আজ জানা যাবে ‘ফজলি আম’র পরিচয়

আপডেট: মে ২৪, ২০২২, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আজ জানা যাবে ‘ফজলি আম’র পরিচয়। ফজলি আম দেশের কোন অঞ্চলের তা স্পষ্ট হবে। যদিও অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে ফজলি আমের। তাতে প্রমাণ মিলবে ফজলি আসলে রাজশাহীর না চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম। এনিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মে) শিল্প মন্ত্রণালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এতেই জানা যাবে ফজলি আমের পরিচয়।

জানা গেছে- গত বছরের ৬ অক্টোবর আমের রাজা খ্যাত ফজলিকে রাজশাহীর নিজস্ব পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জার্নাল প্রকাশ করে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর। এতে আপত্তি জানায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশন। তারা ফজলি আম নিজেদের অঞ্চলের দাবি করে। এতে ফজলি আমের জিআই সনদ আটকে যায়।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র জানায়, ২০১৭ সালের প্রথম দিকে বাঘার ফজলি আম-রাজশাহীর জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে তার জন্য আবেদন করে এই ফল গবেষণা কেন্দ্র। যাচাই-বাছাই শেষ গত বছরের ৬ অক্টোবর বাঘার ফজলি আমকে রাজশাহীর নিজস্ব পণ্য হিসেব স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মূলত এরপরই বিপত্তি বাধে।

এদিকে, রাজশাহীর বাঘার ফজলি আমের ইতিহাস জানতে পুরনো কাগজপত্র খুঁজে ১৯১২ থেকে ১৯২২ পর্যন্ত করা সার্ভে অ্যান্ড সেটেলমেন্ট অপারেশনস ইন দি ডিস্ট্রিক্ট অব রাজশাহীর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে ‘দি বাঘা ম্যাংগো’ বা বাঘার আম লেখা আছে। যা কলকাতায় বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।

রাজশাহীর ফল গবেষক ড. হাবিবুল আলম বলেন, বাঘায় ৫০০ বছর আগে নির্মিত এই ঐতিহাসিক মসজিদের অংশে টেরাকোটার কারুকাজে যে আম, যে সাইজ বা আকৃতি রয়েছে তা ফজলি আমেরই প্রতিকৃতি। এর সঙ্গে রাজশাহীর কোনো আমের মিল নেই।

আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশন আমের যে জাতের কথা বলেছে, তার সঙ্গে রাজশাহীর বাঘার ফজলির অনেক পার্থক্য রয়েছে। ওই আমটি ভারতের মালদহের। আর ওই ফজলি ‘মালদহের ফজলি’ হিসেবে অনেক আগেই জিআই সনদ পেয়ে গেছে। মূলত এই মালদহের জিআই সনদ প্রাপ্তির মধ্যেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আমের স্বত্ব হারিয়েছে।

কেবল শুধু খাতা-কলমেই নয়, ভৌগলিক পরিচয় নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে রাজশাহীর বাঘার ‘ফজলি আমের ডিএনএ’ নমুনা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছে। যা ফল শনাক্তের ইতিহাসেও বিরল।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. আলীম উদ্দীন বলেন, ফজলি আম রাজশাহীর বাঘা উপজেলারই আম। ভৌগলিক সীমানা নির্ধারণ ছাড়াও ফজলি আমের ডিএনএ সিকোয়েন্স জমা দেওয়া হয়েছে। জমা দেওয়া হয়েছে- এর ইতিহাস ও সংস্কৃতিও।

কাজেই ফজলি রাজশাহীরই আম। আর তাই ফজলি রাজশাহীর পণ্য হিসেবে জিআই সনদ পাওয়ার অধিকার রাখে। মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে শুনানি হবে। তাতেই পরিস্কার হয়ে যাবে ফজলি আমের পরিচয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ