আজই কী সিরিজ জয়ের উৎসব?

আপডেট: মার্চ ২৮, ২০১৭, ১:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গত শনিবার প্রথম ম্যাচে ৯০ রানের বড় জয়ের পরও বাংলাদেশের উদ্যাপন ছিল একেবারে সাদামাঠা। ওই ম্যাচেই ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ পরে বলেছেন বাধভাঙা উদ্যাপনের ব্যাপারটা তারা জমিয়ে রেখেছেন সিরিজ জয়ের জন্য! খুবই সরল অঙ্ক। সিরিজ জিতলেই মাশরাফিরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে শুরু করে দেবেন আনন্দ নৃত্য। ঠিক যেমনটা হয়েছে দেশের শততম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের পর। এখন প্রশ্ন হলো, মনে আশার সুতো দিয়ে বেঁধে রাখা সেই উদ্যাপনটা মাশরাফিরা করবেন কবে? আজ মঙ্গলবার ডাম্বুলায় দ্বিতীয় ম্যাচেই হবে? নাকি অপেক্ষায় থাকবে হবে ১ এপ্রিল, সিরিজের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত?
মাশরাফিদের হাবভাব এবং কথাবার্তায় পরিস্কার, ১ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি নন তারা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ কীর্তিটা তারা গড়ে ফেলতে চাইছেন আজ মঙ্গলবার ডাম্বুলায় দ্বিতীয় ম্যাচেই। মনের কোণে খুব যতœ করে সাজিয়ে ফেলা স্বপ্নটাকে ডাম্বুলা থেকে কলম্বোর ভ্রমণ ক্লান্তিকে ফেলতে চাইছেন না তারা। কিন্তু শুধু চাইলেই তো হবে না। রঙিন সুতোয় গাথা স্বপ্নটাকে মুঠোয় পুরতে মাঠের লড়াইয়ে ঢেলে দিতে হবে সামর্থের সেরাটা। প্রথম ম্যাচে সেটা করা গেছে। এখন প্রয়োজন শুধু পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখা।
সেজন্য সবার আগে কী করতে হবে? উত্তরটা দিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ডাম্বুলায় দ্বিতীয় ম্যাচ শুরুর আগে সতীর্থ ব্যাটসম্যানদের কাছে মাশরাফির চাওয়া, সেট হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যানরা যেন নিজেদের ইনিংসটাকে টেনে নিয়ে যান অনেক দূর। ঠিক যেভাবে ৫০ পেরোনো ইনিংসগুলোকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেন বড় দলগুলোর ব্যাটসম্যানেরা।
বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের এটা আসলে বড় এক সমস্যা। সেট হয়ে যাওয়ার পরও ৫০, ৬০, ৭০ রানে পৌঁছানোর পর বাজে শট খেলে আউট হয়ে যান। হাফসেঞ্চুরি ইনিংসকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেয়ার সক্ষমতা খুব কম! আশার কথা, প্রথম ম্যাচে ওপেনার তামিম ইকবাল লম্বা ইনিংস খেলতে পেরেছেন। তাকে ১২৭ রানের ইনিংস খেলার পথে তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন সাব্বির রহমান ও সাকিব আল হাসান। এই তিনজনের ব্যাটে চড়েই বাংলাদেশ পেয়ে যায় ৩২৪ রানের বিশাল পুঁজি। মাশরাফি চান দ্বিতীয় ম্যাচেও সেট হওয়ার পর ব্যাটসম্যানরা যেন বড় ইনিংস খেলেন, ‘বিদেশের মাটিতে ব্যাটিংই আমাদের বড় শক্তির জায়গা। আমাদের চাওয়া আমাদের ব্যাটসম্যানরা যেন ৫০ থেকে ৭০ পেরোনোর পর ইনিংসটাকে লম্বা করতে পারে।’
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ভাবনাটা দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট নিয়ে। প্রথম ম্যাচের উইকেট শক্ত, ঘাস ছিল কম। তাতে হেরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া লঙ্কানরা যে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘাসের উইকেটই চাইছেন, সেটা এরই মধ্যে স্পষ্ট। প্রথম ম্যাচের হারের দলে দুজন পেসারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে লঙ্কানরা। দলে ফিরিয়ে এনেছে অভিজ্ঞ পেসার নুয়ান কুলাসেকারাকে। উইনিং কম্বিনেশন ভেঙে বাংলাদেশ দলেও তাই পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত। মাশরাফি বলেছেন, ‘আমরা ২০১৫ সালে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে উইনিং কম্বিনেশন ভেঙেছি। আগামী কালের উইকেট হবে সম্পূর্ণ আলাদা। কাজেই এ ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে।’ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও কাকে বসিয়ে কাকে নেয়া হবে সে ব্যাপারে কিছুই বলেন নি মাশরাফি। আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন উইকেট দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দল যেভাবেই গড়ুন লক্ষ্য একটাই জয়। আরেকটা জয় ছিনিয়ে এনে মাশরাফিরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে সিরিজ জয়ের উদ্যাপনটা করতে পারবেন তো? নাকি রঙিন সুতোয় বাঁধা স্বপ্নটা মিলিয়ে যাবে হাওয়ায়? মাশরাফি এবং তার দলের অন্দর মহলের কথা বাদ দিন। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মনও ‘হবে হবেই’ করছে। তবে আশাবাদী মনের উল্টো পিঠে খুব চিকন সুরে হলেও একটা শঙ্কার সুর কিন্তু বাজছেই! লঙ্কানদের বিপক্ষে এর আগে কখনোই যে ওয়ানডে সিরিজ জেতা হয় নি বাংলাদেশের।-পরিবর্তনডটকম