আদালতকে উপেক্ষা করে চেয়ারম্যানের গ্রাম্য আদালতের রায় কার্যকর ।। সাতদিন অবরুদ্ধ এক পরিবার

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস



আদালতকে উপেক্ষা করে নাটোরের নলডাঙ্গার মাধনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান গ্রাম্য আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলার রায় কার্যকর করায় সাতদিন ধরে অবরুদ্ধ একটি পরিবার। এর ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছে পরিবারের লোকজন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে নলডাঙ্গা থানায় এজাহার দায়ের করেলেও পুলিশ এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি বলেও অভিযোগ।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব মাধনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদার ১৯৮৯ সালে ১৩ নভেম্বর আরএস ১৮৭৬ খতিয়ানের আরএস ১২৭৮ দাগে মালিক সাহেদা বিবি, আলেকজান নেছা, মলেজান নেছা, আদল প্রাং, গোলজান বেওয়া এজমালীতে স্বত্ববান থাকা আবস্থায় আলেকজান নেছার কাছ থেকে ৫ শতাংশ, সাহেদা বিবির কাছ থেকে ২ শতাংশ ও গোলজান বেওয়ার ওয়ারিশ সদা মৃধার কাছ থেকে দেড় শতাংশ জমিসহ মোট সাড়ে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে সেই জমিতে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু ওই জমির পূর্বের মালিক মৃত আদল প্রামানিকের ছেলে আজাহার আলী তার দাবি করে জমিটি জবরদখল করার হুমকি-ধামকি দেন। ক্রয় সূত্রে মালিক নুরুল ইসলাম গত ২০১৪ সালে নাটোর সহকারী জজ আদালতে আদল প্রামানিককে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। বাটোয়ারা মামলাটি বর্তমান আদালতে বিচারাধীন এবং আগামী ২৭ এপ্রিল মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
এদিকে বাটোয়ারা মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আদালতের মামলা আমলে না নিয়ে ওই বিষয় নিয়ে গত বছরের ২০ অক্টোবর আজাহার আলী ২ নম্বর মাধনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ানের কাছে বিচার চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। এ বিষয়ে বাটোয়ারা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে জেনেও মাধনগর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান তার পরিষদে গ্রাম্য আদালত বসিয়ে নুরুল ইসলামের পরিবারের অনুপস্থিতে আজাহার আলীর পক্ষে একতরফা রায় প্রদান করেন। রায় পেয়ে গত ৪ মার্চ শনিবার নরুল ইসলামের পরিবারের অনুপস্থিতিতে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান পরিষদের চৌকিদার নিয়ে আজাহার আলী নুরুল ইসলামের বাড়ির বারান্দা ঘেষে টিনের বেড়া দিয়ে জমিটি দখলে নেয়। এর ফলে নুরুল ইসলাম পরিবারের বাড়ির আঙিনা ও রান্নাঘর দখলে নেওয়ায় একরকম অবরুদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এলাকাবাসী সাজ্জাদ হোসেন জানান, নুরুল ইসলামের পরিবার গত শনিবার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এ সুযোগে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান ও তার লোকজন নিয়ে নুরুল ইসলামের বাড়ির আঙিনা ও বারান্দা ঘেষে বাঁশ ও টিন দিয়ে শক্ত বেড়া দিয়ে দখলে নিলেও নুরুল ইসলাম প্রতিবাদ করার সুযোগ পায় নি।
জোর করে জমি দখলের কথা অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ আজাহার আলী জানান, তিনি কোন জমি দখল করেন নি। তার জমিই তিনি বুঝে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী নুরুল ইসলামের আইনজীবী নাটোর জজ কোর্টের আইনজীবী মৃনাল কান্তি বিশ্বাস বলেন, নুরুল ইসলামের জমির বাটোয়ারা মামলা আদালতে বিচারাধীন। সে কারণে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতের রায় নিয়ে তা কার্যকর করা আদালত অবমাননার সামিল।
নুরুল ইসলামের পরিবারকে অবরুদ্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মাধনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান বলেন, নুরুল ইসলাম বার বার আদালতে হেরে গিয়ে আপীল করে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করছে। এ ব্যাপারে আজাহার আলী গ্রাম্য আদালতে অভিযোগ দিলে গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে তাদের সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) নেয়ামুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্বেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিভাবে গ্রাম্য আদালতে রায় দিলেন সে ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। এভাবে রায় দেয়া আদালতকে অবমাননা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এই ঘটনার পর নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় এজাহার দিয়েছেন। এজাহারটি তদন্ত শুরু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ