আজ থেকে শুরু দুর্গোৎসব কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সাজ সাজ রব নগরীজুড়ে

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০২২, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আজ শনিবার (১ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচদিন ব্যাপি এই উৎসব। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেবীর বোধন সম্পন্ন হয়েছে। দুর্দোৎসবকে সামনে রেখে সাজ সাজ রব নগরীজুড়ে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

পৃথিবীর মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার গজে (হাতি) চড়ে কৈলাশ থেকে মর্ত্যালোকে (পৃথিবী) আসবেন। অন্যদিকে কৈলাশে (স্বর্গে) বিদায় নেবেন নৌকায় চড়ে। দুর্গা শব্দের অর্থ হলো ব্যুহ বা আবদ্ধ স্থান। যা কিছু দুঃখ কষ্ট মানুষকে আবদ্ধ করে। যেমন বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ, শোক, জ্বালা, যন্ত্রণা এসব থেকে তিনি ভক্তকে রক্ষা করেন। শাস্ত্রকাররা দুর্গার নামের অন্য একটি অর্থ করেছেন। দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।

হিন্দু পূরাণ মতে দুর্গাপূজার সঠিক সময় হলো বসন্তকাল কিন্তু বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ এবং বৈশ্য সমাধি বসন্তকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতেই দেবীকে অসময়ে জাগ্রত করে পূজা করেন। সেই থেকে অকাল বোধন হওয়া সত্ত্বেও শরত কালে দুর্গাপূজা প্রচলিত হয়ে যায়।

উইকিপিডিয়া সূত্র মতে, রাজশাহীর তাহিরপুরের রাজা কংস নারায়ণ কর্তৃক নির্মিত মন্দিরটি প্রচীন। তিনি ১৪৮০ খ্রিষ্টাব্দে (৮৮৭ বঙ্গাব্দ) এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। কথিত আছে মন্দিরটি অসুরের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির লক্ষে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এবং এর পর থেকে এ উপমহাদেশে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাউৎসবের শুরু। জনশ্রুতি আছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশ এর প্রথম দুর্গা পূজা উৎসব উদ্যাপন এখান থেকেই শুরু হয় (কিন্তু তার পূর্বেও প্রভু রামচন্দ্র অকালবোধন শুরু করেন)। এবং উপমহাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

রামকৃষ্ণ মিশনের নির্ঘন্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বাসস জানায়, শনিবার ৭:৩০ মিনিটে সায়াংকালে কল্পারম্ভ এবং বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে উৎসবের প্রথম দিন ষষ্ঠী পূজা সম্পন্ন হবে। এদিন সকাল থেকে চন্ডিপাঠে মুখরিত থাকবে সকল মন্ডপ এলাকা।

রোববার উৎসবের দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৬:৩০ মিনিটে। সোমবার মহাঅষ্টমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯: ৩০ মিনিটে এবং বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। সন্ধিপূজা শুরু হবে বিকাল ৪:৪৪ মিনিটে এবং সমাপন বিকাল ৫:৩২ মিনিটের মধ্যে। মঙ্গলবার সকাল ৬:৩০ মিনিটে শুরু হবে নবমী পূজা। পুস্পাঞ্জলি সকাল ১০: ৩০ মিনিটে। পরদিন বুধবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৬:৩০ মিনিটে দশমী পূজা আরম্ভ, পুস্পাঞ্জলি সকাল ৮টায় এবং পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন হবে সকাল ৮:৫০ মিনিটের মধ্যে। সন্ধ্যা-আরাত্রিকের পর প্রতিমা বিসর্জন ও শান্তিজল গ্রহণের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনব্যাপি এ উৎসবের।

রাজশাহীতে এবার ৪৫০ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। এরমধ্যে নগরীতে ৭৫ টি। নগরীর ৭৫ টি মন্ডপের মধ্যে অতিগুরুত্বপূর্ণ ২৮ টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩৬ টি এবং সাধারণ মন্ডপ রয়েছে ৩১ টা।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক জানান, রাজশাহী মহানগরী সম্প্রীতির শহর, শান্তির শহর। এখানে পূর্বে কোন দিন সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় নি, আগামীতেও হবে না। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সৌহার্য্য ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে উদযাপন এবং পূজা চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ নগরীর আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। পোশাকে, সাদা পোশাকে পুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী মহানগর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, নগরীজুড়ে এখন সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। সবাই উৎসবের আমেজে মজেছে। রাজশাহীজুড়ে অন্যান্যবারের চেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যা নিয়ে হিন্দু ধর্মবলম্বীরা খুশি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, সারাদেশে এবছর ৩২ হাজার ১৬৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। গত বছর সারাদেশে দুর্গাপূজার সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১১৮টি। এবার ৫০টি বেশি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ