আত্রাইয়ে গম কাটা-মাড়াই শুরু

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

রাণীনগর প্রতিনিধি


নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের দিগন্ত জোড়া মাঠে এখন সোনালী রঙ্গেও পাকা গমের সম্ভার দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও গম কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। এ দিকে উৎপাদিত গমের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিয়ে উপজেলার গম চাষিদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম উৎকন্ঠা। বর্তমান বাজার দরে গম বিক্রয় করে প্রতি বিঘাই প্রায় দেড় হাজার টাকার লোকশান গুনতে হচ্ছে। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ার এক বুক আশা নিয়ে ইরি-বোরো ধান চাষের আগ্রহ কিছুটা কমিয়ে গম চাষের দিকে কৃষকরা বেশি মনোযোগী হতেই তারা হোচট খাচ্ছে।
গতবছর বন্যার কারণে এই উপজেলায় রোপা-আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও দ্রুত বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় মাঠে রবিশস্যের উপযোগী জমিতে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম গম চাষে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল চাষিরা। সরকার পর্যায় থেকে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ, গমের বীজ, রাসায়নিক সার বিনা মূল্যে যথা সময়ে বিতরণ করায় এই এলাকার অসহায় কৃষকদের পক্ষে আগাম জাতের গম চাষ করা সম্ভব হয়েছিল।
চলতি রবি মৌসুমে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দেওয়ায় এবং গম চাষের অনুকুল পরিবেশ থাকায় গমের ভালো ফলনের আশা করলেও কাটা মাড়াই করে বিঘা প্রতি ৮-৯মণের বেশি ফলন না হওয়ায় এবং দর পতনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষিরা। ভরা মৌসুমে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাঠ পর্যায়ে কুষকদের কাজ থেকে সরাসরি সরকার ঘোষিত মূল্যে গম সংগ্রহের দাবি জানান কৃষকরা।
জানা গেছে, চলতি রবিশস্য মওসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৫শ ৪৫ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ বছর উপজেলায় প্রায় ৫শ ৮৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ করা হয়েছে। শুরুতেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং গমের ক্ষেতে পোকা মাকড়ের আনাগোনা না থাকায় ও মাঠ পর্যায়ে গম চাষিদেরকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথা সময়ে উপযুক্ত পরামর্শ নজরদারি ও প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগীতার কারণে গম ক্ষেত অনেকটা রোগ-বালাই মুক্ত হওয়ায় ভালো ফলন ও চরা মূল্যে বিক্রয়ের আশায় বুক বেধেছিল উপজেলার কৃষকরা। এরির্পোট লেখা পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে গম ক্রয় অভিযান শুরু না করায় দিন দিন কৃষকদের ক্ষতির পাল্লা আরো ভাড়ি হচ্ছে।
উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বর্গা চাষি আজাদ প্রাং জানান, আমার নিজস্ব জমি না থাকায় অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছি। প্রতি বিঘাতে ৮ মণের মত গম হলেও জমির মালিককে অর্ধেক দিয়ে প্রতি মণ গম ৮শত টাকার বেশি বিক্রয় না হওয়ায় আমার বড় অংকের লোকশান হয়েছে। সরকারি গুদামে গম ক্রয় করলে হয়তো কিছুটা লোকশান কম হতো।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. রেজাইল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে গম সংগ্রহ অভিযানের কোন নির্দেশনা এখনও পর্যন্ত আমরা পাইনি। তবে নির্দেশনা পেলেই সরকার ঘোষিত নির্ধারিত দরে প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে গম সংগ্রহ শুরু করা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন জানান, এবারে আত্রাই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বিগত বছরের তুলনায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমানে গম চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে পুরোদমে গম কাটামাড়া শুরু হয়েছে। কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ