আদালতের আদেশ অমান্য করে কৃষকের জমি ও ফসল আ’লীগ নেতার দখলে!

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০১৭, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


ঢুলির ঢোল শহরত এবং লাল সালু টাঙিয়ে পুলিশ ও আদালতের লোকজন বাসুপাড়া ইউনিয়নে এক কৃষকের জমির দখল বুঝিয়ে দেয়ার পর আবারো তা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শরাফতুল্যাহ তার লোকজন নিয়ে তা দখল করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার দেউলা গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক অছিমদ্দিন স্থানীয় প্রেসক্লাবে এসে এ অভিযোগ করেন।
উপজেলার দেউলা গ্রামের কৃষক অছিমদ্দিন জানান, তার মায়ের সম্পত্তির অংশ হিসাবে তিনি কামনগর গ্রামে দুই একর জমি পান। তবে দুই বিঘা জমি শস্যসহ ওই গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ম-লীর সদস্য শরাফতুল্যাহসহ কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের দখলে রাখেন। তিনি দখলমুক্ত করার চেষ্টা করেও প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তা পারেন নি। পরে তিনি রাজশাহীর জেলা জজ আদালতে মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীর জজ আদালতের যুগ্ম হাকিম আশরাফুল ইসলাম গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আমার পক্ষে রায় ঘোষণা করেন। এরপর গত ৭ নভেম্বর থানার এক প্লাটুন পুলিশ ও আদালতের লোকজন এলাকায় এসে ঢোল পিটিয়ে ও বিবাদমান জমির চারপাশে লালসালু টাঙিয়ে জমিটি আমাকে বুঝিয়ে দেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তৎপরতা চালিয়ে জমিটি বুঝিয়ে দেয়া হয়। জমিটি বুঝে পাওয়ার পর সেখানে কিছু অংশে চাষাবাদ করি। তবে কিছুদিন পর আওয়ামী লীগের ওই নেতা লোকজন নিয়ে দখলের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি তিনি লালসালু অপসারণ করে শস্যসহ জমিগুলো আবারো দখলে নিয়েছেন। এই বিষয়ে থানায় অভিযোগও দেয়া হয়েছে।
সরেজমিনে এ এলাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের ওই নেতাসহ তার চার সহযোগী কর্তৃক জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দা শফির উদ্দিন, সিদ্দিুকুর রহমান, মকছেদ সরদার জানান, আদালত জমি অছিমদ্দিনকে বুঝিয়ে দিলেও পরে শস্যসহ দখল করে নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, শরাফতুল্যাহ যেভাবে শস্যসহ জমি দখল করেছেন তা ঠিক হয় নি। ওইসব নেতারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাগমারা থাানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসমত আলী বলেন, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক পুলিশ ও আদালতের লোকজন সহকারে জমিগুলোর দখল অছিমুদ্দিনকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে সেগুলো প্রতিপক্ষরা আবারো দখল করেছে বলে শুনেছি।
কৃষক অছিমদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, জমি দখলকারীরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তারা জমি দখল করা ছাড়াও বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।
এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের বাগমারা উপজেলা শাখার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শরাফতুল্যাহ জমি দখলের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, জমিগুলো আমার কেনা। তবে অছিমদ্দিন মামলা করে নিজের পক্ষে রায় নিয়েছেন। এই বিষয়ে আমি কিছুই জানেন না। আদালত থেকে কোনো কাগজপত্রও পায় নি। এজন্য জমিটি আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি।
তবে মামলার বাদী জানান, গত ২০১০ সালে তাদের আসামি করে আদালতে মামলা করেছিলেন। ওই পক্ষ সবই জানেন।