আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস : নয়া ভিসি’র শুভযাত্রা

আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

গোলাম সারওয়ার


আজ ৬ জুলাই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। আষাঢ়ের বৃষ্টিভেজা এই শুভ দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে শুভেচ্ছা। আজ গভীরভাবে স্মরণ করি সেই সব মহান ব্যক্তিত্বদের, যাঁরা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ অবদান রেখেছেন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী শহরের বহুসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী রাজশাহী কলেজ মাঠে আন্দোলন সভায় মিলিত হয়ে ইস্পাত কন্ঠে দাবি তোলেন ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ’ পাশ করার এবং দ্রুত এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য পূর্ব বাংলার সাংসদদের প্রতি আহবান জানান। এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর ঐতিহাসিক ভুবনমোহন পার্কে বিশ্ববিদ্যালয় দাবি নিয়ে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুল হামিদ এমএল এ। বক্তব্য রাখেন ইদ্রিস আহম্মেদ এমএলএ, আমীর আলী এমএলএ, বাবু প্রভাষ চন্দ্র লাহিড়ী, তমুদ্দুন মজলিশের খোরশেদ আলম, ছাত্রনেতা আনসার আলী, আব্দুল জব্বার প্রমুখ। দাবির যথার্থতা উপলব্ধি করে স্থানীয় আইন পরিষদ সদস্য বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা জননেতা মাদার বখশ্ একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং এক পর্যায়ে আইন পরিষদে তা বিল আকারে আনতে সফল হন। ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ পাশ করতে বাধ্য হয়। একই বছরের ৬ জুন গভর্নর উক্ত বিলে সম্মতি প্রদান করেন। ১৬ জুন ঢাকা গেজেটে এক্সট্রা অর্ডিনারিতে প্রাদেশিক গর্ভনরের সম্মতি প্রথম প্রকাশিত হয়। একই বছরের ৬ জুলাই প্রথম উপাচার্য হয়ে আসেন বিশ্ব পরিসরে স্বীকৃত এশিয়া মহাদেশের প্রথম পাঁচজন শিক্ষাবিদের মধ্যে অন্যতম ড. ইৎরাত হোসেন জুবেরী এবং ওই দিন থেকেই শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা। ড. ইৎরাত হোসেন জুবেরী ও রাজশাহীর প্রখ্যাত আইনজীবী আইন পরিষদ সদস্য মাদার বখশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয় পরিকল্পনার খসড়া রচনা করেন। এই দুইজন মহান ব্যক্তিত্বকে যুগ্ম সম্পাদক করে মোট ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়।
এর পর থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয় যাত্রা করেছে কখনো শ্লথগতিতে, কখনো দুর্বার বেগে। তবে সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়টি অগ্রযাত্রার ধারায় বহমান। কিন্তু আশির দশকে সন্ত্রাস, ছাত্র সংঘর্ষ প্রভৃতি নাশকতামূলক কাজ এ অগ্রযাত্রাকে অনেকটা স্থবির করে দেয়। এ সব ত্রুটি-বিচ্যুতি বাদ দিলে দেখা যাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের আছে সুমহান ঐতিহ্য। বিভিন্ন আন্দোন সংগ্রামে রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। ১৯৬১ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্সের কালাকানুনের বিরুদ্ধে, ১৯৬২ সালের আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে, হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের গণবিরোধী রিপোর্টের বিরুদ্ধে, ১৯৬৪ সালের চ্যান্সেলর কুখ্যাত মোনায়েম খানের হাত থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ না করার জন্য সমাবর্তন ভন্ডুল করাসহ উনসত্তরের অভ্যুত্থান শুরুর পূর্বে সারা দেশের মত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়েও স্বায়ত্ত্বশাসন ও স্বাধিকারের ন্যায্যহিস্যায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে এবং উনসত্তরের গণআন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারীদের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চির অব্যয়, অক্ষয় হয়ে বিরাজ করবে। অন্যদিকে বিগত দুইযুগ ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছে দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, রসায়নবিদ, বিজ্ঞানী শিল্পী, সাংবাদিক, সমাজবিজ্ঞানী, আমলা প্রভৃতি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে আজ সমাজের এবং রাষ্ট্রের নেতৃত্বে আছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয় আজ ৬৪ বছরে পদার্পণ করলো। এই পদার্পণের প্রাক্কালে যাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে সেই উপাচার্য পদে প্রফেসর এম. আব্দুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন গত ৭ মে। ২৩তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর পরই তিনি দু’টি অসাধারণ কাজ করে চমক সৃষ্টি করেছেন। দীর্ঘদিনের কর্মকর্তাদের প্রাণের দাবি বেতন বৈষম্যের বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছেন। সুদীর্ঘকাল ধরে চলে আসা অফিস সময়সূচির আমূল পরিবর্তন করেছেন। সরকারি অন্যান্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের কর্মকর্তারা বরাবর এক গ্রেড নিম্ন স্কেলে বেতন পেতেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বের কোনো কর্তৃপক্ষই বিষয়টি আমলে নেয়নি। কিন্তু এবার প্রফেসর এম. আব্দুস সোবহান দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ৪০ দিনের মাথায় প্রথম সিন্ডিকেটেই তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা ও যৌক্তিকতা দিয়ে বাধা অতিক্রম করে এক গ্রেড উপরের স্কেল প্রদানের বিষয়টি পাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের এই বৈষম্য দূর করে দলমত নির্বিশেষে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকুন্ঠ সমর্থন লাভ করেছেন। দ্বিতীয়তঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অফিস সময় চলে আসছে সকাল ৮-০০টা থেকে দুপুর ২-০০টা পর্যন্ত । ইতোপূর্বে ৮০ এবং ৯০ দশকের দিকে এই অফিস সময় দুই দুইবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত করা হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অসহযোগিতার কারণে তা বেশিদিন টিকেনি। পুনরায় আগের নিয়মে করা হয়। কিন্তু এবারের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। কর্মকর্তাদের মন জয় করেই তিনি অফিস সময় সূচি সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত করে দিয়েছেন। ১৬ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। এটা করে তিনি ছাত্র-অভিভাবকসহ প্রত্যেক কর্নার থেকে অভুতপূর্ব সাড়া পেয়েছেন এবং প্রশংসিত হয়েছেন। একজন সফল প্রশাসক কখন, কীভাবে কাজ আদায় করে নিতে হয়, তাঁরা সেটা ভাল জানেন।
বিশ্ববিদ্যালয় একটি ২৪ ঘণ্টার প্রতিষ্ঠান। এখানকার শিক্ষক মানে শুধু ক্লাস নিয়ে চলে যাবেন ব্যাপারটি মোটেও তা নয়। তাঁর ক্লাসের প্রস্তুতি, গবেষণা, ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে যুক্ত হবার জন্য সময়ের প্রয়োজন। একটি সত্যিকারের গবেষণা প্রতিষ্ঠান কখনও একবেলার প্রতিষ্ঠান হতে পারে না। এর কার্যক্রম কেবল কিছু ক্লাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে প্রত্যেকটি বিভাগে বিস্তর জ্ঞান চর্চা ও অর্জনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে মনুষ্যত্বের বিকাশের জন্য শুধু প্রযুুক্তির কিছু বিষয় নয়; বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন, চারুকলা, নাট্যকলা সমস্ত ক্ষেত্রেই সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি প্রয়োজন। জ্ঞানতো শুধু বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য নানা ঈড়- পঁৎৎরপঁষধস ধপঃরারঃরবং এরও আয়োজন থাকতে হয়। ছাত্র-শিক্ষকের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ারও খুব প্রয়োজন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় কেমন যেন একটা নিরামিষ, নি®প্রাণ প্রতিষ্ঠান হয়ে যাচ্ছে। তেমন কোনো গবেষণা নেই, সাংস্কৃতিক কোনো আলোড়ন নেই, নৈতিক অবস্থানের কোনো বহিঃপ্রকাশ নেই, চিন্তার ক্ষেত্রে নতুন কোনো সংযোজন নেই। ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান পড়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ৯-৫ টা অফিস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকটা সহায়ক হবে।
প্রফেসর আব্দুস সোবহান উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন ৭ মে । তিনি এসেই অতিদ্রুত দু’টি জটিল এবং বড় ধরনের কাজ করলেন এবং প্রশংসিত হলেন। এতে অনেকেই জুলিয়াস সিজারের সেই ইতিহাস খ্যাত ৩টি অসাধারণ শব্দ ভিনি ভিডি ভিসি (এলাম, দেখলাম, জয় করলাম) উচ্চারণ করেন। সিজার মাত্র ৪ ঘণ্টায় পন্টাস রাজ্য জয় করে এই আনন্দের খবরটি রোমে তার সিনেটকে জানিয়েছিল এই সংক্ষিপ্ত ৩টি শব্দ ভিনি ভিডি ভিসি দ্বারা। এখনও এই ৩টি ঐতিহাসিক শব্দ বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে ব্যবহৃত হয়। প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে সারাবিশ্বে নানা অভীধায়, নানা রূপে, নানা বিশ্লেষণে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে এই তিনটি বাক্য ভিনি ভিডি ভিসি।

প্রথম মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে প্রফেসর আব্দুস সোবহান যোগদান করেন ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। এই সালের ৬ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয় দিবসের স্মারকপত্রে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবেসে আমার প্রত্যাশা’ শিরোনামে তাঁর এক লেখায় তিনি বলেন, শিক্ষা সরঞ্জামের বিপুলতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যা, দালান কোঠার আকার আর সংখ্যা, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ইত্যাদির মাপকাটিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিরূপণ অযৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্থকতা যাচাই করতে হলে মূল বিবেচ্য বিষয় হবে প্রতিষ্ঠানটির পাঠ্যসূচি আর শিক্ষাদানের মান। একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সার্থক বলা যাবে যদি এর পঠন-পাঠন কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আরো জ্ঞানান্বেষণে আগ্রহী করে, যদি তা আরব্ধ জ্ঞানকে স্বদেশ আর বিশ্বমানবের কল্যাণে প্রয়োগ করতে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে। যদি সেই শিক্ষা বিশ্বমানবের জ্ঞানভা-ারকে আরো সমৃদ্ধ করে, আর যদি তা শিক্ষার্থীদের চিত্ত আর মননকে প্রসারিত করে। উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়ে সেই লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার ব্রত। প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা আমার পাশে আছেন তাঁদেরও একই ব্রত।
২০০৯-২০১৩ পর্যন্ত গত ৪ বছরে উপাচার্য থাকাকালীন তাঁর এই ‘প্রত্যাশা’ এবং ‘ব্রত’ কতটুকু কার্যকর হয়েছে- তা রাজশাহীবাসী বিশ্লেষণ করবেন। তবে তাঁর ব্রত যদি একনিষ্ঠ হয় তবে পূর্বের মেয়াদের অভিজ্ঞতাই তাঁর প্রত্যাশা পূরণে এবার সহায়ক হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তাঁর প্রত্যাশা পূরণে মূল ভূমিকাই হলো শিক্ষকগণের। জানি, উপাচার্য মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে যে প্রত্যাশা করেছেন তা বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন কাজ। কারণ সেটা করতে হলে শিক্ষকগণের জবাবদিহিতার প্রশ্ন এসে যাবে। এই জবাবদিহিতার বাহ্যিক একটি সিস্টেম করতে গিয়ে গত প্রশাসন শিক্ষকগণের বাধার মুখে তা কার্যকর করতে পারেননি। যার ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। তাই উপাচার্য মহোদয়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে সর্বাগ্রে শিক্ষকগণকে দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং বিবেককে জাগ্রত করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন এমেরিটাস প্রফেসর জানালেন, উপাচার্য মহোদয় যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাশা করেন তা বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষকদের কারণে অকারণে প্রশাসনিক কিংবা দাপ্তরিক কাজে খুব বেশি মাথা ঘামানো যাবে না- প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়লেই গবেষণা আর ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান তাঁদের কাছে হয়ে ওঠে গৌণ, আর তখনই শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয় সুনিশ্চিতভাবে। তিনি বলেন, সরকার কিংবা অন্য কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, আমরা নিজেরাই এসব সমস্যার ব্যাপারে কথা বলি না। নির্বিকার হয়ে আছি। শিক্ষক সমিতি কিংবা ফেডারেশনগুলোকেও সঠিক পন্থায় সোচ্চার হতে দেখা যায় না। প্রথমে আমাদের নিজেদের অন্তকরণের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। চিহ্নিত করতে হবে আমাদের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ধারাবাহিক ক্রমবিন্যাসকে। যে কোনো জাতি একজন শিক্ষকের মূল্য তখনই অনুধাবন করতে পারবে, যখন একজন উন্নয়নশীল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে বর্তমান সময়ে সামাজিক প্রেক্ষাপটে কী গবেষণায়, কী সামাজিক উন্নয়নে কতটুকু ভূমিকা আমরা পালন করতে পেরেছি স্ব স্ব অবস্থান থেকে তার মাপকাঠির উপর। অথচ দূঃখজনক হলেও সত্য যে, অনেক সুযোগ থাকা সত্বেও শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থের কাছে তার কিছু হয়নি অদ্যবধি। পক্ষান্তরে সকল ক্ষেত্রে আমরা দ্বিধান্বিত হয়েছি, বিভাজিত হয়েছি।
একজন উপাচার্যের সঠিক নেতৃত্বে তার প্রশাসনের পরিচালনার উপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা, ব্যর্থতা। আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ দিনে নয়া উপাচার্যের প্রত্যাশার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই তাঁর নিষ্কলুষ এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হোক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার এবং শিক্ষা ও গবেষণার প্রাণকেন্দ্র । প্রত্যাশা করি অন্ততঃ এশিয়া মহাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটা সম্মানজনক র‌্যাংকিঙে অবস্থান করুক আমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়। উপাচার্য মহোদয় শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারি বান্ধব হয়ে সার্বজনিন একজন উপাচার্য হয়ে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করুক।
লেখক : রাবি কর্মকর্তা, প্রাবন্ধিক ও কলামলেখক।