আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস পর্যটন শিল্প অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে।
পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া এ দিবসের লক্ষ্য। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) উদ্যোগে ১৯৮০ সাল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো-‘পর্যটনে নতুন ভাবনা’।
পর্যটন শিল্প বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি শ্রমঘনখাত। বাংলাদেশে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। এখন এই শিল্পের বিকাশে সরকার নানামুখি উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে। সারাদেশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সম্ভবনাগুলো তালিকাভুক্ত হচ্ছে যা সংবদ্ধভাবে উপস্থাপিত হবে।
মানুষ জানতে চায়। এ জানার বাসনাই মানুষকে স্থানান্তরিত হতে শিখিয়েছে। নানা কৌতুহলি দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা জীবিকার প্রয়োজনে হলেও মানুষ প্রকৃতির কাছ থেকে নতুন নতুন পাঠ গ্রহণ করেছে। মানুষের জানার এই ইচ্ছেই এই বিশ্বে শুধুই বিনোদনের চাহিদা নয় অর্থনৈতিক চাহিদাকেও প্রবল করে তুলেছে। এ থেকেই গড়ে উঠেছে পর্যটন শিল্প।
২০২৫ সালের মধ্যে পর্যটন শিল্পের সর্বোচ্চ বিকাশে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পুরো দেশকে আটটি পর্যটন জোনে ভাগ করে প্রতিটি স্তরে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথমবারের মতো সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পর্যটন শিল্প বিকাশে অবারিত সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশে। বিদেশি পর্যটকনির্ভরতা ছাড়াও দেশের পর্যটক নিরাপত্তা, যোগাযোগের সুবিধা, আকর্ষণীয় অফার দিলে মানুষ আগ্রহ নিয়ে দেশ ঘুরে দেখতে চাইবে। এক হিসাবে বলা হয়, ১৬ কোটির বেশি মানুষ, গড়ে প্রতি বছর ১০ ভাগও যদি দেশ ঘুরে দেখে তাহলে বিশাল অংকের অর্থনৈতিক তৎপরতা সৃষ্টি হবে। দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন করেছে পর্যটন শিল্প বিকাশের ফলে। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী সারা বিশ্বে ২০২০ সাল নাগাদ পর্যটন থেকে প্রতি বছর ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হবে। ২০৫০ সাল নাগাদ ৫১টি দেশের পর্যটক আমাদের দেশে আসবে। বাংলাদেশের জিডিপির ১০ শতাংশ পর্যটন খাত থেকে আয় করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের সৌন্দর্যে যুগে যুগে বহু পরিব্রাজক ও ভ্রমণকারী মুগ্ধ হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন সম্ভাবনা অপরিসীম। আমাদের রয়েছে সুবিশাল সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, জলপ্রপাত, প্রতœতত্ত্বের প্রাচুর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শনসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান; যা পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য যথেষ্ট। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি আমাদের দেশকে পরিণত করেছে একটি বহুমাত্রিক আকর্ষণসমৃদ্ধ অনন্য পর্যটন গন্তব্যে, বাংলাদেশকে গড়ে তুলছে পর্যটকদের জন্য তীর্থস্থান হিসেবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ