‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২১, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।/তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে/কোরো না বিড়ম্বিত তারে।’ এভাবেই ঋতুরাজ বসন্তের বন্দনা করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বসন্তকে উপলব্ধি করেছেন এভাবে ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক/ আজ বসন্ত।’ হ্যাঁ, গাছের শাখায় শাখায় রঙিন ফুলের পসরা সাজিয়ে, ঝরিয়ে দিয়ে মলিন পাতার রাশি, বসন্তকে বরণ করে নিতে সেজে উঠেছে প্রকৃতি। শুধু প্রকৃতিই নয় মানুষও তার সকল মলিনতাকে ঝরিয়ে সেজে উঠেছে প্রকৃতির আনন্দে। কারণ আজ শনিবার পহেলা ফাল্গুন, আজ বসন্তের প্রথম দিন।
ঠিক এক বছর পর আবার ফিরে এলো বসন্ত। এই বসন্ত রাঙিয়ে তুলে মানুষের জীবন, বাড়িয়ে তুলে তার কল্পনা। মানুষ সেই কল্পনার স্বাদ পেতে চায় ব্যক্তি জীবনেও। তাই সে নিজেকেও সাজিয়ে তুলে প্রকৃতির সাথে, অঙ্গাঙ্গিভাবে। সে নারী কিংবা পুরুষ, বৃদ্ধ কিংবা বৃদ্ধা কিংবা শিশু-কিশোর, সবাই নিজেকে সাজিয়ে তুলে প্রকৃতির সাজে ঠিক যেন কল্পনার আবেশে। নারী খোঁপায় ফুল বাঁধে, পরে বাসন্তী রঙের শাড়ি, কিংবা পুরুষ পরে লাল-হলুদের কম্বিনেশনে পাঞ্জাবি। শিশু-কিশোররা তাদের ইচ্ছামাফিক পরে ফতুয়া, ফ্রক কিংবা শাড়ি-পাঞ্জাবি, ঠিক প্রকৃতির রঙে।
শুধু নিজেকে সাজিয়ে তোলাই নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয় দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো, আড্ডা, হইচই আর গল্পগুজব। খাওয়া-দাওয়াও বাদ থাকে না। সারাদিনভরই উৎসবে মেতে উঠে পুরো নগরী। চলে শোভাযাত্রা, বাদ্য-ঢাকির তালে তালে নৃত্য, গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি কিংবা নাটক মঞ্চস্থ। দেখে মনে হয়, এ যেন প্রাণের মেলা। প্রাণ যেখানে খুঁজে পেয়েছে নিজেকে। তাইতো মেলে ধরবার কী ব্যাকুল প্রত্যাশা। তবে এবার অবশ্যই ব্যতিক্রম সময়। করোনানাভাইরাস এখনো ঝুঁকি হয়েছে বাংলাদেশে, দেশে দেশে। বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ও সমাবেশ নিয়ন্ত্রিত হতেই হবে। এটা ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্ব। কোনোভাবেই করেনাভাইরাসকে সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ দেয়া যাবে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই বসন্তবরণ করতে হবে।
উইকিপিডিয়া থেকে পাওয়া যায়, পহেলা ফাল্গুন বাংলা পঞ্জিকার একাদশতম মাস। ফাল্গুনের প্রথম দিন ও বসন্তের প্রথম দিন। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন পালিত হয়। বসন্তকে বরণ করে নিতে বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খ- ও ওড়িশ্যাসহ অন্যান্য রাজ্যে দিনটি বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়।