আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস || অঙ্গীকার হোক সর্বক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকার

আপডেট: মার্চ ৮, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নারী-পুরুষের সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্ব, কর্মে নতুন মাত্রা’।।
সমান’। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই প্রতিপাদ্য খুবই প্রাসঙ্গিক, যথার্থ ও সময়োপযোগী। নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা ও দারিদ্র্য বিমোচন নিশ্চিত করতে প্রাতিপাদ্যের  তাৎপর্য অনুধাবন ও  উদ্দেশ্য  অর্জনই মূল কথা। কেননা এই উদ্দেশ্য- সফলতার মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসনের ধারণা নিহিত রয়েছে। সন্দেহ নেই- বাংলাদেশের নারীরা জাগরণের ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে। পুরুষ এবং নারীর ঐক্য ধারাতেই জাগরণী বার্তা এখন তৃণমূলে প্ৗেছে যাচ্ছে। নারীদের মধ্যে সক্ষমতা অর্জনের আকাক্সক্ষা পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী। আর জাগরণ সৃষ্টিতে বর্তমান সরকারের একটি বড় ভূমিকা আছে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে এমনকী সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে নারীরা। সেখানে তাদের সক্ষমতা দেখাতে পেরেছে তারা। সরকার- প্রশাসনের সর্বত্রই নারীদের অভিগম্যতাকে নির্বিঘœ করতে কাজ করছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা পরিস্থিতিকে আমূল পাল্টে দিতে পারে- বাংলাদেশে নারীদের উত্থান সেই সাক্ষ্যই দিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও নেতৃত্বে নারী উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। নারীর ক্ষতায়নের বিষয়টিও বিশ্বের নজর কেড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, কূটনীতি, সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তিরক্ষা মিশনসহ সর্বক্ষেত্রে নারীর সফল অংশগ্রহণ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশকে এক নতুন সম্ভবনার সৃষ্টি করেছে। নারীর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের সফলতা নারীর ক্ষমতায়নে শক্ত ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেমন তেমনি বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আত্ম শক্তির এ এক নতুন জাগরণ, সমাজে নতুন ধারণার অভ্যুদয়।
এই  প্রত্যাশার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে সমঅধিকার সম্পন্ন একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ।
অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, নারীর পরিপূর্ণ মুক্তি ঘটে গেছে। একটি মহৎ উদ্দেশ্যের সূচনা হয়েছে মাত্র। এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মধ্য দিয়ে কাক্সিক্ষত লক্ষে নিতে হবে। সমাজে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব- পোষণ যথার্থই আছে। এগুলো মাঝে মধ্যেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠে- নারীকে অবদমিত রাখতে চায়, শৃঙ্খলে বাধতে চায়। মৌলবাদ- সাম্প্রদায়িকতা নারী উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শত্রু। এর বিরুদ্ধে দেশের মানুষের সংগ্রাম অব্যাহত আছে। গণতন্ত্র ও সুশাসন কায়েমের জন্য যেমন নারীর মুক্তি জরুরি- তেমনি নারীর মুক্তির জন্য মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করা খুবই জরুরি।
ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই কেবল নারী দিবসের যথার্থতা সমুন্নত রাখা সম্ভব হবে, সার্থক হবে।
যাঁদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠায় নারীর সমঅধিকার এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আজ সর্বব্যাপী হয়েছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নারী জাগরণের ওইসব অগ্রদূতদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
নারী দিবসে সব নারীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ