আজ মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ || একে অন্যের পিঠ চাপড়ালেন দুই অধিনায়ক!

আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০১৭, ১১:০১ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার বহুল প্রতিক্ষিত সিরিজ শুরু হচ্ছে আজ রোববার। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় শুরু হবে ম্যাচ। ভেতরে ভেতরে লড়াই চলছে। টস দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ টস থেকে শুরু করে ম্যাচের ১৫টি সেশনই নিজেকে একে অন্যের থেকে এগিয়ে রাখতে চাইবেন। তবে সেই যুদ্ধ শুরুর আগে শনিবার বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেন একে অন্যের পিঠ ছাপড়ে দিলেন! প্রশংসায় ভাসালেন একে অন্যকে। যুদ্ধের আগে মিরপুর স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনকক্ষ সাক্ষী হলো ক্রিকেট সৌহার্দ্যের অপূর্ব বন্ধনের।
ক্রিকেটের এই সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বলা হয় স্টিভ স্মিথকে। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর। মুশফিকের চোখে ব্যাটসম্যান স্মিথ তো টেস্টে নাম্বার ওয়ান বটেই, এমনকি অধিনায়ক হিসেবেও,‘আমি ওকে টেস্টের এক নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে দেখি। উপমহাদেশের কথা যদি বলেন, টেস্টে অসাধারণ রেকর্ড স্মিথের। আর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়করা যেমন হয়- আগ্রাসী। ওকে আমি প্রো-অ্যাক্টিভ অধিনায়ক বলবো।’
মুশফিকের মুখে এমন প্রশংসা পেশাদার স্মিথের মুখেও কিছুটা হাসি ফোটায়। মুশফিক তাকে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছেন। এই মুশফিকের নাম কিন্তু গত জুনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচপূর্ব সম্মেলনে ভুলে বসে ছিলেন স্মিথ। নাম মনে করতে পারেননি। বলেছিলেন তরুণ খেলোয়াড়। তবে এবার বাংলাদেশে পরীক্ষাটা কঠিন। মুশফিকও গত এক বছরে অসাধারণ ফর্মে। আর প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ও দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গবেষণটা তো করেই এসেছেন স্মিথরা। তাই মুশফিকের করা প্রশংসার প্রসঙ্গ এলে স্মিথের কণ্ঠ থেকেও এলো প্রতিদাতেন প্রশংসাই, ‘প্রশংসার জন্য মুশফিককে ধন্যবাদ। আমার জন্য এটা দারুণ ব্যাপার। অধিনায়ক হিসেবে আমি কখনো মুশফিকের বিপক্ষে খেলিনি। তবে আমার মনে হয় গত কয়েক বছরে সে তার খেলায় অনেক উন্নতি করেছে । সে বাংলাদেশের জন্য দুর্দান্ত রান করছে। কোনো সন্দেহ নেই মুশফিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো করার জন্য মুখিয়ে আছে।’
দুজনেই অধিনায়ক। এছাড়াও একটা জায়গায় দারুণ মিল স্মিথ-মুশফিকের। দুজনেই টেস্ট খেলেছেন ৫৪টি করে। রোববারের টেস্টে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দলের সবাই একে অপরের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবেন। মুশফিক ও স্মিথ নামবেন নিজেদের ৫৫তম টেস্টটি খেলতে।
রান সংগ্রহের দিকে মুশফিকের চেয়ে স্মিথ অবশ্য অনেক এগিয়ে। ৩০ বছরের মুশফিকের রান ৩২৬৫। ৫টি সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটির সংখ্যা ১৭টি। অন্যদিকে সমান টেস্টে স্মিথের রান ৫২৫১। ২০টি সেঞ্চুরির সঙ্গে স্মিথের রয়েছে সমান সংখ্যাক ফিফটি। তবে এই জায়গাটায় তুলনায় অবশ্য কিছু বৈষম্যেরও কথাও তুলে আনতে হবে। স্মিথের পাঁচ বছর আগে টেস্ট অভিষেক হলেও মুশফিককে কিনা খেলতে হলো এই অস্ট্রেলিয়ানের সমান সংখ্যাক টেস্ট। সেটি কেবলই টেস্টে অপেক্ষাকৃত ছোট দল বলে।
তুলনাটা তাই অন্যভাবেই করা হোক না। দুজনেই দুদলের সেরা ব্যাটস্যান। আর এবছর দুজনেই রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। সর্বশেষ ভারত সফরে স্মিথ সেঞ্চুরি করেছেন চার টেস্টের তিনটিতেই। ২০১৬ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষেও হেসেছে স্মিথের ব্যাট। অন্যদিকে এবছর খেলা চার টেস্টের প্রতিটিতেই ফিফটি বা তার অধিক রান করেছেন মুশফিক। নির্দিষ্ট করে বললে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি। এই সিরিজে তাই দুজনের ব্যাটের দিকে আলাদা নজর থাকবেই। তার আগে নিউজিল্যান্ডে তো ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিও আছে। শেষটা শ্রীলঙ্কায়।
তবে সিরিজ শুরুর আগে মুশফিক যতই স্মিথের প্রশংসা করুন না কেন, মাঠে চুল পরিমাণ ছাড় না দেওয়ার ঘোষণাটাও দিয়ে দিয়েছেন। জানিয়েছেন বিশেষ পরিকল্পনার কথা, ‘আমরা চাইবো ব্যাটিংয়ে ও যেন খুব একটা প্রভাব ফেলতে না পারে। আর অধিনায়ক হিসেবে ও যে কৌশলই নিক না কেন আমরা ব্যাটসম্যানরা যেন মানিয়ে নিতে আর চ্যালেঞ্জে জিততে পারি সেটাই লক্ষ্য থাকবে। আমাদের পরিকল্পনা আছে। শুধু স্মিথ না, আমাদের বোলারদের যথেষ্ট সামর্থ্য আছে ওদের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানের দ্রুত ফেরানোর। শুধু দল হিসেবে আমাদের খেলতে হবে। যদি একটা টেস্ট ম্যাচ জিততে চাই ১৫ সেশনের ৮/৯টা জিততে হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ