আদিবাসীদের আগুনে পোড়া বাড়িঘর পরিদর্শনে ইউএনও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

আপডেট: মার্চ ২০, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আদিবাসীদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগে ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে পারে নি পুলিশ। এদিকে গতকাল রোববার দুপুর ২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে নিদের্শ দিয়েছে।
এর আগে সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানওয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গেলে জমির যাবতীয় কাগজপত্র দেখান আদিবাসীরা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, কাকনহাট যুক্তিপাড়া সুন্দরপুর আদিবাসীর বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে দুবৃত্তরা উপজেলার কাঁকনহাট যুক্তিপাড়া সুন্দরপুর আদিবাসী পল্লির সাতটি বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটায়। বাধা দিতে আসলে ৭০ বছরের বৃদ্ধা মড়ল সরেনের উপর নির্যাতন চালায়। এসময় দুবৃত্তরা মারাথা মুরমু ও লিলাবাতী সরনকেও মারধর করে। এ ঘটনায় মড়ল সরেন বাদী হয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে আসামি করা হয় উপজেলা কাশিমপুর গ্রামে ইসমাইলের ছেলে মোজাম্মেল হকসহ চারজনকে। কিন্তু পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করতে পারে নি বলে মড়ল সরেন অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, এ ঘটনার পর থেকে জড়িতরা এলাকা ছেড়েছে। তবে তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে ইউএনও জাহিদ নেওয়াজ জানান, আদিবাসীদের ভেঙে ও আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর পূনর্নির্মাণ করে দিবে উপজেলা প্রশাসন। আর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইউএনওর পদক্ষেপে কিছুটা হলেও আদিবাসী পল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে আদিবাসী নেতা মড়ল সরেনসহ অন্যদেরকে হুমকি দিচ্ছে বলে আদিবাসীরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড় বলেন, সুন্দরপুর আদিবাসী পল্লিতে ৭৬ শতক জমি দখল করতেই আদিবাসীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালানো হয়েছে।