আজহারের শতক, বিদায়ী টেস্টে মিসবাহর অর্ধশতক

আপডেট: মে ১৩, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



ইউনুস খানকে ফিরতে হয়েছে দ্রুত। তবে ভীষণ মন্থর শুরু করা মিসবাহ-উল-হক পেয়েছেন অর্ধশতক। তাদের বিদায়ী টেস্টে আলো ছড়ানো আজহার আলি পেয়েছেন শতক।
রোস্টন চেইস, জেসন হোল্ডারের দারুণ বোলিংয়ে ডমিনিকা টেস্টে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস ৩৭৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিনের শেষ বেলায় ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট হারায়নি স্বাগতিকরা।
তৃতীয় টেস্টের শুরু থেকে উইন্ডসর পার্কের উইকেটে রানের জন্য ঘাম ঝরাতে হচ্ছে ব্যাটসম্যানদের। ১১ ওভার ব্যাট করে মোটে ১৪ রান করে স্বাগতিকরা। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৫ ও কাইরন পাওয়েল ৯ রানে অপরাজিত আছেন।
এর আগে ২ উইকেটে ১৬৯ রান নিয়ে বৃহস্পতিবারের খেলা শুরু করে শুরুতেই ইউনুসকে হারায় পাকিস্তান। হোল্ডারের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ার পর রিভিউ নিয়েও বাঁচেননি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
আগের টেস্টে শতক পাওয়া আজহারের সঙ্গে জুটি বাধা মিসবাহ নিজের প্রথম ৫১ বলে করেন ১ রান! ৫২তম বলে একটি চার হাঁকানোর পর রানের গতি খানিকটা বাড়ান অধিনায়ক।
মিসবাহর ১৪৮ বলের ইনিংস যেন তার ক্যারিয়ারের প্রতিচ্ছবি। থিতু হওয়ার পর মনোযোগ দিয়েছেন রানের গতি বাড়ানোর দিকে। বাজে বলে চড়াও হয়েছেন, নিজের জোনে বল পেয়ে উড়িয়েছেন সীমানার বাইরে।
মিসবাহর মন্থর ব্যাটিং কোনো প্রভাব ফেলেনি আজহার ব্যাটিংয়ে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান খেলে যান নিজের মতো করেই। লাঞ্চের আগেই ২৬৬ বলে পৌঁছান নিজের চতুর্দশ শতকে।
উইকেট থেকে দারুণ সহায়তা পাওয়া চেইসকে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে শেষ হয় আজহারের ধৈর্যশীল ইনিংস। ৩৩৪ বলে ১২৭ করতে এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান হাঁকান ৮টি চার ও দুটি ছক্কা।
চেইসের বল ঠেকানো কঠিন ছিল না, কঠিন ছিল তার বিপক্ষে রান করা। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে বল ফেলে স্টাম্পে টেনে আনা এই স্পিনারের বিপক্ষে রান করতে রিভার্স সুইপ, সুইপের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছিল অতিথি ব্যাটসম্যানদের।
চেইসের ওপর চড়াও হতে গিয়েই ফিরেন থিতু হওয়া আসাদ শফিক। যে বলে তিনি সীমানায় ক্যাচ দিয়েছেন সেই বল মিসবাহ উড়িয়ে নিয়ে ফেলেছেন গ্যালারিতে। তার আগে ১৪৪ বলে অধিনায়ক পৌঁছান অর্ধশতকে।
লেগ স্টাম্পের বাইরের বল এর আগে একবার রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লোভ সংবরণ করেন মিসবাহ। আবার সেই ফাঁদ পেতে সফল হন চেইস। অফ স্পিনারের বলে ব্যাটের কানায় লেগে আসা ক্যাচ দারুণ দক্ষতায় গ্লাভসে নেন শেন ডাওরিচ। উইকেটরক্ষকের ভুলেই শূন্য রানে জীবন পেয়েছিলেন মিসবাহ।
এক সেশনে ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে সাড়ে তিনশ রানের আগেই থামানোর আশা জাগিয়েছিলেন হোল্ডার। তৃতীয় সেশনের শুরুতে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আমির ও ইয়াসির শাহকে।
মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে দারুণ এক জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন সরফরাজ আহমেদ। তাতে ৩৫০ ছাড়ায় পাকিস্তানের সংগ্রহ।
চেইসের বোলিংকে এলোমেলো করে দিতে স্টাম্পে ছেড়ে লেগে অনেকটা দূরে দাঁড়ান পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক। সেটা কাজেও লাগে, ঠিক কোনো লাইনে বল করবেন সেটা যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না চেইস। নবম উইকেটে ৪৫ রানের জুটি গড়েন সরফরাজ-আব্বাস। এতে পাকিস্তানের ১০ নম্বর ব্যাটসম্যানের অবদান মাত্র ৩ রান।
অর্ধশতকে পৌছানোর পর লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুকে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় সরফরাজের ইনিংস।
এরপর বেশি দূর এগোয়নি পাকিস্তানের ইনিংস। দুটি চারে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন অভিষিক্ত হাসান আলি। বিশুর বলে আব্বাসকে স্টাম্পড করে ইনিংস গুটিয়ে দেন ডাওরিচ। চেইস ৪ উইকেট নেন ১০৩ রানে। অলরাউন্ডার হোল্ডার ৭১ রানে নেন ৩ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৪৬.৩ ওভারে ৩৭৬ (আজহার ১২৭*, মাসুদ ৯, বাবর ৫৫, ইউনুস ১৮, মিসবাহ ৫৯, শফিক ১৭, সরফরাজ ৫১, আমির ৭, ইয়াসির ০, আব্বাস ৪, হাসান ৮*; গ্যাব্রিয়েল ০/৬৭, জোসেফ ১/৬৪, চেইস ৪/১০৩, হোল্ডার ৩/৭১, বিশু ২/৬১)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১১ ওভারে ১৪/০ (ব্র্যাথওয়েট ৫*, পাওয়েল ৯*; আমির ০/৫, আব্বাস ০/২, ইয়াসির ০/৪, হাসান ০/৩)