আজ পঁচিশে বৈশাখ

আপডেট: মে ৮, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আজ পঁচিশে বৈশাখ ১৫৬তম জনমবার্ষিকী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে তিনি জোড়াসাঁকাের ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
জন্মের এতবছর পরেও তিনি বাঙালির জীবনে প্রবাদের মত আছেন , আরো কয়েকদশক পরেও থাকবেন। তিনি চির নতুনের কবি, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কবি। মৃত্যুহীন অনন্ত জীবনের স্বাক্ষর বয়ে যাবেন যুগ থেকে যুগান্তরে।
রবীন্দ্রনাথ বাংলার কবি, বাঙালির কবি তবে তিনি নিজেকে বিশ্বচরাচরের অংশ হিসাবে বিশ্বাস করতেন। বাঙালিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, তুমি নিছক বাঙালি নও, তুমি বিশ্বচরাচরের অংশ।
‘সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রেমের মধ্যে বাঁচতে বলেছেন রবীন্দ্রনাথ। সঙ্গে যুক্ত করতে বলেছেন প্রাণিজগৎ, নিসর্গ, প্রকৃতিকে । শুধু তাই নয়, শিল্পের জগৎ, কল্পনার জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের বিস্তার ঘটাতে বলেছেন ।
রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো হে বন্ধ। সঞ্চার করো সকল কর্মে শান্ত তোমার ছন্দ। চরণপদ্মে মম চিত নিস্পন্দি করো হে। নন্দিত করো, নন্দিত করো, নন্দিত করো হে ।’
প্রতিবছরের মত নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নোবেল বিজয়ী এই বাঙালি কবিকে স্মরণ করছে তার অগুনিত ভক্তরা। শুধু দুই বাংলার বাঙালিই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলা ভাষাভাষী কবির জন্মবার্ষিকীর দিবসটি পালন করছে হৃদয় উৎসারিত আবেগ ও শ্রদ্ধায়।
একশ বছরেরও বেশি আগে বাঙালি পাঠকদের প্রতি রবীন্দ্রনাথের জিজ্ঞাসা ছিল ‘আজি হতে শতর্বষ পরে / কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি / শত কৌতুহল ভরে / অথবা, আজি হতে শতর্বষ পরে / এখন করিছো গান সে কোন্ নুতন কবি / তোমাদের ঘরে !
কবির আশংকার জবাবে বলা যায়, শত বছর পরে এখন অনেক নতুন কবি এসেছেন, নব নব সৃষ্টিতে প্রতিনিয়ত স্ফীত হচ্ছে আমাদের সাহিত্য এবং সংগীতের ভুবন। তারপরেও আমাদের রবীন্দ্রনাথ মাত্র একজন। এখনকার নবীনদের সৃষ্টির উৎসও তিনি। এখনো জীবনের সবকিছুতে হাত বাড়াতে হয় রবীন্দ্রনাথে।
তাই কবির বসন্ত গান শতবছর পরেও ধবনিত হয় নবীন কবি আর পাঠকের বসন্ত দিনে।
কবির এই আশংকা যে আসলে অমূলক তার প্রমাণ এখনো ঘটা করে কবির জন্মদিন পালন । শুধু তাই নয় ছয় বছর আগে পালিত হয়েছে তার সার্ধশত জন্মবার্ষিকী। লাখো কন্ঠে গাওয়া হয়েছে তাঁর লেখা ‘আমার সেনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। আমাদের নানা সংকট-আনন্দ-বেদনায়, আশা-নিরাশার সন্ধিক্ষণে রবীন্দ্র সৃষ্টি আমাদের চেতনায় বরাবর স্পর্শ করছে এবং করবে অন্তত আরো একশ বছর পরেও- বাঙালি মাত্রেই তা বোধ হয় বলতে পারেন।
রবীন্দ্র নাথ প্রথম নোবেল বিজয়ী বাঙালি কবি । ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। কবির গান-কবিতা, বাণী এই অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তির ক্ষেত্রে প্রভূত সাহস যোগায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে শুধু নয়, চিরকালই কবির রচনাসমূহ প্রাণের সঞ্চার করে। আমাদের প্রতিটি সংগ্রামেই কবির চিরায়ত রচনাসমগ্র আজীবন স্মরণের র্শীষতায় আবিষ্ট হয়ে আছে।
তাঁর লেখা ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রেরণা যুগিয়েছিল তাঁর অনেক গান।- বাসস