আজ ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সোসাইটি ডে

আপডেট: মে ১৭, ২০২২, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আজ ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সোসাইটি ডে।
১৮৬৫ সালের ১৭ মে প্রথম আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাফ ইউনিয়ন গঠিত হয়। পরে এটি ১৯৪৭ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন বা আইটিইউ নামে জাতিসংঘের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।

আইটিইউয়ের প্রতিষ্ঠা এবং প্রথম আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাফ সম্মেলন অনুষ্ঠানের নিদর্শনস্বরূপ ১৯৬৯ সালের ১৭ মে থেকে প্রতি বছর বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে ২০০৬ সাল থেকে দিবসটি বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে আইটিইউ-এর সদস্য পদ লাভ করে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ায় ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র স্থাপন করেন। এই উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সারাবিশ্বের সাথে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী ভিত্তি রচিত হয়।

২০১৭ সালের মধ্যেই কক্ষপথে বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপিত হয়েছে। যা দেশের টেলিযোগাযোগসহ তথ্য প্রযুক্তি খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ ২০০৯ সালে নতুন শপথে যাত্রা শুরু করে। তা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেশের মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা, ভিডিও কল, টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখাসহ নানাবিধ ই-সেবা পাচ্ছে। পার্বত্য জেলা ও সুন্দরবনসহ দুর্গম এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছে গেছে।

টেলিফোন শিল্প সংস্থা বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল টেলিফোন সেট উৎপাদনের পাশাপাশি ল্যাপটপ, মোবাইল, ব্যাটারি, মোবাইল ব্যাটারি চার্জার, প্রি-পেইড ইলেকট্রিক মিটার সংযোজন করে স্বল্পমূল্যে বাজারজাত করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড ২০১১ সাল থেকে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিম-লেও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে। তথ্য-প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের অবদান স্বরূপ ২০১১ সালে মর্যাদাপূর্ণ ‘সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০১৪ সালে সাউথ সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড লাভ করে বাংলাদেশ।

তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা প্রদানে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ আইটিইউ বাংলাদেশকে ২০১৪ সালে ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি’ পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিস অ্যালায়েন্স, মেক্সিকো থেকে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ডব্লিউআইটিএসএ-২০১৪ গ্লোবাল আইসিটি অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।

বর্তমানে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। দেশের সকল উপজেলায় অপটিক্যাল ফাইবার কানেকটিভিটি এবং সকল জেলায় ‘জেলা তথ্য বাতায়ন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জাতীয় ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
পঁচিশ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়েব পোর্টাল ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ চালু আছে বাংলাদেশে।

ই-কমার্স, ই-লেনদেন, ই-গভর্নেন্স চালু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের স্ব স্ব ওয়েবসাইটে ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহার শুরু করেছে। ভিডিও কনফারেন্সিঙের মাধ্যমে পারস্পারিক যোগাযোগকে দ্রুত ও সহজতর হয়েছে।

ডিজিটাল ব্যবস্থপনার জন্যই দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক যোগাযোগসহ প্রতিটি খাতে অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও বেসরকারি ব্যবসা সম্প্রসারণের ফলে তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে একটি বড় শক্তি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ