আজ বাঘা ও চারঘাট উপজেলা নির্বাচন

আপডেট: জুন ৫, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ


বাঘা ও চারঘাট প্রতিনিধি:


সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আজ বুধবার (৫ জুন) ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইতোমধ্যে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন করে নির্বাচনি সরঞ্জাম প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে ভোট গ্রহণের সরঞ্জাম স্ব-স্ব কেন্দ্রে নিয়ে গেছেন।

বাঘা উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টা-বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬৯টি কেন্দ্রে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় নিয়ে বাঘা উপজেলা পরিষদ গঠিত। মঙ্গলবার (৪ জুন) ভোট গ্রহণের সরঞ্জাম নির্বাচন অফিস থেকে গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্ব-স্ব কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে। ৬৯টি কেন্দ্রে ৬৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪৩০ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার, ৮৬০ জন পোলিং অফিসার ভোট গ্রহণ করবেন। শান্তিপুর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য পুলিশ ও আনছার ১ হাজার ১২২ জন, ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থীর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু (মোটরসাইকেল) এবং জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রোকনুজ্জামান রিন্টু (আনারস) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান নিপন (বই), বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস আলী (টিয়াপাখি) এবং মেহেদী হাসান (টিউবয়েল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি ফাতেমা খাতুন লতা (কলস), সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা রুমি (প্রজাপতি) এবং উপজেলা মহিলা লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিনা খাতুন (ফুটবল)।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারি রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র নির্বাচনী সরাঞ্জম সরবরাহ করা হয়। উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৩। এর-মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৩ হাজার ৭ এবং নারী ভোটার ৮২ হাজার ৬৫৬ জন।

এদিকে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪র্থ ধাপের নির্বাচনে রাজশাহীর চারঘাটে বুধবার (৫ জুন) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী অংশ গ্রহণ না করায় লড়াই হবে আওয়ামীলীগের সঙ্গে আওয়ামীলীগের। অন্য কোনো দলের প্রার্থী অংশ গ্রহণ না করলেও আওয়ামীলীগের তিন হেভিওয়েট প্রার্থী লড়ছেন চেয়ারম্যান পদে। তারা হলেন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ ফকরুল ইসলাম (আনারস)।

তার শক্ত প্রতিদন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া বিপ্লব (ঘোড়া) প্রতীক ও চারঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুল হাসান মামুন (মোটর সাইকেল) প্রতীক। এবারের নির্বাচনে লড়াই হবে ত্রিমুখী বলে ধারণা স্থানীয় ভোটারদের।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তবে দলীয় বেশিরভাগ নেতাকর্মী বর্তমান চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলামের পক্ষে মাঠে ময়দানে কাজ করলেও সাবেক সাংসদ আলহাজ¦ রায়হানুল হক মাঠে ময়দানে ছুটছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়ার পক্ষে। অপরদিকে অপর প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদুল হাসান মামুন (মোটর সাইকেল) প্রতীক নিয়ে সাবেক ও বর্তমান আওয়ামীলীগ, যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটের মাঠে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সার্বিক দিক দিয়ে এবারের চারঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লড়াই হবে ত্রিমুখি।

চারঘাট উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১লাখ ৮০ হাজার ৪০৩ জন। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্ষন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোট গ্রহন। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সকল প্রস্ততি,কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং অফিসার সাইদা খানম জানান, ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সকল প্রস্ততি, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। ৬৩ টি ভোট কেন্দ্রে শান্তি পূর্ণভাবে ভোটাররা ভোট দিতে পারেন এ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৭ জন, মোবাইল টিম ৭টা, বিজিবি টিম ৪টা, র‌্যাব টিম ২টা, পুলিশ স্ট্রাইকিং ফোর্স ২টা ও আনসার-ভিডিপি ৯৫৭ জন অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোটারা ভোট দেয়ার লক্ষে স্থানীয় আইন শৃংখলা বাহিনী নিয়েছে নিচ্ছ্রিদ্র নিরাপত্তা বলয়। এরপরেও ৬৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রকেই গুরুত্ব ঝুঁকিপুর্ণ ভোট কেন্দ্র হিসেবে চিহিৃত করেছেন প্রশাসন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version