আদালতের নির্দেশে রাবির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক



আদালতের নির্দেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মু. এন্তাজুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ (গতকাল বুধবার) দুপুর ৩টায় নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু অনিবার্যকারণবশত তা স্থগিত করা হয়েছে।
বিচারপতি নাইমা হায়দার ও আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত মঙ্গলবার নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত ও একইসঙ্গে ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন বাতিল করা হবে না’ এই মর্মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ২০১৪ থেকে গত বছরের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত প্ল্যানিং কমিটির তিনটি সভা আহ্বান করা হলেও সদস্যরা উপস্থিত না থাকায় তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সভাপতির দেয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্ল্যানিং কমিটির চারজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৪৬৯তম সভায় একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত ৭ ডিসেম্বর সাতটি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে এ নিয়োগ পরীক্ষার সাক্ষাতকার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির চার শিক্ষক আদালতে রিট আবেদন দাখিল করেন। রিট আবেদনকারীরা হলেন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক শেখ ম. নূরউল্লাহ, অধ্যাপক জাফর সাদিক, অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম ও অধ্যাপক জাহাঙ্গীর কবির।
প্রধান রিট আবদনকারী শেখ ম. নূরউল্লাহ বলেন, শিক্ষক নিয়োগে মতামত দেয়ার এখতিয়ার একাডেমিক কমিটির নেই। বর্তমান উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়েছেন। আইন সমুন্নত রাখতে আমাদেরকে আদালতের দারস্থ হতে হয়েছে।
জানতে চাইলে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ পাওয়ায় আজকের সাক্ষাৎ প্রার্থীদের যে পরীক্ষা ছিল তা স্থগিত করেছি। যেহেতু প্ল্যানিং কমিটির সদস্যরা আদালতে গিয়েছেন কাজেই আইনের মাধ্যমেই বিষয়টির ফয়সালা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ