আট অর্থবছরে আদায় ৪ হাজার কোটি টাকা || মূসক আদায় বাড়ছে রাজশাহীতে

আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০১৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহীতে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আদায় বাড়ছে। গত আট অর্থবছরে রাজশাহী অঞ্চলে এ খাতে রাজস্ব আদায় ৪ হাজার ১৭৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে আদায় হয়েছে ১৯৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। রেকর্ড প্রবৃদ্ধি ২৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বাকি ৩ হাজার ৯৭৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আদায় হয়েছে ২০০৮-২০০৯ থেকে শুরু করে গত আট অর্থ বছরে। রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ছোটবড় ব্যবসায়ীরা এ কর প্রদান করেন।
রাজশাহী কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের দফতরের পরিসংখ্যান শাখা জানায়, গত ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে রাজশাহী অঞ্চলে মুসক আদায় হয়েছে ২৭০ কোটি ৮৫ লাখ। সে অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিলো ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ।  এর পরের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয় ১৮ দশমিক ৩৬। ওই বছর মুসক আদায় হয় ৩২০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
এরপর ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে ৩৮০ কোটি ৩৭ লাখ, ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে ৪১০ কোটি ৮৮ লাখ, ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ৪৭৪ কোটি ৩০ লাখ,  ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে ৫৮৬ কোটি ১৯ লাখ, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ৬৮৯ কোটি ৪৭ লাখ, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ৮৪৫ কোটি ৭৩ টাকা আদায় হয়েছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে মূসক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৭৮ প্রবৃদ্ধিতে আদায় হয়েছে ১৯৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
সূত্র জানায়, সারাদেশের ছোট ব্যবসায়ীরা বর্তমানে বছরে নির্ধারিত পরিমাণ মুসক পরিশোধ করেন। প্যাকেজ মুসকের আওতায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে ২০ হাজার টাকা। এছাড়া জেলা শহরের ব্যবসায়ীদের ১৪ হাজার টাকা এবং তৃণমূল পর্যায়ের ব্যাবসায়ীদের ৭ হাজার টাকা দিতে হবে। বিশেষত ভ্যাট নিবন্ধন রয়েছে এমন ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্যাকেজ পদ্ধতিতে ভ্যাট দেয়ার কথা। আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন মুসক আইন কার্যকর হবার কথা। এছাড়া তুলনামূলক বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়ের সঠিক হিসাব রাখতে ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) মেশিনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ফেডারেল চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাসেন আলী বলেন, প্যাকেজে সন্তুুষ্ট ব্যবসায়ীরা। প্যাকেজ ভ্যাট দ্বিগুণের প্রস্তাব কার্যকর হলে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাবে। এতে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামও বাড়বে। এটি ন্যূনতম বাড়লে ব্যবসায়ীরা মুসক পরিশোধে সহজেই এগিয়ে আসবেন। তাছাড়া রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের অনেকেরই পক্ষে ইসিআর রাখা এবং এটি ব্যবহার করা কঠিন। ফলে এনিয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে।
রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সাবেক এ সভাপতি বলেন, রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতি ব্যবসায়ীদর মুসক পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এখন অনেক বেশি সচেতন। ফলে আগের চেয়ে মুসক আদায় বেড়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের মুসক আদায়কারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অসাধুতার কারণে ব্যবসায়ীরাও ফাঁকি দেয়ার সুযোগ পান। তবে বড় ব্যবসায়ীরা মুসক ফাঁকি দেন না। জাতীয় উন্নয়নে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সব ব্যবসায়ীকে মুসক প্রদানে এগিয়ে আসান আহবান জানান রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির বর্তমান এ পরিচালক।
এ বিষয়ে রাজশাহীর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,  আগের থেকে ব্যবসায়ীরা এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা এ সংক্রান্ত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।  এছাড়া ব্যবসায়ীদের আয়ও বেড়েছে। সর্বপরি এনবিআরের কার্যক্রম ও নজরদারি বেড়েছে আগের চেয়ে। ফলে মুসক আদায়ও বেড়েছে। এসময় মাঠ পর্যায়ের মুসক আদায়কারী কোন কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অসাধুতার অভিযোগ পেলে আইনত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
ইসিআর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদায় বাড়াতে হলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের স্বপ্রণোদিত হয়ে  মুসক দেয়ার মানসিকতা তৈরি হতে হবে। নইলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইসিআর স্থাপন করা হলেও কার্যকর ফল আসবে না। কারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষনিক উপস্থিত থেকে নজরদারি তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। মূসক পরিশোধের সুবিধা দেশের জনগণই পেয়ে থাকে। এজন্য ব্যবসায়ীদের উচিত মুসক প্রদানে এগিয়ে আসা।