তারপর গাছে।
গাছটি রাজশাহী জেলা পরিষদের মাটিতে আছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদ রাজশাহী শহরের কাশিয়াডাঙ্গা থেকে গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট সড়কের ১৯টি গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করেছে। রাস্তার পাশের সবগুলোই বড় বড় গাছ। দাম হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা। রাজশাহী মহানগরীর বকুল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী গাছগুলো কিনেছেন। কিছুদিন থেকে কাটাও হচ্ছে।
গত সোমবার শ্রমিকেরা শতবর্ষী এই পাইকর গাছটি কাটতে যান। তখনই সামনে গিয়ে দাঁড়ান গ্রামবাসী। আসেন বকুল। তিনি কিনেছেন জানিয়েও গাছ কাটতে পারেননি। সেদিনই গ্রামের ১৭০ জন বাসিন্দা গণস্বাক্ষর করে গাছটিকে বাঁচানোর জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাজদার রহমানও এতে স্বাক্ষর দিয়েছেন। পরে বুধবার সকালে গ্রামবাসী গাছটিকে না কাটার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ