আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস আইন ও নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০২২, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস। প্রবীণ ব্যক্তিরা যাতে পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের কাজে সমমর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে নির্বিঘœ ও আনন্দময় জীবন অতিবাহিত করতে পারে সে উদ্দেশ্যে দিবসটি পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বাস্তবিক চিত্রটা বেশ আলাদা। প্রবীণরা সমাজ ও পরিবারের কাছে অনেকটাই- আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে অবহেলিত। দুঃসহ জীবনের ভার বইতে হয় তাদের। অথচ জন্মের সাথে মৃত্যুর সম্পর্ক যেমন তেমনি যৌবনপূর্ণ-সক্ষম মানুষকেও একদিন প্রবীণ হতে হবে। এটাই প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম। কিন্তু এটা ক’জনই বা মনে রাখে।
বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রবীণ। প্রতি বছরই প্রবীণ দিবসে নতুন নতুন প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এর কতটুকু প্রয়োগ করা হয়? প্রকৃতপক্ষে পরিবার ও সমাজে প্রবীণদের বোঝা মনে করা হয়। তাদের সম্মান, মর্যাদা কিংবা কষ্টের কথা কেউ ভাবেন বলে মনে হয় না। অথচ প্রবীণদের মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনগুলো তাদের সঙ্গে নিয়ে চলতে পারলে পরিবার, সমাজ, সর্বোপরি দেশ অনেক বেশি উপকৃত হতে পারতো। উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম না থাকায় এ দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছে। তারা জীবনধারণের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছেন।
এক সমীক্ষায় জানা যায় পারিবারিক সহায়তা, পেনশন ও বয়স্কভাতার আওতাধীন প্রবীণ ছাড়াও দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রবীণ জনগোষ্ঠী অবহেলা ও অযতেœর শিকার। এ জনগোষ্ঠী তাদের জীবনের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে অক্ষম। ফলে অনেকেই পরিবারের সদস্য দ্বারা নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন কেউবা ভিক্ষাবৃত্তির মতো পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাষ্ট্র কোনোভাবেই প্রবীণদের দায় এড়াতে পারে না। পরিবারের অবহেলা বা সক্ষমহীনতা থাকলেও রাষ্ট্রের ভূমিকা থাকতেই হবে। অবশ্য দেশের সরকার সে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু দায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবহেলা ও উদাসীনতাও রয়ে গেছে। বিশ্বের অনেক দেশসহ সার্কভুক্ত কোনো কোনো দেশে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। এদিক থেকে আমাদের দেশ এখনও পিছিয়ে আছে। সরকার বয়স্ক ভাতা চালু করেছে বটে তা কোনোভাবেই সমগ্র প্রবীণের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পারছে না। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো- প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা-২০১৩ এবং পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩ প্রণয়ন। কিন্তু এ আইন ও নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন তেমনভাবে হচ্ছে না।
বিপুলসংখ্যক এ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘ তাগিদ দিয়েছে। বিগত বছরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় বিশ্ব অর্থনীতির পাঁচটি ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। এ পাঁচটি ঝুঁকির একটি হচ্ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠী। এই ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হলে আইন ও নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন চাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ