বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

আজ শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস শহিদদের প্রতি সকৃতজ্ঞ শ্রদ্ধাঞ্জলি

আপডেট: December 14, 2019, 1:03 am

১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক দিন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাঙালির বিজয় নিশ্চিত জেনে প্রথিতযশা ও খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবীদের নির্বিচারে হত্যা করে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টা চালায় এ দেশিয় দোসরদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
আল-বদর প্রধান মতিউর রহমান নিযামীর নেতৃত্বাধীন বাহিনীর জঙ্গি সদস্যরা বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। যাদের হত্যা করা হয়েছিল আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে তাদের কোনো রাজনীতি ছিল না, নির্বিরোধী, শান্ত। কিন্তু তাদের কী ছিল তা আমাদের চোখে পড়ে নি, ঘাতকদের চোখে তা ঠিকই পড়েছে। মানবিকতা যা মানুষের মূল ধর্ম। আর মানবিকতা সন্ত্রাস-সহিংস বিরোধী। সন্ত্রাস যাদের মূল ভিত্তি তারা মানবিকতার বিরুদ্ধে আঘাত হানবেই, হেনেছেও, এখনো হানছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালিদের মানবিকতার লড়াই। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাই ছিল এর মূল দর্শন। আর বুদ্ধিজীবীরা সবসময় সেই মানবিকতারই দিসারী, জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নের নির্দেশক- অনুসারি- সর্বোপরি জাতির বিবেক।
পাকিস্তান বাহিনীর এ দেশিয় দোসররা যারা সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, বাঙালি নিধনযজ্ঞে, লুটপাট, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগে সমান অংশীদার, বিজয়ের ঠিক পূর্বমুহূর্তে তারা সদ্যজাত বাংলাদেশকে করতে চেয়েছিল মেধাশুন্য। পরিকল্পনা করে, তালিকা করে, বেছে বেছে নির্মমভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। আল-বদর, আল-শামস আর রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা ক্ষুধার্ত হায়েনার মত বাংলাদেশের মানুষের ঘরে ঘরে হাজির হয়েছে মেধা আর মননের গন্ধ শুঁকে শুঁকে ধরে নিয়ে গেছে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। আর ফিরে আসে নি তারা। তাদের প্রাণহীন দেহ পাওয়া গেছে রাজধানীর মিরপুরের বধ্যভূমিতে।
বুদ্ধি আর মেধা যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য, যাঁরা বাংলাদেশের উন্নত ভবিষ্যত রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো-তাঁদেরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যই হলো বাংলাদেশ যেন উঠে দাঁড়াতে না পারে। বাঙালিদের বিজয় যখন কোনোভাবেই আটকানো গেলো না তখনই জঙ্গি আল-বদর, রাজাকার দল অত্যন্ত পরিকল্পিত উপায়ে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে আজ ১৪ ডিসেম্বর (শনিবার) দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এটি সরকারির সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সরকারির এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে মান্য হবে সেটাই কাম্য। শিক্ষার্থীদের জানার অধিকার আছে, তাদের জানতে হবেÑ শহিদ বুদ্ধিজীবীদের কেন হত্যা করা হয়েছিল, এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিতে জাতিকে কী গভীর ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে- যা পূরণ হওয়ার নয়।
বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিভিন্ন দেশে পলাতক খুনিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় আছে জাতি।
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের জানাই সকৃতজ্ঞ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ