আঙুলবিহীন হাতে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে রকি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৭, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা



আঙুলবিহীন হাতে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে রকি। রকি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার গোচর গ্রামের আকছেদ আলীর ছেলে। তার পুরো নাম মেহেদী হাসান রকি।
রকি বাঘা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের দুই নম্বর কক্ষে চলতি এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রতিবন্ধী হয়েও জীবন থেমে নেই রকির। সে শিক্ষা গ্রহণ করে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। মেহেদী হাসান রকি জন্মগত প্রতিবন্ধী। কিন্তু তার বাবা-মায়ের প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী হয়েও সে সকল কাজে সফলভাবে গড়ে উঠছে। রকির দুইটি হাত থাকলেও সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেকাংশে ছোট এবং আঙ্গুলবিহীন। তার আঙ্গুলবিহীন ছোট হাত দ্বারা সব ধরনের কাজ করতে সক্ষম হয়। রকি আড়ানী মনোমোহীনি উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। সে দ্বিতীয় শ্রেণি হতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ায় ভালো ফলাফল করে আসছে। এই বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
আড়ানী মনোমোহীনি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, রকি প্রতিবন্ধী হলেও তার মেধা অন্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনেক বেশি। তার হাতের লেখাও ভালো। রকি লেখাপড়ার পাশাপাশি সব ধরনের খেলাধুলা, বাইসাইকেল চালানো ছাড়াও অন্য কাজ নিজে করতে পারে তার পঙ্গু হাত দিয়ে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী রকি বলেন, আমি অতি দরিদ্র পরিবারের ছেলে। তাই আমি চাই লেখাপড়া শিখে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবো। ইঞ্জিনিয়ার হয়ে পিতা-মাতার দরিদ্র সংসারকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলবো। আমি সকলের কাছে এই দোয়া কামনা করছি।
রকির বাবা আকছেদ আলী বলেন, আমার চার সদস্যের পরিবারে রকি বড় ছেলে। আমার পিতা আবদুল জলিল উদ্দিনের কাছে থেকে দুই বিঘার মতো জমি পেয়েছি। এই জমিতে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকম সংসার চলে। এছাড়া ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাতে কষ্ট হয়। রকির মা ছবিলা বেগম বলেন, আমার আরেকটি আরফিন আফতান রাহাত নামের ছেলে সন্তান রয়েছে। তাকে নিয়ে কোন রকম দিন পার করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম বলেন, রকি বাঘা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে দেখেছি। প্রতিবন্ধী হয়েও তার হাতের লেখা অন্যদের চেয়ে ভালো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ