আত্রাইয়ে বিলুপ্ত হওয়ার পথে সোনালী আঁশের এই পাট চাষ

আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

আবদুর রউফ রিপন, রাণীনগর


আত্রাইয়ে বিলুপ্ত হওয়ার পথে সোনালী আঁশের এই পাট চাষ -সোনার দেশ

নওগাঁর আত্রাইয়ে বিলুপ্ত প্রায় এক সময়ের এদেশের প্রধান অর্থকারী ফসল সোঁনালী আঁশ হিসেবে খ্যাত পরিবেশবান্ধব পাটের চাষ। বর্তমানে এই পাট চাষে কৃষক দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে এবার পাটের ভরা মৌসুমেও পাট মিলে নি উপজেলার হাট বাজারগুলোতে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে পাটের মূল্য পতন, উৎপাদন খরচ বেশি ও পাট পঁচানো পানির অভাবেই কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ৬০ এর দশকে দেশের খ্যাতিমান পাটক্রয় কেন্দ্র ছিল আত্রাইয়ে। এক সময় উপজেলার চার্লি ব্রাদার্স নামে বিখ্যাত সেই পাটক্রয় কেন্দ্রে পাটক্রয় করে নৌপথে পাঠানো হতো দেশ বিদেশের বিভিন্ন জুটমিলে। সে সময় সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন শত শত টন পাট ক্রয় করা হতো চাষিদের কাছ থেকে। ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিয়ে কৃষকেরাও ঝুঁকে পড়তো পাট চাষে। আত্রাই থেকে এ পাটগুলো দেশের দক্ষিণঅঞ্চল জেলা খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন জুটমিলে নৌপথে ও রেলপথে নিয়ে যাওয়া হতো। আগে শুধু দেশেই নয় বরং আকাশ পথে আত্রাইয়ের পাট রপ্তানি করা হতো সেই ইংল্যান্ডে। সে সময় মালবাহী উড়জাহাজে আত্রাই পাটক্রয় কেন্দ্র থেকে সরাসরি এই পাট লন্ডনে রফতানি করা হতো বলে তথ্যঅনুসন্ধানে জানা গেছে। আজ আর আত্রাইয়ে আগের মতো পাট চাষ হয় না।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার এ উপজেলায় মাত্র ২১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। পাটের মূল্য কমসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে কৃষকেরা পাট চাষে এবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এদিকে পাটের চাষ কম হওয়ায় জ্বালানীকাজে ব্যবহার্য পাটখড়ির মূল্য আকাশচুম্বি হয়েছে। ফলে মধ্যম আয়ের পরিবারে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি।
উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের সামাদ মাস্টার বলেন, ৬০ এর দশকে উত্তরাঞ্চলের মধ্যে আত্রাই ছিল পাটের জন্য বিখ্যাত। সে সময় আমরা ব্যাপকহারে পাট চাষ করতাম। পাটের ন্যায্যমূল্যও পেতাম। বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেশি , মূল্য কম এ জন্য আমরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।
ভবানিপুর গ্রামের কৃষক আজাদ আলী প্রামানিক বলেন, গত দুই বছর থেকে পাট চাষ করে পাট পঁচানো পানির অভাবে আমাদের চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। এজন্য এবার আমরা পাট চাষ করি নি। ওই জমিগুলোতে এবার ধানসহ অন্যান্য আবাদ করে লাভবান হচ্ছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন জানান, বিগত বছরগুলোতে পাটের বাজার মন্দা থাকায় এই ফসলের প্রতি চাষিদের আগ্রহ কমে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবেশবান্ধব পাটের মোড়ক বহুবিদ ব্যবহার করায় বর্তমান পাটের উৎপাদন ও বাজার দর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তিনি আরো বলেন, এবার প্রান্তিক পর্যায়ে চাষিদের পাট চাষের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি খরিপ মৌসুমে চাষিদের রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে গঠনমূলক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।