আত্ম হত্যার কারণ অনুসন্ধান ও সামাজিক দায় || আমাদের করণীয়

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

ড. নরেশ মধু


অমল বিশ্বাস। বয়স ৬৫। তিন ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে তিন জনের সবাই উচ্চ শিক্ষিত। বাবা মায়ের বাধ্য সন্তান সকলেই। বাবা লেখাপড়া তেমন জানেন না। তাই বলে মেয়ে বা ছেলেরা তাকে কখনই অসম্মান করেনি। পারিবারিক শান্তি অটুট। গত ২৯ মার্চ আত্মহ্যত্যা করলেন। পুলিশ কর্মকর্তা হাসান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পাবনার জেলার চাটমোহর উপজেলার তিন সন্তানের জননী কোহিনুর খাতুন ইদুর মারা গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পাবনা জেলায় মাত্র গত তিন মাসে ১৮ টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ  প্রতিমাসে পাবনা জেলায় তিনটি করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এভাবে নিত্যদিন শত শত মানুষ আত্মহত্যা করছে। পাবনা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. রিয়াজুল উদ্দিন গত ৮ এপ্রিল শনিবার পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর মিলনায়তনে এক গোল টেবিল বৈঠকে জানিয়েছেন পাবনা জেলায় আত্মহননের চেষ্টা প্রতিদিন ১ জন। এই সব আত্মহত্যার কারণ এবং আমাদের সামাজিক দায় অনুসন্ধানে পাবনা নিউজ ডটকম আত্মহনন প্রতিরোধ আমাদের করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছিল। পাবনা এডওর্য়াড করেজের অধ্যক্ষ ড. হুমায়ুন কবির মজুমদার, ডা. রামদুলাল ভৌমিক, ডা. নোমান, সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমান, সাংবাদিক মাহবুব আলম, এমজি বিপ্লব চৌধুরী, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রী, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, ইসলামী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী বিশেষ করে যারা আত্মহত্যা করেছেন তাদের ঘনিষ্ট বান্ধবীরা গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত থেকে আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানে এবং সাক্ষ্য দিয়েছেন। আলোচনাপত্র লিখেছেন স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন, পাবনা চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সহ-সভাপতি সাহবুবুল আলম মুকুর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি উৎপল মির্জা।
আলোচনা পত্রটি যথেষ্ট সমৃদ্ধ না হলেও প্রতিবাদ্য বিষয়টি নিঃসন্দেহে  আলোচনার দাবি রাখে এবং সময়োপযোগী। তবে লেখককে ধন্যবাদ দিতেই হয় লেখাটি লিখে আলোচনার সূত্রপাত করার জন্য। আলোচনায় মূলত আত্মহত্যার কারণসমূহ এবং প্রতিরোধে আমাদের করণীয় বিষয়ে বেশ কিছু সুপারিশ রাখা হয়। আয়োজনের সামাজিক দায়বদ্ধতায় রয়েছেন প্রজন্ম ফোরাম, পাঠশালা, দৈনিক সিনসা, বিবিএন, দৈনিক বিবৃতি, পিপি নিউজ এজেন্সি। তাদের এই সামাজিক দায়বদ্ধতায় শুধু পাবনা নয় এটি আরো সকলের দায়িত্ব বেড়ে যাবে এই বিশ্বাস রাখছি।
আলোচকরা বলেন আত্মহত্যার জন্য যে সব কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলোকে দুটো মোটাদাগে ভাগ করা যায়, ১. ঊীঃবৎহধষ ধহফ ২. ওহঃবৎহধষ ভধপঃড়ৎং । বাইরের কারণ সমূহের মধ্যে রয়েছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক  কারণ ও অভ্যন্তরীণ কারণ সমুহের মধ্যে রয়েছে পারিবারিক বোঝাপড়া। সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ সমূহের মধ্যে রয়েছে, দরিদ্রতা, বেকারত্ব, পরীক্ষায় ভাল ফল না করা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, যৌতুক, সামাজিক কুসংস্কার, ধর্মীয় কুসংস্কার সহ নানা কারণসমূহ। অপরদিকে পারিবারিক কারণ সমূহের মধ্যে পারিবারিক কলহ, পরকীয়া, বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদসহ নানা অনুসঙ্গ সমূহ।
তবে সাম্প্রতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিশ্ববাস্তবতায় আত্মহত্যার পেছনে আরো অনেক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনুষঙ্গ যুক্ত হয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম বাদ দিলে, সামাজিক অবক্ষয়, প্রেমঘটিত প্রতারণা, হতাশা, অভিমান ও অপ্রাপ্তির বঞ্চনার কারণে কম বয়েসি ছেলে-মেয়েদের অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। বয়স ভেদে, দেশে দেশে এবং অর্থনৈতিকভাবে শ্রেণিবিভক্ত সমাজে আত্মহত্যার কারণ ও প্রেক্ষাপটে ভিন্নতা দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রধানতঃ নারী ও কমবয়সি ছেলে-মেয়েরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিবছর ভারতের হাজার হাজার কৃষক ফসলহানি এবং এনজিও ও মহাজনি ক্ষুদ্রঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। একদিকে অর্থনৈতিক বৈষম্য, প্রান্তিক মানুষের সামাজিক ও আইনগত ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। অন্যদিকে আমাদের দেশে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নীতি-নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অনুপস্থিতি, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং পারস্পরিক আস্থা কমে যাওয়া এবং একাকিত্বের বোধ থেকে সৃষ্ট হতাশা ও বিষণœতা তাদেরকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করছে।
দেশের অর্থনৈতিক চালচিত্র পাল্টে যাচ্ছে। পরিসংখ্যানের হিসাবে মানুষের মাথাপিছু আয় এবং ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। তথাপি আত্মহত্যার প্রবণতা শুধু বাড়ছেই না। ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং সমাজবিজ্ঞানীরা। অর্থনৈতিক বৈষম্যের মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনযাত্রায় বাহ্যিক জৌঁলুস ও চাকচিক্যের আধিক্য ঘটলেও আমাদের সমাজ ব্যবস্থা যে ভেতর থেকে ধসে যাচ্ছে, ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যা প্রবণতার মধ্য দিয়ে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। কেউ কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এদেরও অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। অনৈতিকতা, লোভ- হতাশা ও ইভটিজিং বেড়ে যাওয়ার কারণও অবক্ষয় এবং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের ধস।
পরিসখ্যান বলে এই একবিংশ শতাব্দীতে ইতোমধ্যেই পাঁচ মিলিয়ন অর্থাৎ ৫০ লাখ লোক আত্মহত্যা করেছে। প্রতি বছরই গড়ে ১০ লাখের মতো লোক বিশ্বব্যাপি আত্মহত্যা করছে। যুদ্ধ, সন্ত্রাসী কর্মকা-ে মৃত্যুর চেয়ে বেশি লোক মারা যায় আত্মহত্যা করে। পৃথিবীতে আত্মহত্যার গড় লাখে ১৪.৫ জন হলেও বাংলাদেশে এ হার লাখে ৮-১০ জন। এসব বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট। একজন মানুষ যিনি অফিস-আদালত করছেন, ঘর-সংসার করছেন, বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন, বাজারঘাটে যাচ্ছেন হঠাৎ করেই আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটালে স্বাভাবিকভাবেই পরিবারসহ পরিচিত মহলে বিষয়টা আলোচিত হয় এবং পরিবারে এক ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে।
স্ট্রোকের রোগি দীর্ঘ দিন বিছানায় শুয়ে থেকে এক সময় আট-দশ বছর পর মৃত্যুবরণ করলে আত্মীয়দের মেনে নেয়া যেমন সহজ আত্মহত্যার মৃত্যুকে মেনে নেয়া কঠিন। তাই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আত্মহত্যা সম্পর্কে আমরা খুব জানি না। আর এ ব্যাপারেও সচেতনতার অভাব রয়েছে যথেষ্ট। আমাদের দেশে নারীরা বিশেষ করে অশিক্ষিত গৃহিণীরা বেশি আত্মহত্যা করেন অথচ পাশ্চাত্য দেশে পুরুষেরা আত্মহত্যা করেন বেশি। ১১-২৫ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৭৪.৬১ শতাংশ। পারিবারিক কলহ বিবাদ, বৈবাহিক সমস্যা, শারীরিক ও মানসিক রোগ, প্রেমে বিফলতা, যৌতুকের চাপ, পরীক্ষায় অকৃতকার্যতা, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা, বেকারত্ব, অবৈধ যৌনকর্ম, অবৈধ সন্তান ধারণ, সঠিক শিক্ষা ও সামাজিক ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবই আমাদের দেশে চিহ্নিত আত্মহত্যার কারণ। মানসিক রোগি ও নেশাকারীরা মিলে ৯০ শতাংশ আত্মহত্যা করে। বাকি ১০ শতাংশ করে অন্যরা। যে কারণগুলো উল্লেখ করলাম ড্রাগ সেবনকারী ও মানসিক রোগিদের জন্য ওইসব সমস্যা সৃষ্টি করা কোনো ব্যাপারই নয় (সূত্র-নয়াদিগন্ত)।
মানসিক রোগিদের সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করে বিষণœ রোগিরা (৪.২ শতাংশ), যাদের পারসোনালিটি প্রবলেম আছে তারা করে ৭.৭ শতাংশ, সিজোফ্রেনিয়া ২.৮ শতাংশ । শারীরিক রোগিদের মধ্যে মৃগীরোগিরা (৩.৮ শতাংশ) বেশি আত্মহত্যা করে। তার পরই আছে গ্যাস্ট্রিক রোগিদের অবস্থান (২.৯ শতাংশ)। প্র¯্রাবে সমস্যা, যৌন সমস্যা, কোমরে ব্যথা ও মাথাব্যথার কারণেও আমাদের দেশে আত্মহত্যা করছে লোকজন। আমাদের দেশে ঝিনাইদহে আত্মহত্যার হার খুব বেশি। লাখে ২৯-৩৩ জন। এত বেশি কেন বিষয়টা অপরিষ্কার। সম্ভবত সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান অস্থিরতা, চোরকারবারিদের প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সন্ত্রাসী তৎপরতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, নিষিদ্ধ কিছু সন্ত্রাসী সংগঠনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতি নির্যাতন-আত্মহত্যার উঁচুহারের কারণ হবে।
আত্মহত্যা প্রবণতা প্রতিরোধে আমাদের করণীয় সমূহের মধ্যে প্রথমেই আমাদের পারিবারিক মূলবোধ ও সম্প্রীতি বজায় রাখা একান্ত অপরিহার্য। কেননা বিশ্বসংসারের তাবৎ কিছুর একক পরিবার। এবং পরিবারই সকল নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের কেন্দ্রস্থল। শিশুদেরও পারিবারিক শৃঙ্খলা, স্নেহ-মমতা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা হলে আত্মহত্যার প্রবণতা থাকতে পারে না। সামাজিক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অশ্লীলতা ও অনৈতিক সম্পর্ক বেড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী ভিনদেশি অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ রোধ করার মাধ্যমে আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব। দেশের তরুণ প্রজন্মকে, মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে রক্ষা করতে দেশের সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আত্মহত্যা যে কোন সমস্যার সমাধান নয়। এটা সংশ্লিষ্ট সকলকে বুঝতে হবে, বোঝাতে হবে। ফেসবুক বা ডিজিটাল ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রিত করার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করার অনুসঙ্গ খুঁজে নিতে হবে। সমাজের অপরাপর মতানৈক্য, সাম্প্রদায়িক বৈষম্য উগ্রবাদীকরণ ইত্যাদি যা মানুষের আত্মহত্মার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে তা দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- নিবিড়ভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। যে যে সামাজিক ও পারিবারিক কারণসমূহ আত্মহত্যায় অনুসঙ্গ হিসেবে কাজ করে তা প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
প্রায়শই দেখা যায়, স্কুল বা কলেজের শিক্ষার পরিবেশ মানসিক বিকাশের অনুঘটক নয়। সেখানে এর অনুকুলে বিভন্ন কর্মসূচি নেয়া দরকার। শিশুদেরও পারিবারিক শৃঙ্খলা, স্নেহ-মমতা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা হলে আত্মহত্যার প্রবণতা থাকতে পারে না। সামাজিক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অশ্লীলতা ও অনৈতিক সম্পর্ক বেড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী ভিনদেশি অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ রোধ করার মাধ্যমে আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব। অনৈতিকতা, লোভ- হতাশা ও ইভটিজিং বেড়ে যাওয়ার কারণও অবক্ষয় এবং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের ধস। দেশের তরুণ প্রজন্মকে, মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে রক্ষা করতে দেশের সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আত্মহত্যা যে কোন সমস্যার সমাধান নয়, এটা সংশ্লিষ্ট সকলকে বুঝতে হবে, বোঝাতে হবে।
এই উপমহাদেশ যেমন পলিল ও উর্বর তেমনি ধর্মীয় অনুভূতিও বেশ আবেগ প্রবণ। সহজেই আমরা পরস্পরকে কাছে ডাকি আবার সহজেই পরস্পরকে ভূলে যায়। আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও আবেগ বেশ তরল। ফলে আমার সহজেই ধর্মকে আঁকড়ে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করি। সেজন্য মসজিদের ইমাম কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় গুরুরা মানসিক প্রশান্তির জন্য বিভিন্ন উপদেশ দিতে পারেন যা ধর্মীয় মূল্যবোধ আত্মপ্রবঞ্চনা ও  আত্মহত্যা থেকে রক্ষা করে। প্রায় সব ধর্মে এবং আইনেই আত্মহত্যার চেষ্টা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম।
সর্বোপরি সামাজিক দায়বদ্ধতা যা কিনা বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধন। আজকে আমরা প্রায়শই ভুলে যাই আমাদের পারস্পারিক দায়বদ্ধতার কথা। আমাদের আরো দায়বদ্ধ হতে হবে সেটি ব্যক্তি থেকে সমাজের সকল স্তরের মানুষ যদি এগিয়ে না আসে তাহলে আত্মহত্যার প্রবণতা রোধ করা যাবে না।
লেখক: সাংবাদিক ও উন্নয়ন শ্রমিক