আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

আপডেট: মার্চ ২৬, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। একই সাথে আমাদের মহান স্বাধীনতার ৪৬ বছর পূর্ণ হল।
৪৬ বছর পূর্তি হওয়ায় দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। স্বাধীনতাবিরোধী ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে অনেকের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর যুদ্বাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের দাবিতে দেশের তরুণ প্রজন্ম যেভাবে সোচ্চার হয়েছে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আজ সরকারি ছুটি। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সরকারি বেসরকারি সংস্থা এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিস্তারিত কর্মসূচি পালনের মধ্য দিবসটি উদযাপন করছে।
দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, দীর্ঘ ৯ মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে।
১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নির্বিচারে বাংলার বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।
সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোন মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মূহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
এরপরই শুরু হয় বাঙালি জাতির মরণপণ যুদ্ধ। অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ, ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশমাতৃকার মর্যাদা রক্ষার যুদ্ধ, স্বাধীনতার যুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতি বিজয় অর্জন করে। এই স্বাধীনতার জন্য জাতিকে প্রচুর মূল্য দিতে হয়েছে। স্বাধীনতার জন্য বিশাল আত্মত্যাগের ইতিহাস পৃথিবীতে আর কোন জাতির আছে? ৩০ লক্ষ শহিদের আত্মদান আর চার লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে আজকের এই প্রিয় স্বদেশ অর্জিত হয়েছে। একাত্তরের ৯ মাসে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশিয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী সোনার বাংলাকে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করেছিল। লুটে নিয়েছিল ধন-সম্পদ। জ্বালিয়ে- পুড়ে ছারখার করেছিল জনপদ থেকে জনপদ।
ওই হিং¯্র-পিশাচদের প্রেতাত্মারা এখনো বাংলাদেশে আছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ মানুষের বিভেদের সুযোগ নিয়ে ওই দানবেরা ভীষণ মাথা চাড়া দিয়েছিল। কিন্তু বাংলার মানুষ ওদের বরদাস্ত করেনি। প্রতিরোধেই জবাব দেয়া হয়েছে। নতুন প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ- মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে আর কোনো কথা নয়, আর কোনো কর্মকাণ্ড-তৎপরতা নয়। সেই দুর্জয় শপথে উচ্ছ্বল- উদ্যম তারুণ্যের অগ্রযাত্রায় সামিল জাতি।