আত্রাইয়ে বন্যার পর কাজ ও খাদ্যের অভাবে দিশেহারা মানুষ || ত্রাণ পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

আত্রাই প্রতিনিধি


ভয়াবহ বন্যার পরে কাজ আর খাদ্যের অভাবে নওগাঁর আত্রাইয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা ঘরবাড়ি এখনো তৈরি করতে পারে নি। গ্রামাঞ্চলে শত শত পরিবার এখনো খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে। সরকারি ত্রাণ নেই বললেই চলে। মানুষ দেখলেই ছুটে যাচ্ছে ত্রাণের আশায়।
নওগাঁর আত্রাইয়ে ভয়াবহ বন্যার আঘাতে হাজার হাজার ঘরবাড়ি, হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ধংস হয়ে গেছে। কোন সংকেত ছাড়াই এই বন্যা আঘাত করায় তছনছ হয়ে গেছে সমগ্র আত্রাই উপজেলার গ্রাম গুলো। বিশেষ করে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৭৫ ভাগ মাটির ঘর সম্পূর্ণভাবে ধংস হয়েছে। ৬০ ভাগ রোপা আমন নষ্ট হয়ে গেছে। ৪০ ভাগ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৌসুম ও বীজ তলা না থাকায় কৃষক পুনরায় রোপা-আমন করতে পারে নি। কয়েকগুন বেশি মূল্যে কিছু সংখ্যক কৃষক বীজ তলা সংগ্রহ করে রোপন করলেও আশা অনুযায়ী ফলন হবে না। এছাড়াও যে টুকু রোপা-আমন রক্ষা পেয়েছে তাও হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে। এই সামান্য রোপা-আমন রক্ষা করতে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কৃষি বিভাগের ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই বলে জানা গেছে।
আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের জামগ্রাম, হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের কালুপাড়া, কালিকাপুর ইউনিয়নের আটগ্রাম, বিশা ইউনিয়নের মাধকলা, খরসতি, পাঁচুপুর ইউনিয়নের মালিপুকুর, সাহেবগঞ্জ, বিপ্রো বোয়ালিয়া, সাহাগোল ইউনিয়নের তারাটিয়া, বড়ডাঙ্গা সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে। ভোঁপাড়া ইউনিয়নের জামগ্রাম গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মমতাজ প্রামানিক জানান, বন্যায় বাড়ি-ঘর সব বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে কোন মতে টিন আর প্লাষ্টিক দিয়ে ওয়াপদার বাঁধে ছাপড়া তৈরি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন ত্রাণ বা ঘর তৈরির টিন বা আর্থিক সহযোগীতা পাই নি। তবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নামের তালিকা করে নিয়ে গেছে, কবে দেবে এলাকাবাসী জানে না। নামের তালিকার ক্ষেত্রেও রয়েছে দলীয় করনের অভিযোগ। দলীয় সমর্থক বা কর্মীরাই তালিকাভূক্ত হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। আশি^ন-কার্তিক ২ মাস আত্রাই গ্রাম অঞ্চলে কোন কাজ থাকে না। সরকার কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে বেকার পরিবার গুলোর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। কিন্তু এবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু হয় নি। ফলে হাজার হাজার কর্মজীবী দিন মজুর কাজের অভাবে অনাহারে-অর্ধহারে দিনাতিপাত করছে।
এদিকে বাজারে প্রতিটি জিনিষের দাম কয়েক গুন বৃদ্ধি পাওয়ায় গরীব ও নি¤œবৃত্ত পরিবারগুলো চরম অভাবেরর সম্মূখীন হয়েছে। যদিও সামান্য কাজ আছে কিন্তু দিন মজুরদের মুল্য অনেক কমে গেছে। দিন হাজিরা ৩০০টাকার স্থলে ২০০ টাকা দিচ্ছে। অথচ বাজারে মোটা চালের মূল্য প্রতিকেজি ৫৫টাকা এবং মিনিকেট ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০০টাকা আয় করে এসে ২ কেজি চাল ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিষ ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। চাল ছাড়া প্রতিটি জিনিষের দাম দ্বীগুন- তিনগুন বৃদ্ধি পেযেছে। কাজ না থাকায় গ্রামঞ্চলে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামের কৃষক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আগামীতে কি হবে। যে পরিমান আমন ফসলের আশা করেছিল তার অর্ধেকও পাবে না। হতাশা আর নিরশা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে নওগাঁর আত্রাইয়ের হাজার- হাজার পরিবার। অন্যদিকে এসব অঞ্চলে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা জনগনকে কিছু দিতে না পারায় তারাও পালিয়ে বেড়াচ্ছে।