আজও সর্বাত্মক হরতাল পালিত

আপডেট: মার্চ ৪, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



৪ মার্চ, ১৯৭১ : পূর্ব বাংলার মানুষ অভূতপূর্ব সাড়া দিয়ে আজও সর্বাত্মক হরতাল পালন করলো। বাঙালিরা তাদের সমস্ত ঘৃণার আগুন পাকিস্তানিদের দিকে ছুঁড়ে দিলো। ক্ষুব্ধ জনতার সাথে সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষ হলো। গত দু’দিনে নিহত হল: ১২১ জন স্বাধীনতাকামী মানুষ। রাজধানী ঢাকায় হরতালের তৃতীয় দিনে সান্ধ্য আইন তুলে নেয়া হলেও দেশব্যাপী হরতালের দ্বিতীয় দিনে খুলনা ও রংপুরে সান্ধ্য আইন বলবৎ থাকে। সর্বাত্মক হরতালের ফলে সারা পূর্ব বাংলা অচল হয়ে পড়ে। দৌলতপুরে একটি বাড়ি থেকে মিছিলের উপর বোমা নিক্ষিপ্ত হলে সে বাড়ির মালিক জনতার হাতে নিহত হয়। খুলনায় টেলিফোন এক্সচেঞ্জের কাছে সেনাবাহিনীর গুলিতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়।
এদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শোষণ ও উপনিবেশবাদী শাসন অব্যাহত রাখার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানে সাড়া দেয়ায় বীর জনতাকে অভিনন্দন জানান। তিনি যে কোন মূল্যে স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
বঙ্গবন্ধু এক বিবৃতিতে জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, চরম ত্যাগ স্বীকার ছাড়া কোনো দিন কোনো জাতির মুক্তি অর্জিত হয়নি। তিনি বলেন, বিশ্ববাসী দেখুক, বাংলাদেশের নিরস্ত্র ছাত্র-শ্রমিক-জনতা বুলেটের মুখে কী দূরান্ত সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে তাদের অধিকার হরণের চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এদিন এক বিবৃতিতে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ কোটি বাঙালির দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বাঙালির দাবিকে যদি উপেক্ষা করা হয় তবে শুধু কয়েকটি শহরেই নয়-বাংলাদেশের ৬২ হাজার গ্রামে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির বাঙালি যে কোন ত্যাগের বিনিময়ে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করবে। সরকার যেভাবে গণহত্যা ও বাঙালিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য নানা কৌশলের আশ্রয় নিতে শুরু করেছে, তার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।’
বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে গণহত্যায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে বয়োঃবৃদ্ধ মওলানা ভাসানী বলেন, ‘আমি কংগ্রেস খেলাফত, মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ ও ন্যাপের মাধ্যমে আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমার ৮৯ বছর বয়সে এবারকার মত গণজাগরণ এবং সরকারের অগণতান্ত্রিক ঘোষণার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ বিক্ষোভ আর দেখিনি। পূর্ব পাকিস্তানকে মুক্ত করার জন্য জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও নজিরবিহীন আত্ম চেতনার জন্য আমি জনসাধারণের প্রতি মোবারকবাদ জানাই।’
ওদিকে এই দিনে করাচী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তাহরিক-ই-ইশতিক বাল পার্টির প্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান ধ্বংসের মুখোমুখি দেশকে রক্ষার জন্য অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান। তিনি বলেন, “শুধু ক্ষমতা নয়-প্রকৃত ক্ষমতা তাদের দায়িত্বে অর্পণ করতে হবে।’
করাচীতে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রসঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তান জমিয়াতুল ওলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক গোলাম গাউস হাজাভী ১০ মার্চ ঢাকায় ঘোষিত ১২টি পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠকে যোগদান না করার জন্য শেখ মুজিবের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানান।