আজ থেকে রোহিঙ্গা নিবন্ধন শুরু

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ! এ কান্না থামবে কি?-সংগৃহীত

রাখাইন রাজ্যে জাতিগত সহিংসতা শুরুর পর জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের মাধ্যমে পরিচয়পত্র দেবে সরকার। আজ সোমবার থেকে এই নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। রবিবার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বৈঠকে জানানো হয়, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ে ২ হাজার একর জমির ওপর একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। কুতুপালংয়ে হবে নতুন ৬টি ক্যাম্প। এখানেই থাকবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা সব রোহিঙ্গা। সরকারের হিসাবে এ সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৯০ হাজার।
এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য গড়ে তোলা ৬টি ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকবেন উপসচিব পদ মর্যাদার ৬ কর্মকর্তা। সরকারের জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যেই ৬ উপসচিবকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে ওই ৬ কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই কুতুপালংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে গেছেন। তারা আজ সোমবার থেকে দায়িত্বে যোগ দেবেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ছবিসহ তালিকা করা হবে। তালিকায় তাদের নাম, মিয়ানমারের যে এলাকা থেকে এসেছে, সেই স্থানের নাম, ছবি ও সম্ভব হলে তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংযুক্ত করা হবে। সেই তথ্য সংবলিত পরিচয়পত্রও থাকবে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের। পরিচয়পত্র দেখিয়ে একজন রোহিঙ্গা নাগরিক সব ধরনের আন্তর্জাতিক সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। পরিচয়পত্র ছাড়া রোহিঙ্গারা কোনও সহায়তা পাবে না বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশি কোনও নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া ওই ক্যাম্পে যেতে পারবেন না।
এ দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজ করা হবে। সঠিক হিসাব রাখতে রোহিঙ্গাদের তালিকা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’
মায়ানমারের রাখাইনে চলমান সহিংসতা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তের ওপার হতে বাংলাদেশ ভূখ-ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশে কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রোহিঙ্গা সেল অনুপ্রবেশ সম্পর্কিত প্রতিদিনের তথ্য দিচ্ছে। উপসচিব (রাজনৈতিক-১) আবু হেনা মাস্তফা জামানকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করে দশটি নির্ধারিত বিষয়ে কাজ করতে রোহিঙ্গা সেল গঠন করা হয়েছে।
৫ সেপ্টম্বর আবু হেনা মোস্তফা জামান স্বাক্ষরিত এক আদেশে (স্মারক নং- ৪৪.০০.০০০০.০৭৪.০৩.০১৮.১৫ (অংশ-২)-৫০৬) জানানো হয়, অতিরিক্ত সচিব মো. সামছুর রহমান সেলের প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকায় থাকবেন। সেল থেকে যে কাজগুলো করা হবে সেগুলো হলা, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত প্রতিদিনের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, পুশব্যাকের তথ্য, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের শুমারির (বায়োমেট্রিকসহ) সর্বশেষ অগ্রগতি দেখা, সন্নিহিত সীমান্তবর্তী এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত সরকারি বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার গৃহীত কার্যকম সম্পর্কে অগ্রগতির তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ। এই সেল একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশ অংশে বিদেশ ও আন্তর্জাতী সংস্থার প্রতিনিধিদের কর্মকা-ের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে। একইসঙ্গে মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বর্তমান রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গার সংখ্যা কমবেশি ৩৪ হাজার। তবে নতুন রোহিঙ্গা শুমারি অনুযায়ী, দেশে রোহিঙ্গা সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। আর মিয়ানমারে সাম্প্রতিক হামলার কারণে নতুন করে আরও প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। এর ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ